টি-২০ সিরিজও শ্রীলঙ্কার

শেষ ম্যাচেও লজ্জার হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এখনো টি-২০ ক্রিকেটের প্লান কী হবে সেটাই আয়ত্তে আনতে পারেনি বিসিবি। টিম ম্যানেজমেন্টের একগুঁয়েমি, ম্যাচে একের পর এক পরিবর্তন করে যে অস্থিরতা ও ভয় সৃষ্টি করেছে, তার ফল দুই ম্যাচের সিরিজে বাজে পরাজয় ও সিরিজ হার। এই শ্রীলঙ্কাকে সে দেশের মাটিতে টি-২০তেও হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার দেশের মাটিতে সেই দলটিই হয়ে যায় অচেনা, তাও আবার নিজেদের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে। দুই ম্যাচে ৬ ক্রিকেটারকে অভিষেক করানোর বিলাসিতা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডও কখনো দেখিয়েছে কি না সন্দেহ। প্রয়োজন হলে সেটা করতে হবে। তাই বলে মাস্ট উইন এক ম্যাচে এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা? বড় দলগুলো ওই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে। যেখানে জয়টা নিশ্চিত, ঠিক সেখানে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে হারের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটই টালমাটাল। যেখানে টি-২০তে সলিড একটা দল গঠন করে কোথায় জবাব দেবে, সেখানে কিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্র করেছেন নির্বাচকেরা। প্রথম ম্যাচে চার ক্রিকেটারকে অভিষেক করিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে সেখান থেকে দু’জন ছাঁটাই করে আরো দুইজনকে অভিষেক করানো হয়। এর সঙ্গে ফেরানো হয় তামিম ও মিথুনকে। সিলেটের এই ম্যাচে এ পরিবর্তনের ফল ৭৫ রানের লজ্জাজনক পরাজয়। এতে করে সব ফরম্যাটেই বাংলাদেশ হারল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দেশের মাটিতে বেশ কিছু দিন পর এতটা ব্যর্থ হলো টিম বাংলাদেশ। গত বিশ্বকাপের পর যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে ছিল সফলতা; এমনকি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও জিতেছিল টেস্ট ম্যাচÑ সেখানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যর্থতা আর ব্যর্থতা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।
বাংলাদেশ প্রথম টি-২০ ম্যাচে বড় হারের পর (১৬.৪ ওভারে পাঁচ উইকেটে জয় তুলে নেয়া) সিলেটের নতুন ভেনুতে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো প্লান ছিল না বাংলাদেশের। উপরন্তু চার পরিবর্তন। আগের ম্যাচে সৌম্য ও মুশফিক চমৎকার ব্যাটিং করেন। এ ম্যাচে সেটাও অনুপস্থিত। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার উদ্ভাসিত পারফরম্যান্সের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত খেলে ২১০ রানের এক চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছিল শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিস (৪২ বলে ৭০), গুনাতিলাকা (৪২), তিসারা পেরেরা (৩১), শানাকা (৩০), থারাঙ্গার (২৫) সামনে বাংলাদেশের অনভিজ্ঞ বোলিং ছিল অসহায়। কোনো বোলারই নিজেদেরকে স্থির করতে পারেনি নিজের সাঠিক নিশানার ওপর। মুস্তাফিজ, আবু জায়েদ রাহী, মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের সঙ্গে মুস্তাফিজ, নাজমুল ইসলামরা ছিলেন লক্ষ্যহীন। ফলে রানের পর রান করে ওই লক্ষ্যে নিয়ে যায় তারা দলকে।
এরপর পুনর্গঠিত হওয়া বাংলাদেশের ব্যাটিংও দাঁড়াতে পারেনি। তামিম ফিরেছিলেন। মিথুনকেও নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সবই নিরর্থক। এক প্রান্তে তামিম ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকলেও সৌম্য, মুশফিক, মিথুন দ্রুত আউটের খেসারত গুনতে হয় চাপের মধ্যে পড়ে। মাহমুদুল্লাহ কিছুক্ষণ লড়েন এই যা। করেন ৪১ রান। এরপর আর সুবিধা করতে পারেননি কেউই। অন্যদের মধ্যে তামিম ২৯ ও সাইফুদ্দিন করেন ২০ রান। ১৮.৪ ওভারে অলআউট ১৩৫ রানে। এতেই ওই বিশাল পরাজয়। কুশল মেন্ডিস ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও ম্যান অব দ্য সিরিজ হওয়ারও গৌরব অর্জন করেন। দুই ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কা ২-০তে জিতে হাসিমুখেই শেষ করল বাংলাদেশ সফর।  

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.