লাহোরের আল্লামা ইকবাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ
লাহোরের আল্লামা ইকবাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ

মোদির সেই হঠাৎ ভ্রমণে পাকিস্তানকে দিতে হয়েছিল ২ লাখ রুপি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ঘটনা বছর দুয়েক আগের, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে হঠাৎ লাহোরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের আমন্ত্রণেই সেখানে যান। জানা গেছে, মোদির সেই আচমকা পাকিস্তান ভ্রমণের জন্য ভারতকে মূল্য দিতে হয়েছে ১.৪৯ লাখ রুপি। আর পাকিস্তানের উপর দিয়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য ২.৮৬ লাখ রুপি বিল দিতে হয়েছে।

মোদি বিমানবাহিনীর যে এয়ারক্রাফটে গিয়েছিলেন, তার নেভিগেশন চার্জ হিসেবে এই অর্থ ধার্য করে ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এক আরটিআই থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গেছে এখনও পর্যন্ত ১১টি দেশে সফরের জন্য বিমানবাহিনীর এয়ারক্রাফট ব্যবহার করেছেন নরেন্দ্র মোদি। এর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইরান, ফিজি ও সিঙ্গাপুর।

নওয়াজ শরিফের অনুরোধেই ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাশিয়া ও আফগানিস্তান সফর শেষে দেশের ফেরার পথে পাকিস্তানে নেমে পড়েছিলেন মোদি। লাহোরের আল্লামা ইকবাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ।

বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে এয়ার ফোর্সের বোয়িং ৭৩৭ বিমান পাকিস্তানের মাটি ছুঁয়েছিল। এরপর হেলিকপ্টার নিয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে শরিফের বাড়িতে যান মোদি। সেদিন ছিল নওয়াজ শরিফের জন্মদিন। এয়ারফোর্সের এয়ারক্রাফট নিয়ে ইরান যাওয়ার জন্য পাকিস্তান নেভিগেশন চার্জ হিসেবে নেয় ৭৭,২১৫ রুপি, কাতার যাওয়ার জন্য দিতে হয় ৫৯,২১৫ রুপি। দুটি দেশেই পাকিস্তানের উপর দিয়ে যেতে হয়েছিল।

 

ভারতীয় ব্যাংকের ২০ লাখ ডলার চুরি করল হ্যাকাররা

ভারতের সিটি ইউনিয়ন ব্যাংক জানিয়েছে, সুইফট ব্যবস্থা ব্যবহার করে তিনটি অননুমোদিত লেনদেনের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার চুরি করা হয়েছে। রোববার ব্যাংকটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার তিনটি ভুয়া রেমিট্যান্স আদান-প্রদানের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি স্বীকার করা হলো। দুবাই, তুরস্ক ও চীনে এসব অর্থ পাঠানো হয়েছে। ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এন কামাকোদি হ্যাকিং ও চুরির এই ঘটনাটিকে একাধিক দেশের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, চুরির ঘটনাটি তাদের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এখনো তদন্ত করছে।

ফোনে কামাকোদি বলেন, আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধীদের দ্বারা এটা একটা সাইবার হামলা। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা দুবাইভিত্তিক এক ব্যক্তির নিউ ইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে পাঠানো প্রায় ৫ লাখ ডলারের একটি লেনদেন আটকে দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় লেনদেন চীনভিত্তিক ব্যাংক অব আমেরিকার নিউ ইয়র্কের একটি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির পর ব্রাসেলসভিত্তিক সুইফটের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভারতীয় ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুইফট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ব্যাংকগুলোর উচিত আরো সতর্ক হওয়া। শতাধিক ভারতীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সুইফটের সাথে সংযুক্ত। - রয়টার্স

 

নদী কোনো রাজ্যের একক মালিকানা নয়

একাধিক রাজ্যের ওপর প্রবাহমান কোনো নদীর ওপর কোনো রাজ্যের একক মালিকানার দাবি খাটবে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। কাবেরি নদীর পানিবণ্টন নিয়ে কর্নাটক ও তামিলনাড়ু রাজ্যের বিবাদ মেটানোর এই রায়ে আদালত বলেছে, নদী হবে জাতীয় সম্পদ। কাবেরির পানি নিয়ে কর্নাটক এবং তামিলনাড়ুর মধ্যে বিবাদ বহু দিনের; তা দাঙ্গা-হাঙ্গামায়ও রূপ নিয়েছিল।

ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, ‘অন্য কোনো রাজ্যকে বঞ্চিত করে কোনো নদীর ওপর কোনো রাজ্য বিশেষ অধিকার দাবি করতে পারে না।’ এই রায় দেয়ার ক্ষেত্রে বিচারকেরা অভিন্ন নদীর পানির অধিকার নিয়ে ‘হারমন ডকট্রিন’ থেকে কালে কালে ১৯৬৬ সালের ‘হেলসিংকি রুলস’ এবং ২০০৪ সালের ‘বার্লিন রুলস’- এ পরিবর্তিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক কালের অ্যাটর্নি জেনারেল জাডসন হারমনের মত ছিল, যে নদীর যতটুকু যে দেশের ওপর দিয়ে বইবে, তার পুরো অধিকার সেই দেশেরই থাকবে। এটি ‘হারমন ডকট্রিন’ নামে পরিচিত।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের অনেকগুলো অভিন্ন নদী রয়েছে, যার জলবণ্টন নিয়েও রয়েছে সমস্যা। গঙ্গার পানি বণ্টনে চুক্তি হলেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি অর্ধ যুগ ধরে আটকে আছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে। মমতার দাবি, বাংলাদেশকে পানি দিলে তার রাজ্য পানি সঙ্কটে পড়বে। আর যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় রাজ্যের অমতের কারণে কিছু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, পানি বণ্টনের মানে এই নয় যে দুই রাজ্য সমান পানি পাবে, এটি বিবেচনা করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের চাহিদা ও অর্থনৈতিক সুবিধার ওপর।

এই নীতি অনুসরণ করে কর্নাটক রাজ্যকে আরো ১৪.৭৫ টিএমসিএফটি পানি দেয়ার রায় দিয়েছেন আদালত। তামিলনাড়ু এতদিন পেয়ে আসছিল ১৯২ টিএমসিএফটি জল, এখন থেকে তা কমে তারা পাবে ১৭৭.২৫ টিএমসিএফটি। - টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.