রাজধানীতে ৫ পানির কারখানা সিলগালা দুই লাখ টাকা জরিমানাসহ ৯ জনের দণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিশোধন না করে পানি বাজারজাত করার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারায় পাঁচটি পানির কারখানা সিলগালা করে দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই এলাকায় ছয়টি কারখানায় অভিযান চালায় র‌্যাব। বিএসটিআইয়ের সহযোগিতায় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, অভিযানের শুরুতে ছোলমাইদ এলাকার ‘এ ওয়ান ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামের একটি কারখানায় যান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই কারখানার বিএসটিআইয়ের অনুমোদন থাকলেও পরিশোধন ছাড়া ওয়াসার সাপ্লাইয়ের পানি সরাসরি জারে (বোতলে) ভরে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ অভিযোগে কারখানা মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকার ‘ওসামা ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামের কারখানাও অনুমোদন থাকলেও তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অপরিশোধিত পানি বিক্রি করায় কারখানার ব্যবস্থাপক সাইদুল ইসলামকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। দুই কারখানায় অভিযানের খবর পেয়ে পাশের ‘ক্রিস্টাল ড্রিংকিং ওয়াটার’ কারখানার মালিক-কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। পরে যন্ত্রপাতি ধ্বংস করে কারখানা সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। কোকাকোলা এলাকায় গিয়ে ‘ঢালি এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পান আদালত। এই কারখানাতেও পানি পরিশোধনের কোনো যন্ত্রপাতি নেই। এক সাথে কয়েকটি নল দিয়ে অপরিশোধিত পানি জারে ভরে নেয়া হচ্ছিল। এ কারখানার মালিককেও পাওয়া না গেলেও আওলাদ হোসেন এবং রাসেল মিয়া নামে দুই কর্মীকে আটক করে তাদের তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
তিনি আরো জানান, সকাল থেকে অভিযান চালিয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে যেতে পেরেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই পানি বাজারজাত করছিল। আর তিনটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন থাকলেও তারাও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিশোধিত পানি বোতলজাত না করেই পানি বিক্রি করছিল। অবৈধ তিনটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। 
অভিযানে ছয় প্রতিষ্ঠানের ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক কারখানা বন্ধ করে মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়ে গেছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে আবারো অভিযান চালানো হবে। অভিযানে বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক রিয়াজুল হকসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.