ঢাকা, সোমবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

তুরস্ক

তারা কখনো উসমানীয় চড় খায়নি: এরদোগান

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৭:০৬


প্রিন্ট
তারা কখনো উসমানীয় চড় খায়নি: এরদোগান

তারা কখনো উসমানীয় চড় খায়নি: এরদোগান

ন্যাটো আর যুক্তরাষ্ট্র এক জিনিস নয়। ন্যাটো বিভিন্ন দেশের একটি জোট আর যুক্তরাষ্ট্র একটি দেশ। তাই ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনা হতে পারে না। সিরিয়ার কুর্দি গেরিলা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি-কে আমেরিকা অর্থ দেয়া বন্ধ না করার যে ঘোষণা দিয়েছে তা তুরস্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রভাব ফেলবে।

তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান একথা বলেছেন।

 সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, এটা খুবই পরিষ্কার যে, যারা বলেন আমাদের ওপর আঘাত এলে আমরাও জবাব দেব' তারা কখনো উসমানীয় চড় খাননি। মার্কিন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল পল ফ্রাংককে উদ্দেশ্য করে দৃশ্যত এরদোগান এ কথা বলেছেন।

গত সপ্তাহে সিরিয়ার মানবিজ সফরের সময় ফ্রাংক বলেছিলেন, তুরস্কের দাবি সত্ত্বেও মানবিজে মার্কিন সেনারা থাকবে। সেসময় তিনি দাবি করেন, উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে ওয়াইপিজি হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর শক্তি। শুধু তাই নয়, ওয়াইপিজি'র বিরুদ্ধে তুর্কি সেনা অভিযানের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী কুর্দি গেরিলাদের জন্য অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়িয়েছে।

 

ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ককে নিয়ে আলাদা হিসাব আছে আমেরিকার : এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, সিরিয়ায় এখন ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ককে নিয়ে আমেরিকার আলাদা হিসাব আছে। তারা আমাদেরকে নানান কথা বলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য কথাটা বলেন না। ওবামা সত্য বলেননি, এখন ট্রাম্পও সেই একই পথে চলেছেন।

ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্ট বা একেপি’র সদস্যদের উদ্দেশে এরদোগান বলেন- সিরিয়ায় আইএসের পতনের পর আমরিকা এখন উত্তর সিরিয়ায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। আমেরিকা সেখানে দামেস্ক-বিরোধী কুর্দি গেরিলাদের মদদ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমেরিকা যদি বলে আইএস বিরোধী লড়াইয়ে আমরা পাঁচ হাজার ট্রাক এবং দুই হাজার কার্গো বিমানে করে অস্ত্র পাঠাচ্ছি তাও আমরা এটা বিশ্বাস করব না। আমরা সিরিয়ার মানবিজ শহর থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানাচ্ছি।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আমেরিকার দুই হাজার সেনা মোতায়েন করা রয়েছে এবং তারা সিরিয়ার কুর্দি গেরিলা পিপল’স প্রোটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজি-কে সমর্থন দিচ্ছে। ওয়াইপিজি-কে তুরস্ক নিজের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে এবং সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে এসব গেরিলার বিরুদ্ধে গত ২০ জানুয়ারি থেকে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে।

মানবিজে মার্কিন সেনা উপস্থিতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, আমেরিকা আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা মানবিজ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে; তারা মানবিজে থাকবে না। কিন্তু তারা সে কথা রাখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করেন, কেন আপনারা যাচ্ছেন না?

এরদোগান আরো বলেন, তারা আমাদেরকে মানবিজে যেতে নিষেধ করছেন। কিন্তু আমরা মানবিজে যাব এর প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার জন্য। ন্যাটো জোটের শীর্ষে থেকে আমেরিকা সিরিয়ায় কী করছে? আপনাদের তো সিরিয়ার সাথে সীমান্ত নেই, আপনারা সিরিয়ার প্রতিবেশী নন। আপনার এখানে কী কাজ? আমাদের ৯১১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫