ঢাকা, সোমবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিবিধ

সুন্দরবনের ওপর অত্যাচার চলছে : আবুল মকসুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৭:৩৬


প্রিন্ট

বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবি ও বাপা’র সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, সুন্দরবনের ওপর যে অত্যাচার চলছে, তা খুবই দুঃখজনক। সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এটা কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্ববাসীর সম্পদ, এর ক্ষতি করার কোনো অধিকারই আমাদের নেই। বরং একে রক্ষা করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। সরকারের উচিত ছিল সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম কেউ গ্রহণ করলেও তাতে বাধা দেয়া। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি, একে রক্ষা ও সংরক্ষণের পরিবর্তে সরকারি উদ্যোগে ও অনুমোদনে বন বিনাশী অনেক শিল্প কল-কারখানা গড়ে উঠাসহ রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মত পরিবেশ বিনষ্টকারী প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে সেখানে।

সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনসহ (বাপা) ৫৭টি সদস্য সংগঠনের উদ্যোগে শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

‘সুন্দরবন বিষয়ক ইউনেস্কোর প্রস্তাব সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন কর, বন বিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবিলম্বে বাতিল কর, সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর সব কার্যক্রম বন্ধ কর, বন রক্ষায় উদ্যোগ নাও’ দাবিতে এক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরিবেশ ও বন বিনাশী কার্যক্রম বন্ধ না হলে অতি দ্রুতই সুন্দরবন বড় বিপর্যয়ের দারপান্তে চলে যাবে। তাই সুন্দরবন বিনাশী কার্যক্রম ও পদক্ষেপ বাতিল করে একে রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন। বাপা’র যুগ্মসম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, পাওয়ার সেল-এর সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী বিডি রহমতুল্লাহ, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট ড. মো: জিয়াউর রহমান, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেন, ঢাকা ইয়ুথ ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মহাজন প্রমুখ।

সমাবেশে সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস্ মুভমেন্টের নির্বাহী প্রধান অ্যাডভোকেট মোঃ মোজাহেদুল ইসলাম মুজাহিদ, বাপা’র জাতীয় পরিষদ সদস্য নাজিম উদ্দিন, গ্রীন ভয়েসের আব্দুস সামাদ প্রধান ও আব্দুস সাত্তার-সহ আয়োজক সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিগণ ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিগন অংশ নেন। সমাবেশ শেষে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, সরকার এ বিষয়টিকে ক্রমাগত উপেক্ষা করে যাচ্ছেন ও রামপালে তাদের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। সরকারি এহেন আচরণে দেশের ও বিশ্বের সব সুন্দরবন ও পরিবেশ প্রেমী মানুষই উদ্বেগে। সারা বিশ্ব আজ একমত যে, কয়লা একটি মারাত্মক নোংরা জ্বালানী। তাই সারা বিশ্ব যেটা পরিহার করছে, দেশ ও তার জনগণ, প্রকৃতি, সম্পদ, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের স্বার্থে আমাদেরকেও সেটা পরিহার করতে হবে।

তিনি বলেন, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে গত বছর ২০ আগস্ট রামপাল বিষয়ক ১৩টি গবেষণাপত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এসব সুলিখিত গবেষণা প্রতিবেদন বিষয়ে আমরা দুই মাসের মধ্যে সরকারি মতামত ও প্রয়োজনমত উন্মুক্ত আলোচনার প্রস্তাব পেশ করেছিলাম। তার পর ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মতামত প্রদান করা হয়নি। সরকারি নিরবতা থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এসব গবেষণাপত্রের যৌক্তিকতা বিষয়ে তাদের কোনো দ্বিমত নেই।

সমাবেশে থেকে তিনিটি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প বিষয়ে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির প্রস্তাব সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে; নির্মাণের সব কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি কর্তৃক সরকারের কাছে জমাকৃত ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন ও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির জুলাই’১৭ সভার সুপারিশের ভিত্তিতে বন রক্ষায় সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সুন্দরবনের পাশের বা ভেতরের নির্মাণাধীন ও পরিকল্পিত ৩২০টি ও সব সরকারি-বেসরকারি প্রকল্প ও স্থাপনা অপসারণ, নির্মানাধীন প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ, বরাদ্দকৃত সব প্লট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সুন্দরবনের উপর আরোপিত অন্য সব অনিয়ম অত্যাচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বন বিভাগের জনবল বৃদ্ধি ও তাদের কাজের পরিধি, একাগ্রতা, সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

অধ্যাপক এম এম আকাশ রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের যুক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, দেশ ও বিদেশের সব আধুনিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সকল বিজ্ঞানী ও ইউনেস্কো পরিস্কার গবেষণা তথ্যসহ বলেছে যে রামপাল প্রকল্প সুন্দরবন বিধ্বংসী হবে। তাই বিবেকের দায়েই আজ সবাইকে সুন্দরবন রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, সুন্দরবনকে রক্ষা করতে ঐক্যমতে আসতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আগামী প্রজন্মের বেঁচে থাকার স্বার্থে পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প বাতিল করে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে।

প্রকৌশলী বিডি রহমতুল্লাহ বলেন, কয়লা এমন একটি ক্ষতিকর পদার্থ যা পানি, মাটি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে। সারা বিশ্ব কয়লাভিত্তিক প্রকল্প থেকে সরে এসেছে, এমনকি ভারত ও চীন কয়লাভিত্তিক প্রকল্প থেকে সরে আসার জন্য একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫