পাঁচ হাজার রুবলের নোট দিয়ে সর্দি মুছলেন  স্তানিস্লাভ মানায়েভ
পাঁচ হাজার রুবলের নোট দিয়ে সর্দি মুছলেন স্তানিস্লাভ মানায়েভ

পাঁচ হাজারি নোট দিয়ে সর্দি মুছলেন! (ভিডিও)

নয়া দিগন্ত অনলাইন

নাকের সর্দি ফেলতে টিস্যু নয়, নোট ব্যবহার করলেন এক ফুটবলার। তাও এক টাকা দুই টাকা নয়, পাঁচ হাজার রুবলের নোট! বাংলাদেশী মুদ্রায় যা দাঁড়ায়, সাত হাজার চার শ' টাকার মতো।

কে এই 'বিশিষ্ট' ফুটবলার?

তিনি রাশিয়ার এক ক্লাবের রিজার্ভ টিমের এক মিডফিল্ডার। নাম স্তানিস্লাভ মানায়েভ। এফসি টন্সোর দ্বিতীয় দলে খেলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

কেন এমনটা করলেন তিনি?

ঘটনাটি নিছক মজা করেই করা। উড়োজাহাজে করে কোথাও যাওয়ার সময় এক সতীর্থের কাছ সর্দি মুছতে কিছু চেয়েছিলেন। সতীর্থ মজা করে একগাদা পাঁচ হাজার রুবলের নোট তার সামনে তুলে ধরেন। তাতে পিছু না হঠে, একটা নোট হাত নিয়ে বলেন, 'চাইলে আমি অভাবী লোকদের এটা দান করতে পারতাম, কিন্তু আমি করব না। কারণ, আমার সর্দি হয়েছে।' বলেই সর্দি মুছে নোটটি ছুড়ে ফেলে দেন।

এই হাসিমজার মুহূর্তটির ভিডিও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে দেন তিনি। ভুলটা এখানেই করে বসেন মানায়েভ। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের গালি গালাজের পর ভিডিওটি মুছে ফেলেন তিনি।

কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি!

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ান ক্রীড়ামন্ত্রী মানায়েভকে 'ছোটলোক' বলেছেন। আর রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রধান অ্যালেক্সি সরোকিন মানায়েভের কানের নিচে কষে চড় লাগাতে বলেছেন।

দেখুন সেই ভিডিও-

 

রোনালদোর কাছে পাত্তাই পেল না নেইমাররা

এক গোলে পিছিয়ে থেকেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোলে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইকে ঘরের মাঠ সানতিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়নস লীগের হেভিওয়েট ম্যাচে প্রথম লেগে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। পেনাল্টি স্পট থেকে রিয়ালের হয়ে ১০০তম চ্যাম্পিয়নস লীগের গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান রোনালদো। আর এতে করে নেইমারের সহায়তায় ফ্রেঞ্চ জায়ান্টদের হয়ে গোল করা আদ্রিয়েন র‌্যাবয়িতের গোলটির আনন্দ ফিকে হয়ে যায়।

ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে পর্তুগীজ তারকা দ্বিতীয় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তিন মিনিট পরে মার্সেলো দলের জয় নিশ্চিত করেন। আগামী ৬ মার্চ ফিতি লেগের ম্যাচ খেলতে প্যারিস সফরে যাবে গ্যালাকটিকোরা।

স্প্যানিশ টেলিভিশনে রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস বলেছেন, ‘এই দিনগুলো অবশ্যই সবাই মনে রাখবে। পিছিয়ে থেকে যেভাবে আমরা ফিরে এসেছি তা প্রশংসার দাবীদার। চ্যাম্পিয়নস লীগের শিরোপা ধরে রাখতে হলে আমাদের এভাবেই খেলা চালিয়ে যেতে হবে। রিয়াল মাদ্রিদকে কেউ মৃত মনে করলে সে ভুল করবে।’

এদিকে র‌্যাবয়িত বলেছেন পরিচিত সমস্যাগুলোর কারনেই পিএসজি আবারো ক্ষতিগ্রস্থ হলো। তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই একই কথা বলি, কিন্তু এর সমাধান হয়না। আবারো আমরা একইভাবে নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে আসলাম। সমস্যা হলো ডিওনের বিপক্ষে আট গোল করা সহজ অথবা লীগ গেমে চার গোল করা। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লীগে আমরা এমন কিছু ম্যাচ খেলতে মাঠে নামি যেগুলোতে আসলে সুযোগ নষ্ট করার উপায় নাই।’

গত মৌসুমেও বার্সেলোনার কাছে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে ঠিক একই পর্যায়ে থেকে বিদায় নিয়েছির পিএসজি। তারই পুনরাবৃত্তি যেন এবারও ঘটতে যাচ্ছে। ওই সময় বার্সেলোনার হয়ে খেলেছিলেন নেইমার। এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার এবার পিএসজিতে থাকলেও দলের জন্য কোন পার্থক্য গড়ে দিতে পারেননি। অথচ তার উপরেই দলের আক্রমনভাগ পুরোপুরি নির্ভরশীল।

এই পরাজয়ে উল্টো কোচ উনাই এমেরির উপর আরো চাপ সৃষ্টি হলো। কিন্তু বিপরীতে রিয়াল দারুন এই জয়ে কোচ জিদেদিন জিদানের ওপর থেকে কিছুটা হলে চাপ কমাতে সমর্থ হয়েছে। ঘরোয়া ভাবে রিয়ালের একের পর এক হতাশাজনক পারফরমেন্সে এই জয়টা খুব বেশী জরুরি ছিল। মার্কো আসেনসিও বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে এসে জয়সূচক দুটি গোলের পিছনেই অবদান রেখেছেন।

গত চারটি চ্যাম্পিয়নস লীগের তিনটিতের বিজয়ী রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম সদস্য গ্যারেথ বেলকে কাল জিদান বাইরে রাখার সাহস দেখিয়েছিলেন। ৬৮ মিনিটে অবশ্য করিম বেনজেমার স্থানে বেল খেলতে নামেন। অন্যদিকে এমেরি অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাকে দলের বাইরে রেখে ২২ বছর বয়সী প্রেসনেল ক্লিমপেবেকে পিএসজির রক্ষণভাগের একেবারে মূল স্থানে জায়গা করে দিয়েছিলেন। রিয়াল সমর্থকরা কাল অবশ্য দলকে সমর্থনের একটি অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছিলেন। মাঠের দক্ষিণ পাশে রাফায়েল নাদালের একটি বিশাল ছবি ডিসপ্লে করেছে, যার মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছে স্প্যানিশ এই টেনিস তারকা দশবার প্যারিসে গিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা জিততে পারলে রিয়াল পারবে না কেন।

স্বাগতিকরা শুরুটা ভালো করলেও নেইমার নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ১৪ মিনিটে নাচোকে ফাউলের অপরাধে তাকে হলুদ কার্ড পেতে হয়েছে। মার্সেলোর সহায়তায় রোনালদো একটি দারুণ শট পিএসজি গোলরক্ষক আলফোনসে আরেয়োলা রুখে দেন। ৩৩ মিনিটে কাইলিয়ান এমবাপ্পের লো ক্রস থেকে র‌্যাবয়িত পিএসজিকে এগিয়ে দেন। এ্যাওয়ে গোলের সুবিধায় পিএসজি যখন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল ঠিক তখনই টনি ক্রুসকে ডি বক্সে ভিতর ফাউল করলে গিওভানি লো সেলসোর বিপক্ষে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে রিয়ালের পক্ষে সমতা ফেরান রোনালদো।

দ্বিতীয়ার্ধে সফরকারীরা আবারো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু এমবাপ্পের শট আটকে দেন কেইলর নাভাস। এরপর হঠাৎ করেই এডিনসন কাভানিকে বসিয়ে তার স্থানে থমাস মেনিয়ারকে রাইট-ব্যাক হিসেবে নামান এমেরি। কিন্তু কার্যত আসেনসিওকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তে জিদান সফল ছিলেন। তিন মিনিটের মধ্যে রিয়ালের দুই গোলে আসেনসিওরই পুরো অবদান ছিল। আসেনসিওর ক্রস আরেয়োলা রুখে দিলে ফিরতি বলে রোনালদো কোনো ভুল করেননি। এরপর আসেনসিওর দারুন এক পাসে মার্সেলো দলের জয় নিশ্চিত করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.