দাবি পরিবেশবাদীদের

ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনগুলো বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার সাথে পালন করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শহরের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে অচিরেই ধুলাদূষণের উৎসগুলো বন্ধ করতে হবে। পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইনের খোঁড়াখুঁড়ির সময় যাতে ধুলাদূষণ না হয় সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। ভবন নির্মাণ এবং ভাঙার সময় যথাযথ নিয়ম মেনে তা করতে হবে। ড্রেনের ময়লা এবং রাস্তা ঝাড়– দিয়ে ময়লা আবর্জনা জমিয়ে না রেখে দ্রæত অন্যত্র অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। এর পাশাপাশি ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনগুলো বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে তাদের ওপর অর্পিত আইনানুগ দায়িত্ব আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, সততা ও স্বচ্ছতার সাথে পালন করতে হবে।  
গতকাল শাহাবাগের চারুকলা অনুষদের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)সহ ১৭টি সংগঠনের উদ্যোগে ধুলাদূষণে নাকাল নগরবাসী-কর্তৃপক্ষ নির্বিকার; ধুলাদূষণ বন্ধে চাই জরুরি পদক্ষেপ প্রভৃতি দাবিতে এ মানববন্ধের আয়োজন করা হয়। 
শুষ্ক মওসুমে ঢাকা মহানগরীতে ধুলাদূষণের প্রকোপ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। এ মওসুমে হাজার হাজার ইটভাটার পাশাপাশি মহানগরীতে সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া কোনো সমন্বয় ছাড়াই গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, ড্রেনেজ এবং ফাইওভার, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ইত্যাদি সেবামূলক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ সময় মাটি, বালুসহ এ ধরনের নানা সামগ্রী আচ্ছাদনহীন অবস্থায় ট্রাকে করে শহরে পরিবহন করা, ড্রেন পরিষ্কার করে রাস্তার পাশে স্ত‚প করে রাখা, দোকানপাট ও গৃহস্থালির আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে রাখা, মেরামতহীন ভাঙাচোরা রাস্তায় যানবাহন চলাচল, পাকা ভবন নির্মাণের সময় নিয়ম না মেনে মাটি, বালুসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন যত্রতত্র ফেলে রাখা, রাস্তার দুই পাশে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা, ইটপাথর মেশিনে ভাঙা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ইত্যাদি ধুলাদূষণ সৃষ্টি করে। এ রকম অসংখ্য উৎস থেকে বিপুল ধুলা বাতাসে মিশে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে আমাদের নিঃশ্বাস। পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো কর্তৃক অবকাঠামো তৈরি, সম্প্রসারণ ও মেরামত করার সময় খননকৃত মাটি ও অন্যান্য সামগ্রী রাস্তায় ফেলে না রেখে দ্রæত অপসারণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়ে থাকে। বরাদ্দকৃত অর্থখরচ দেখানো হলেও এ অর্থের সঠিক ব্যবহার দৃষ্টিগোচর হয় না। সুতরাং তহবিল তছরুপের জন্য ঠিকাদার, দায়ী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বক্তারা এ জন্য গৃহস্থালি ও বাজারের ময়লা সঠিক নিয়মে দ্রæত সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, ময়লা পরিবহনের গাড়িগুলোতে ভালোভাবে আচ্ছাদিত করে ময়লা পরিবহন করতে হবে। ধুলাদূষণের সাথে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সর্বোপরি ধুলাদূষণের সব উৎস বন্ধে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রয়োজনে লোকবল বৃদ্ধি ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে হবে। সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং বৃদ্ধি করতে হবে এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে ধুলাদূষণ নির্মূলে এলাকাভিত্তিক করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো: তৈয়ব আলী, পবার সহ-সম্পাদক স্থপতি শাহীন আজিজ, এম এ ওয়াহেদ, পুরান ঢাকা নাগরিক অধিকার উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, নোঙরের সভাপতি সুমন সামস্, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, ডাবিøউবিবি-ট্রাস্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান, নগরবাসী সংগঠনের চেয়ারম্যান হাজী শেখ আনসার আলী, সচেতন নগরবাসীর সভাপতি জিএম রোস্তম খান, বিডি কিকের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস, বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন, নাসফের সহসাধারণ সম্পাদক মো: সেলিম, ইয়ুথ সানের সমন্বয়ক আরিয়ান তানভীর, আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি হরেন্দ্রনাথ সিং প্রমুখ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.