আকাশপথে পণ্য পরিবহনে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে কার্গো পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার দুই বছরের মাথায় যুক্তরাজ্য সরকার প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার অ্যালিসন ব্লেক।

এসময় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিমানমন্ত্রী বলেন, গত দুই বছর ধরে কার্গো নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন, বিমানসহ বিভিন্ন সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতায় সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় যুক্তরাজ্য সরকার সন্তোষ প্রকাশ করে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত এলিসন ব্লেকও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বেশকিছু শর্ত দেয়া হয়েছিল। সেগুলো বাস্তবায়িত হওয়ায় আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলাম।

সংবাদ সম্মেলনে কার্গো পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি নথি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

এর আগে বিমানবন্দরের কনফারেন্স রুমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের মার্চে ঢাকা থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহনের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাজ্য। কার্গো ভিলেজের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগকে তখন কারণ হিসেবে দেখানো হয়। পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে পরামর্শক হিসাবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ সরকার। তবে কার্গো এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের কি পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এতে অর্থ ও সময় দুই দিক থেকেই ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে তৃতীয় একটি দেশের বিমানবন্দরে বাংলাদেশের কার্গো স্ক্যানিং করে নেয়া হচ্ছিল।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এজন্য কাজ করেছে বেবিচক। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিভিন্ন অনুষঙ্গ যেমন- ইডিএস, ইডিটি স্থাপন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্স সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও বেশকিছু শর্ত দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শর্তগুলো হচ্ছে- হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদে দু’জন পরামর্শক নিয়োগ, এভিয়েশন সিকিউরিটিতে ইউকে মডেল অনুসরণ এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ যৌথভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন।

এর আগে বাংলাদেশ সফরকালে গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন কার্গো পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেন। তার ওই কথার নয় দিনের মাথায় যুক্তরাজ্য সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানালো।
আকাশপথে পণ্য পরিবহন রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আয়ের অন্যতম একটি উৎস। যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে বিমানের আয় হয়েছে ২৪৪ কোটি টাকা।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় এখন এ খাত থেকে আয় আরো বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.