জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের যাচাই-বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে ২৯ হাজার আপিল

সংসদ প্রতিবেদক
জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের (জামুকা) যাচাই বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ২৯ হাজার ৩৭২ জন। এ তথ্য জানিয়ে সংসদীয় কমিটিকে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলসহ সব ইউনিটের নির্বাচনের পর আপিলগুলো নিষ্পত্তি¡ করা হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অর্ন্তভুক্তি ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ার বিষয়ে জামুকাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কমিটির সদস্যরা মন্ত্রীকে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেয়ার বিশেষ ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। গতকাল রোববার সংসদ সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ২০তম বৈঠক এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক, ইকবালুর রহীম ও কামরুল লায়লা জলি। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সবিচালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ ২০১৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশ থেকে অনলাইনে ও সরাসরি ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫০ আবেদন পাওয়া যায়। যেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৪৭০টি কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে ৩৭৩টি কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে ৯৭টি কমিটির প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। 
কমিটিকে দেয়া গোপন নথিতে জামুকা বলেছে, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে প্রশাসক নিয়োগের পর নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা গেছে। যে কারণে অন্যান্য কমিটির যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রাখা রয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, নতুন আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করতে ইতোমধ্যে ৪৯টি সভা করেছে জামুকা। সভাগুলোয় মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি ১৮৫ জন মহিলা মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা), ১৭৪ জন শব্দ সৈনিক ও ৩ জন মুজিবনগর কর্মচারীর নাম মুুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে উল্লেখ করে জামুকা দাবি করেছে, যথাযথভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হলে তালিকায় কোনো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অর্ন্তভুক্তির সম্ভাবনা থাকবে না বা কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদও পড়বে না।
বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনাকালে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে পদাধিকার বলে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃত দেয়ার ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব দেন কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম। তাকে সমর্থন করে একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার আবেদনও বছরের পর বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এটা মোটেই সমীচীন নয়। তাদের মতে, বিশেষ বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীকে স্বীকৃত দেয়ার ক্ষমতা দেয়া উচিত। এ নিয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলাপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে দেয়া সম্পত্তির লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে কমিটির অভিমত, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ওই জমির সদ্ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে। এরই পরিপ্রক্ষিতে সম্পত্তিটি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে দেয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
কমিটি মুক্তিযোদ্ধা ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আয়োজন করে বিদ্যমান পুরনো আইন সংশোধনসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে তার অনুশাসন নিয়ে কাজ করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে দ্রæত রাশিয়ার আদলে পনোরমা ভবন নির্মাণ শুরুর পরামর্শ দিয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.