বিআইডিএসে গবেষণা সেমিনার

সুবিধাপ্রাপ্তির প্রত্যাশায় ভারতীয়রা রাজনীতিতে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্তি কিংবা সামাজিক ভাবমূর্তি নির্মাণের আকাক্সক্ষা থেকেই ভারতীয়রা রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন। এক কথায়, কোনো কিছু পাওয়ার আশা নিয়েই তারা রাজনীতিতে প্রবেশ করেন বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দলমত নির্বিশেষে সব রাজনীতিকের মানসিকতাই এ ক্ষেত্রে অভিন্ন, যদিও একাধিকবার নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনীতিবিদেরা তাদের ‘সামাজিক ভাবমূর্তি’ নিয়ে বিচলিত হন না। তাদের কাছে আর্থিক বা অন্যান্য সুবিধাপ্রাপ্তি মুখ্য। অন্য দিকে নবীন বা নারী রাজনীতিকেরা শুরুতে সামাজিক ভাবমূর্তিকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
রাজধানীতে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মিলনায়তনে গতকাল বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদের সভাপতিত্বে এক সেমিনারে প্রকাশিত ‘হোয়াট মোটিভেটস পলিটিশিয়ানস? অ্যাভিডেন্স ফ্রম এ ল্যাব ইন দ্য ফিল্ড এক্সপেরিমেন্ট ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক এক গবেষণার ফলাফলে এসব বিষয় উঠে এসেছে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুনাল সেন ও তার সহকর্মীরা ভারতের আঞ্চলিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা পঞ্চায়েতের আচরণগত অর্থনীতি বিষয়ে এ গবেষণা পরিচালনা করেন।
ওই প্রতিবেদনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি রাজ্য উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতের (ইউনিয়ন পরিষদের অনুরূপ) নির্বাচিত ১০৫ জন রাজনীতিক ও ৬৯ জন সাধারণ মানুষের মানসিকতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক কুনাল সেন বলেন, আমাদের বিশ্লেষণ হলোÑ তৃণমূলপর্যায়ের সরকার ব্যবস্থার রাজনীতিতে কেউ নিঃস্বার্থভাবে আসেন না। দলমত নির্বিশেষে তাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু পাওয়ার আশা থাকে। সে ক্ষেত্রে জাতীয়পর্যায়ে যারা রাজনীতিতে আসেন, তারা কিসের আশায় রাজনীতিতে যুক্ত হন সে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসে। সাধারণত প্রচুর অর্থ খরচ করেই কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে হয়। তবে ব্যতিক্রমও থাকতে পারে এবং সে বিষয়েও গবেষণা হওয়া উচিত।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতিবিদ এবং অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে যদি একটি অর্থনৈতিক সুবিধার গেইম খেলা হয় তখন দেখা যায়, এই দুই শ্রেণীর মধ্যে আচরণগত তেমন পার্থক্য নেই। যদিও ধারণা করা হয়, সামাজিক ভাবমূর্তি রাজনীতিবিদদের আরো বেশি ন্যায়সঙ্গতভাবে অর্থনৈতিক বণ্টনে উৎসাহিত করবে, তবু গবেষণার ফলাফলে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। যখন অর্থনৈতিক সুবিধা বণ্টনের বিষয়টি লোকজনের কাছে জানাজানি হয়, তখন রাজনীতিবিদদের চেয়ে বরং অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাই বেশি ন্যায্য বণ্টন করেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে আবার নারী রাজনীতিবিদেরা তাদের সামাজিক ভাবমূর্তির দ্বারা বেশি উৎসাহিত হন। এ কারণে তারা লোকসম্মুখে অর্থনৈতিক ন্যায্য বণ্টনে পুরুষ রাজনীতিবিদের তুলনায় বেশি উৎসাহিত হন। সামাজিক ভাবমূর্তি বা ইমেজ রাজনীতিবিদদের ন্যায়সঙ্গত আচরণে উদ্বুদ্ধ করে না। রাজনীতিবিদরা সাধারণ মানুষের তুলনায় মানসিকভাবে দৃঢ় হয়ে থাকেন। তাই সাধারণ লোকের কথায় প্রভাবিত হওয়ার মানসিকতা থেকে তারা অনেকাংশে মুক্ত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.