ঢাকায় হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না দিল্লির
ঢাকায় হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না দিল্লির

ঢাকায় হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না দিল্লির

ডেকান ক্রনিকলের নিবন্ধ
নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ঢাকার রাজনৈতিক বিষয়ে নয়াদিল্লির হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ডেকান ক্রনিকলে। সাংবাদিক ভরত ভূষণ বিশ্লেষণধর্মী এক নিবন্ধে এ মন্তব্য করেন। গতকাল ‘ইটস ভেনডেটা ইন ঢাকা/ ইন্ডিয়া মাস্ট নট মেডল’ শিরোনামে প্রকাশিত এ নিবন্ধে সাংবাদিক ভরত ভূষণ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। সাধারণ নির্বাচনের বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে সাজা দিয়েছেন আদালত। পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের এ আদেশ যদি না বদলায়, তবে হয়তো খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নীতি নিয়েছে। আর এ বিষয়টিকে দেখা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন হিসেবে।

২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে ভরত ভূষণ তার নিবন্ধে লিখেছেন, ‘ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। কিন্তু ভারত তাতে অঘোষিত সমর্থন দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে সংসদের প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। কম ভোট পড়লেও ভারতের সমর্থনে ওই নির্বাচন বৈধতা পেয়েছিল।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ওই নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশন। যদিও বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ নির্বাচনে মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভরত ভূষণ আরো বলেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে আওয়ামী লীগ যে কৌশল নিয়েছে, ভারত তাতে সমর্থন দিতে পারে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উন্নতির ধারা বজায় রাখার আশাতেই এ অবস্থান নিতে পারে ভারত। কিন্তু এ কাজ করলে, নির্দিষ্ট দল বা নেতাকে সমর্থন দেয়ার একই ভুল করবে ভারত। নেপাল ও মালদ্বীপে এ একই কাজ করে ফলাফল ভালো হয়নি।

বিএনপি আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বর্জন করবে না বলে মনে করেন ভরত ভূষণ। তিনি লিখেছেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সুবিধাজনক বলে মনে হচ্ছে। প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ অভাবিত উন্নতি করেছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশের বেশি আছে। বেড়েছে আয় ও ব্যয়ের মাত্রা। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধিতেও দণি এশিয়ায় শ্রেষ্ঠ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ফলাফল অনিশ্চিত হতে পারে বলে মনে করেন ভরত ভূষণ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর সরকারের নির্ভরতা বেড়ে যাওয়া, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কড়াকড়ি, সুশীলসমাজ ও বাকস্বাধীনতার প্রতি হুমকি, অনেক নাগরিকের গুম হওয়া- এসব ঘটনা জনগণের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক করছে। সুতরাং সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফলে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।’

নিবন্ধে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর ভারত বেজায় খুশি। ভারত এ সরকারকে আবার মতায় দেখতে চাইতেই পারে। বিএনপি এর আগে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ায় এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ থাকাই এর কারণ। তার মতে, বাংলাদেশের অনেক মানুষ বিশ্বাস করে যে ভারত চায় খুঁড়িয়ে চলা বিএনপি যেন নির্বাচনে অংশ নেয়। এতে করে আরো বেশি বৈধতা নিয়ে মতায় ফিরতে পারবেন শেখ হাসিনা।

নিবন্ধের শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, এমন কোনো হস্তপে করার মতো কাজ ভারত আবার করবে বলে মনে হয় না। ২০১৪ সালের মতো, আওয়ামী লীগের নেয়া কৌশলকে সমর্থন দেয়া ঠিক হবে না। প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে- কোনো ধরনের হস্তপে করা উচিত হবে না ভারতের। যদি কোনো পরামর্শ চাওয়া হয়, তবে ভারতের উচিত এমন পদপে নেয়া, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের ইচ্ছার মূল্যায়ন করবে।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.