খেলাপিদের তথ্য যাচ্ছে পাসপোর্ট অধিদফতরে
খেলাপিদের তথ্য যাচ্ছে পাসপোর্ট অধিদফতরে

খেলাপিদের তথ্য যাচ্ছে পাসপোর্ট অধিদফতরে

এই কৌশল প্রয়োগ করে সুফল পাচ্ছে কিছু ব্যাংক
আশরাফুল ইসলাম

বড় ঋণখেলাপিরা ইচ্ছেকৃতভাবে ব্যাংকের ঋণ শোধ করছেন না। অথচ এদের দখলে ব্যাংকের বেশির ভাগ ঋণ আটকে রয়েছে। মামলাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েও তাদের বাগে আনতে পারছে না ব্যাংকগুলো। নিরুপায় হয়ে ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ের কৌশল হিসেবে এখন ঋণখেলাপিদের তথ্য পাঠাচ্ছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরে। প্রথমবারের মতো এ পদক্ষেপ নেয়ায় কিছু কিছু ব্যাংক সুফলও পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা ১০ ব্যাংকের ঘাড়েই রয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা। এ ঋণ মোট খেলাপি ঋণের ৬৫ ভাগ। আর ২৫ শীর্ষ ঋণখেলাপিদের পকেটে রয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা, যদিও অনৈতিকভাবে সুবিধা নিয়ে খেলাপি ঋণের তালিকা থেকে বড় বড় রাঘব বোয়ালরা নিজেদের নাম আড়াল করেছেন। এ কারণে শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় তাদের নাম নেই। ব্যাংকগুলো খেলাপিদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের এ খেলাপি ঋণ থেকে এক ভাগও আদায় করতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে খেলাপি ঋণ আদায়ে। কিভাবে ঋণ আদায় করে খেলাপি ঋণ কমানো হবে তার কর্মপন্থা চেয়েছে সর্বাধিক খেলাপি ঋণ আছে এমন ২৪ সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ব্যাংকের এমডি গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, তারা পড়েছেন উভয় সঙ্কটে। এক দিকে রাজনৈতিক আশীর্বাদ থাকায় বড় বড় ঋণখেলাপিরা ঋণ পরিশোধ করছেন না। বছরের পর বছর তারা ব্যাংকের ঋণ আটকে রেখেছেন। আবার এসব ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে; কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় বড় ঋণখোপি উচ্চ আদালতে রিট করছেন। খেলাপি ঋণের ওপর স্থগতিতাদেশ নিয়ে অন্য ব্যাংক থেকে পুনরায় ঋণসুবিধা নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে আইনগত বাধা না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রকৃতপক্ষে একজন ঋণখেলাপিকেই গ্রাহক হিসেবে গ্রহণ করছে। ওই গ্রাহক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পুনরায় খেলাপি হচ্ছেন এবং আবার আদালতে মামলা দায়ের করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে এক বৈঠকে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছে। তারা বলেছেন, অর্থঋণ আদালতে পর্যাপ্তসংখ্যক বেঞ্চ এবং বিচারক না থাকায় অর্থঋণ মামলাগুলো দ্রæত নিষ্পত্তিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে অর্থঋণ আদালতের জন্য পৃথক কোনো বেঞ্চ নেই।

আবার অনেক বড় ঋণখেলাপি রাজনৈতি চাপ প্রয়োগ করে অবলোপনকৃত ঋণের ক্ষেত্রে আংশিক ঋণ পরিশোধ করে অবশিষ্ট অংশ সুদাসলের একাংশ মওকুফের আবেদন জানাচ্ছে। আইনগত জটিলতার কারণে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি বা ব্যাংকের পক্ষে মিউটেশন করা যাচ্ছে না।

এমনি পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো বড় গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে নিরুপায় হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা ১০ ব্যাংক ১ শতাংশ খেলাপি ঋণও আদায় করতে পারছে না।

এ পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপিদের যাবতীয় তথ্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরকে অবহিত করা হচ্ছে এবং খেলাপিদের বিদেশে যাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এর ফলে খেলাপি ঋণ আদায়ে কিছু ফলও পাচ্ছেন বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র জানিয়েছে, ২৪টি ব্যাংকের কাছে খেলাপি ঋণ আদায়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের কর্মপন্থা জানতে চাওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রয়োজনে দুদকেও ঋণখেলাপিদের তথ্য পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.