সিরিয়ায় ছায়াযুদ্ধ
সিরিয়ায় ছায়াযুদ্ধ

সিরিয়ায় ছায়াযুদ্ধ

আদিবা শাইয়ারা

সিরিয়া এখন বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছায়াযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইরানের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সিরিয়ার অভ্যন্তরে তুরস্কের কুর্দি যোদ্ধাদের দমনে তুরস্কের সামরিক অভিযান চলছে। এর মধ্যে ইসরাইল সরাসরি সিরিয়ায় জড়িয়ে পড়ছে। একাধিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভুপাতিত হওয়ার পর ইরানকে দায়ী করেছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে এক ধরনের ছায়াযুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে সিরিয়ায়। ইরানের সেনা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহ গেরিলারাও আসাদ সরকারের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য দেশটিতে অবস্থান করছেন। ফলে ইসরাইল এখন সিরিয়া নিয়ে শঙ্কিত। ইরানকে ‘অক্টোপাসের মাথা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইসরাইলি মন্ত্রী। তিনি বলেন, শাখা-প্রশাখাগুলো না কেটে অক্টোপাসের মাথার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সিরিয়া ও লেবানন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। 

সিরিয়ার যুদ্ধে এই প্রথম একটি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী। ১৯৮২ সালের লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর এই প্রথম ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলো। এরপর সিরিয়ায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর এটাই ছিল দেশটির অভ্যন্তরে ইসরাইলের প্রথম প্রকাশ্য অভিযান। ইসরাইলের দাবি, সীমান্ত অতিক্রম করে আটটি সিরীয় ও চারটি ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। দামেস্ক জানিয়েছে, ইসরাইল হামলায় নিহতদের মধ্যে সিরীয় সেনাসদস্যও রয়েছে।

অপর দিকে, সিরিয়া থেকে ওড়ানো একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে ইসরাইল। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোনাথন কনরিকাস ও দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক এক মন্ত্রী ইয়োভাল স্টেনিটজ ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ওই ড্রোনটি মার্কিন আরকিউ-১৭০ গোয়েন্দা নজরদারি ড্রোনের নকল। তাদের ভাষায়, এ ড্রোনটি মার্কিন ব্যবস্থার উল্টো প্রযুক্তি সন্নিবেশ করা হয়েছিল। ইসরাইলের এই দাবিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। ইসরাইল দাবি করে, তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্র্রোনের উপস্থিতির কারণে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইরানি ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে ইসরাইল। ইরান দাবি করে ইরানি ড্রোনের উপস্থিতির অভিযোগটি মিথ্যা। চলমান এ উত্তেজনায় যোগ দিয়েছে রাশিয়াও। ফলে ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ইসরাইলি হামলায় সিরিয়ায় চলমান উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আধিপত্যের রাজনীতিতে ইসরাইল আর ইরানের অবস্থান পরস্পরের বিপরীতে।

সৌদি-ইসরাইল মৈত্রী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির অনুসারী। বিপরীতে ইরানের অবস্থান মার্কিন আধিপত্যের বিপরীতে। সিরিয়ায় মার্কিন আধিপত্যেরবিরোধী হওয়ার কারণেই ইরান-সিরীয় যুদ্ধে আসাদ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইসরাইল সবসময়ই তাদের ওপর ইরানি হামলার আশঙ্কার কথা প্রচার করে আসছে। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত যেকোনো সময় ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দেন।

এর মধ্যে সিরিয়া ইস্যু নিয়ে আবার আলোচনায় বসতে যাচ্ছে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরান। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানোভ বলেছেন, মার্চে কাজাখস্তানের আস্তানায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসতে পারেন। এ বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ নতুন মোড় নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসবে। বোগদানোভ আরো বলেন, সিরিয়ায় ইসরাইলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আরো প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সিরিয়ায় ইরান ও তুরস্কের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী। ইরান পুরোপুরিভাবে আসাদ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। আর তুরস্ক চাইছে আসাদের অপসারণ। কিন্তু এরপর তুরস্কের কুর্দিবিরোধী অভিযানকে সমর্থন দিয়েছে ইরান। তুরস্কের সাথে রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কুর্দি যোদ্ধাদের শুরু থেকে নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে ইসরাইল। ফলে সিরিয়ায় নতুন করে ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এ তিন দেশ ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। সিরিয়া যুদ্ধে ইসরাইলের জড়িয়ে পড়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্ঘাত নতুন রূপ নিতে পারে। 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.