জয়নাব আনসারি
জয়নাব আনসারি

শিশু জয়নবকে ধর্ষণের পর হত্যা : খুনির মৃত্যুদণ্ড

ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে ছয় বছরের শিশু জয়নাবকে ধর্ষণ ও হত্যার আসামি ইমরান আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল শনিবার দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আদালত চার গ্রাউন্ডে এ দণ্ড দিয়েছেন। পাঞ্জাবের কোট লাখপাত কারাগারের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের বিচারক সাজ্জাদ আহমদ এই রায় ঘোষণা করেন।

চার গ্রাউন্ডে ইমরানের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো শিশু হত্যা, শিশু অপহরণ, শিশু ধর্ষণ এবং শিশুর সাথে অস্বাভাবিক কাজ করা। এ ছাড়া শিশুর দেহ অপবিত্র করার দায়ে ইমরানকে আরো সাত বছরের কারাদণ্ড ও দশ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ড দেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কুরআন ক্লাস শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় পাঞ্জাবের কাসুরের সাত বছরের শিশু জয়নাব আনসারি। বাবা-মা সৌদিতে ওমরাহ পালনে যাওয়ায় কয়েক দিনের জন্য খালার বাড়িতে থাকা শিশুটির লাশ ৯ জানুয়ারি শহরের একটি আবর্জনার স্তূপে পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার সে। ধর্ষণের শিকার হওয়া জয়নাবের মৃত্যুতে শুরু হয় বিক্ষোভ। কাসুরের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হলে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায়, জয়নাবের শরীরে পাওয়া সন্দেহভাজন অপরাধীর ডিএনএ নমুনাটি আগে ধর্ষণের শিকার হওয়া সাতটি শিশুর শরীরেও পাওয়া গিয়েছিল। গত ২৩ জানুয়ারি ওই নমুনার সাথে এক সন্দেহভাজনের নমুনা মিলে যাওয়ার পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন ইমরান আলী হলেন সেই অপরাধী। সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে শুরু হয় তার বিচার।

এই ঘটনায় জয়নাবের চাচা ও ভাইসহ মোট ৫৬ জন স্বাক্ষ্য দেন। প্রসিকিউটর জানান, ফরেন্সিক রিপোর্ট ও পলিগ্রাফিক পরীক্ষায়ও প্রমাণ হয়েছে যে ইমরানই জয়নবকে হত্যা করেছে।

চীন থেকে ঋণ গ্রহণ

এ দিকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়নার (আইসিবিসি) সাথে ৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। সাড়ে চার শতাংশ সুদে এই ঋণের জন্য গত ১৫ জানুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।

গত বছর জুনে সংসদে অনুমোদন হওয়া পাকিস্তানের চলতি অর্থবছরের বাজেটের ৮৬ শতাংশ ছিল বৈদেশিক ঋণ। গত সাত মাসে চীনের কাছ থেকে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ নিয়ে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে পাকিস্তান। এ ছাড়া একই সময়ে প্রকল্প ব্যয় হিসেবে বেইজিং পাকিস্তানকে ৬১ কোটি ডলার দিয়েছে। গত বছর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসায় চীনের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহে মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তান। গত বছরের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো আইসিবিসির কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার ঋণ নেয় পাকিস্তান। এবারের ঋণ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো একই ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিল পাকিস্তান।

গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানেরে মোট বৈদেশিক ঋণ ও দায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় আট হাজার ৮৯০ কোটি ডলার।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.