কৌশলগত ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান!
কৌশলগত ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান!

কৌশলগত ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

স্বল্পপাল্লার ট্যাকটিক্যাল অস্ত্রসহ নতুন ধরনের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান। এর ফলে ওই অঞ্চলে আরো বেশি বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে। এমনই সতর্কবার্তা দিলেন আমেরিকার গোয়েন্দা প্রধান।

একইসাথে তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের উগ্রবাদী সংগঠনগুলো ভারতের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে যেতে পারে। এরফলে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার পারদ আরো চড়বে।

জম্মুর সঞ্জুয়ান সেনা ছাউনিতে জইশ-ই-মহম্মদদের হামলার কয়েকদিন পরেই এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর ড্যান কোটস।

সিনেট সিলেক্ট কমিটি অন ইন্টেলিজেন্স আয়োজিত বিশ্বজুড়ে বিপদ সংক্রান্ত মার্কিন কংগ্রেসের একটি শুনানিতে ওই মন্তব্য করেছেন কোটস। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান নতুন ধরনের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। এরমধ্যে রয়েছে স্বল্প পাল্লার ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র।

কোটসের হুঁশিয়ারি, পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্বল্প পাল্লার ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র ছাড়াও সমুদ্র ভিত্তিক ক্রুজ মিসাইল, এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইল এবং দূর পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরফলে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিপদের আশঙ্কা বাড়বে।

কোটস বলেছেন, নতুন পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ-দমনে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ, উগ্রবাদীদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা ও চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান মার্কিন স্বার্থের পক্ষে বিপদ তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান আরো বলেছেন, ইসলামাবাদের মদতপুষ্ট উগ্রবাদীরা পাকিস্তানে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে যাবে। উগ্রবাদীরা ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধেও হামলা চালিয়ে যাবে। পাকিস্তান ভিত্তিক উগ্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার ফলে ভারতের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের উত্তেজনা আরো বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোটস।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান আরো বলেছেন, উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে পাকিস্তানের মদত আফগানিস্তানের পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।

 

ভারতকে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তান সরকার কাশ্মির সীমান্তে তার দেশের সেনা অবস্থানের ওপর অব্যাহত হামলা এবং ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের ব্যাপারে ভারতকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কাশ্মির এলাকা কিংবা সীমান্তে যেকোনো ঘটনা ঘটলে ভারতীয় কর্মকর্তারা কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই সেসবের দায় পাকিস্তানের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালান।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করে ভারত সরকার আসলে সেদেশে কাশ্মিরি জনগণের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ভারতের একটি সেনা ঘাঁটিতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তির হামলায় সাত সেনা নিহত হলে ভারতের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন এ হামলার সঙ্গে পাকিস্তান জড়িত ছিল।

কাশ্মির সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের সেনারা একের অপরের মুখোমুখি অবস্থান করছে। সীমান্তে অব্যাহত সংঘর্ষ ও একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ দু'দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। দু'দেশের সীমান্ত-রক্ষা বাহিনীর গোলাগুলিতে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদের মধ্যকার উত্তেজনা তীব্রতর করলেও এখন পর্যন্ত সংঘাত এড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

কাশ্মির এলাকার মালিকানা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চল আসছে এবং এ বিরোধের জের ধরে প্রায়ই দু'দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। কাশ্মির বিরোধকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত দুইবার বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

নয়াদিল্লি কাশ্মিরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে এবং নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য কাশ্মিরি জনগণের আন্দোলনকে তারা অস্ত্র দিয়ে দমনের চেষ্টা করছে। কাশ্মিরে বর্তমানের সহিংস পরিস্থিতির জন্য ভারত সরকার সবসময়ই পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে আসছে।

কিন্তু পাকিস্তান সরকার বরাবরই কাশ্মিরের ওপর ভারতীয় মালিকানার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলে আসছে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ওই এলাকার ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি সেখানকার জনগণের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।

জাতিসংঘের প্রস্তাবে কাশ্মির ভারতের সঙ্গে থাকবে নাকি পাকিস্তানের সঙ্গে থাকবে তা নির্ধারণের জন্য ওই এলাকায় গণভোট দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভারত জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে কাশ্মির তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে নাক গলানোর অধিকার কোনো দেশের নেই।

উপমহাদেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ খোশ অমাদি বলেছেন, জাতিসঙ্ঘে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মিরের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকবে নাকি ভারতের সঙ্গে থাকবে। এখানে তৃতীয় কোনো পথ নেই। কিন্তু কাশ্মিরের জনগণকে আজো সেই ভোটাধিকার দেয়া হয়নি বরং ভারত কাশ্মির দখল করে রাখায় পাকিস্তান প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট।

যাইহোক, বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন কাশ্মির নিয়ে বিরোধের অবসান না ঘটবে ততদিন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় দু'দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতেরও অবসান ঘটবে বলে মনে হয় না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.