ইরানে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত : ৬৬ আরোহীই নিহত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় গতকাল একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানের ৬৬ জন আরোহীই নিহত হয়েছেন। রাজধানী তেহরান ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইয়াসুজের মধ্যবর্তী এলাকার আকাশে থাকাকালে জাগ্রোস পর্বতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। প্রেস টিভি ও বিবিসি।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিমান সংস্থাটির এক কর্মকর্তা। ভারী বৃষ্টিপাত ও কুয়াশার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জরুরি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মুখপাত্র মোজতবা খালেদিকে উদ্ধৃত করে দেশটির বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, উড্ডয়নের পরপরই ইরানের তৃতীয় বৃহত্তম বেসরকারি বিমান সংস্থা আসিমন এয়ারলাইন্সের এটিআর-৭২ বিমানটির সাথে রাডারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে রাজধানী তেহরান থেকে ৬২০ কিলোমিটার দূরের শহর সেমিরনের কাছাকাছি ডেনা পার্বত্য এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রেস টিভি জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আসিমন এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে বিমানটি বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যদের ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রথম দিকে বিমানটির আরোহী সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ধরনের তথ্য দেয়া হয় দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। বেশ কিছু গণমাধ্যম বলছে, অভ্যন্তরীণ এ ফ্লাইটে ৬০ থেকে ১০০ জন আরোহী ছিলেন। প্রেস টিভি বলছে, বিমানটিতে ৬৬ জন আরোহী ছিলেন। সেমিরনের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বিধ্বস্ত স্থানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তীব্র কুয়াশা ও বৃষ্টিপাতের কারণে সেখানে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। দুই ইঞ্জিনের এটিআর বিমানটি ফ্রান্স ও ইতালির যৌথ মালিকানাধীন নির্মিত। উদ্ধারকর্মীরা এখনো বিমানটিকে খুঁজে পাননি; তবে খারাপ আবহাওয়ার পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের জরুরি পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেছেন, স্থলপথে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বিমান বিধ্বস্ত স্থান পরিদর্শন করেছেন। তারা বিমানটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান করছেন।
অসিম্যান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এটিআর-৭২ উড্ডয়নের ২০ মিনিট পর রাডারের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় তেহরান থেকে যাত্রা শুরু করে বিমানটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে চারণভূমিতে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেছে। বিমান বিধ্বস্তের স্থানে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পীর হোসেইন কুলিবন্দ। তিনি বলেন, বিমানটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিধ্বস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। এক শোকবাণীতে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, আজকের এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় তিনি সড়ক ও নগর উন্নয়নমন্ত্রীকে প্রধান করে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য একটি কমিটি গঠন করেছেন। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা যাতে এড়ানো যায় সে জন্য দুর্ঘটনার প্রধান কারণ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.