ফোরজি যুগের শুরু হচ্ছে আজ সন্ধ্যায় লাইসেন্স প্রদানের পরপরই চালুর প্রস্তুতি

জাকির হোসেন লিটন
বহুল প্রতীতি চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক তথা ফোরজি যুগে আজ প্রবেশ করছে দেশ। সন্ধ্যায় ঢাকা কাবে আনুষ্ঠানিকভাবে অপারেটরদের হাতে ফোরজি লাইসেন্স তুলে দেয়া হচ্ছে। আর লাইসেন্স প্রদানের পর মুহূর্তের মধ্যেই ফোরজি সেবা চালু করতে সব ধরনের কারিগরি প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে অপারেটররা। 
লাইসেন্স হাতে পাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফোরজি সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোলি। গতকাল সকালে ফোরজি ফোনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন। অন্য দিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন লাইসন্স হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই ফোরজি সেবা চালু করতে প্রস্তুত রয়েছেন তারা। একইভাবে বাংলালিংক ফোরজি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 
এর আগে গত ১৩ ফেব্রæয়ারি ফোরজি তরঙ্গ নিলাম পর্ব শেষ করা হয়। ফোরজি তরঙ্গের নিলাম এবং তরঙ্গের প্রযুক্তি নিরপেতার সুবিধা বিক্রি করে পাঁচ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা আয় করে সরকার। এর মধ্যে দুই মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক ও গ্রামীণফোন মোট তিন হাজার ৮৪৪ কোটি টাকায় ফোরজি তরঙ্গ বরাদ্দ নেয়। এছাড়া টুজি ও থ্রিজি সেবার জন্য বরাদ্দ করা তরঙ্গে প্রযুক্তি নিরপেতা দিয়ে (তরঙ্গ যেকোনো প্রযুক্তিতে ব্যবহার সুবিধা) গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির কাছ থেকে সরকার পায় ১ হাজার ৪৪৫ দশমিক ৮ কোটি টাকা।
 দেশের চার অপারেটর ফোরজি তরঙ্গ নিলামে থাকার আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত নিলামে অংশ নেয় শুধু গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবি তাদের হাতে থাকা তরঙ্গ প্রযুক্তি নিরপেতায় রূপান্তর করে ফোরজি সেবা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়। গতকাল তারা সেই লাইসেন্স হাতে পেয়েছে বলে রবির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। 
বিটিআরসি জানায়, চারটি বøকে এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজে (প্রথম বøক- ৫ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ, দ্বিতীয় বøকে ৫ মেগাহার্টজ করে দু’টি এবং দুই দশমিক ৪ মেগাহার্টজ আরেকটি বøক) এবং দুই হাজার ১০০ মেগাহার্টজের ৫টি বøকে ( প্রতি বøকে ৫ মেগাহার্টজ করে) এ নিলাম হয়। এরমধ্যে গ্রামীণফোন শুধু এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ এবং বাংলালিংক দুই হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ও এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে অংশ নেয়।
বাংলালিংক এক হাজার ১১৯ কোটি টাকায় ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং এক হাজার ৪৩৯ কোটি টাকায় ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের মোট ১০.৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে। আর গ্রামীণফোন ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকায় কিনেছে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। অন্য দিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবি তরঙ্গ নিরপেক্ষতা বাবদ সরকারকে পরিশোধ করেছে ৩৭১ কোটি টাকা। 
নিলাম শেষে ফোরজি লাইসেন্স তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘লাইসেন্স হাতে পেলেই অপারেটররা ফোরজি সেবা দিতে পারবে।’
অপারেটররা জানিয়েছে, ফোরজি চালুর জন্য তারা ইতোমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের ফোরজি সিম বিক্রি শুরু হয়েছে অনেকদিন হলো। গ্রাহকেরা সিম রিপ্লেস করতে গেলেও দেয়া হচ্ছে ফোরজি সিম। নেটওয়ার্কের আধুনিকায়নও করা হয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা নিরবচ্ছিন্ন এইচডি ভিডিও ও লাইভ টিভি স্ট্রিমিং আর ঝকঝকে ভিডিও কল এবং অতি দ্রুত গতিতে যেকোনো কিছু ডাউনলোড করতে পারবেন। অপারেটরগুলো ইতোমধ্যে ‘টেস্ট রান’ হিসেবে ফোরজি সফলতাও পেয়েছে। 
বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘ফোরজি এলে ব্যান্ডউইথের সমতা বাড়বে। ফলে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিও বৃদ্ধি পাবে অনেকাংশে। একইসাথে মোবাইল ফোনের সেবার মান (ভয়েস ও ইন্টারনেট) অনেক ভালো হবে।’
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সেবা তথা যোগাযোগভিত্তিক অ্যাপগুলোর কোয়ালিটি অব সার্ভিস অনেক ভালো হবে। ভাইবার, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য অ্যাপে কথা আরো পরিষ্কার শোনা যাবে, ছবি হবে ঝকঝকে। টেলিমেডিসিন সেবাও হবে আরো উন্নত। যেকোনো যোগাযোগব্যবস্থা আরো দ্রুতগতির হবে।’ এ ছাড়া মোবাইল ওয়েব সেবা, আইপি টেলিফোনি, গেমিং সেবা, এইচডিটিভি, হাই-ডেফিনেশন মোবাইল টিভি, ত্রিমাত্রিক টেলিভিশন (থ্রিডি টিভি) ও কাউড কম্পিউটিং সেবা পাওয়া যাবে ফোরজির মাধ্যমে।
এ দিকে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের পাশাপাশি ফোরজির লাইসেন্স পেতে সিটিসেল আবেদন করলেও তরঙ্গ নিলামে অংশ নেয়নি। তরঙ্গ না থাকায় সিটিসেল ফোরজি চালু করতে পারবে না এই শর্তে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে অপারেটরটি। ফলে চূড়ান্ত পর্যায়ে লাইসেন্স পেতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকসহ চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.