ঢাকা, রবিবার,১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ক্রিকেট

স্লিপে ঘুম পাড়ানি গান নয়...

ক্রিকইনফো

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১২:১৩ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৪:২৪


প্রিন্ট
স্লিপে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্যাচ মিস করেছেন সাব্বির রহমান

স্লিপে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্যাচ মিস করেছেন সাব্বির রহমান

এই স্লিপ মানে ঘুম নয়, ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানের পেছনে অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে। উইকেটরক্ষকের পাশাপাশি এখানে ওঁৎ পেতে থাকেন আরো কয়েকজন। ব্যাটের কানায় লাগা যে বলগুলো উইকেটরক্ষকের নাগালের বাইরে থাকে, সেগুলো লুফে নিতে প্রস্তুত থাকেন স্লিপ ফিল্ডিং পজিশনে থাকা ফিল্ডাররা। তাদের বলা হয় স্লিপার। বাংলাদেশ দল এমন একজন স্লিপারের অভাব বোধ করছে দীর্ঘদিন ধরে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ এই পজিশনে কেউই নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে এই স্লিপেই দুটি বিগ ক্যাচ মিস করেছেন সাব্বির রহমান। তাই প্রশ্ন উঠেছে এই পজিশনের ফিল্ডারদের নিয়ে, স্লিপে এই ঘুম কতদিন চলবে?

স্লিপিং পজিশন...

 

একজন ভালো স্লিপার হতে হলে কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। সেরা উইকেটরক্ষকদের মতো তাদেরও দিনের পর দিন অনুশীলনে ঘাম ঝরাতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার ডেরিল কুলিনান। ক্রিকইনফোর মাসিক ডিজিটাল ম্যাগাজিন দ্য ক্রিকেট মানথলিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্লিপারদের উদ্দেশ্য এই পরামর্শ দেন।

প্রথমেই তাকে জিজ্ঞেস করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার ব্রায়ান ম্যাকমিলানের ব্যাপারে। তিনি দুর্দান্ত স্লিপার ছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ''আপনি যখন স্লিপে থাকাকালীন ক্যাচ মিস করেন- আপনার সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া কেমন থাকে? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, 'আমি জানি না। কারণ আমি দুই-একটার বেশি ক্যাচ মিস করিনি।''

বল লুফে নিচ্ছেন ডেরিল কুলিনা, সাথে সাথে টেস্টটিও, ২০০০ সালে ক্যাপ টাউন টেস্ট

 

উত্তর শুনে হতবাক হয়েছিলেন প্রশ্নকর্তা। আসল ঘটনা জানতে চান ডেরিল কুলিনানের কাছে। এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার যা বলেছেন, তাতে আশ্চর্য হতে হয়। ডেরিল কুলিনান বলেন, 'সত্যটা আমি বলছি। ব্রায়ান ম্যাকমিলানের সাথে আট বছর আমি খেলেছি। এই সময়ে তাকে আমি মাত্র দুটি ক্যাচ মিস করতে দেখেছি। তার মধ্যে একটি ছিল নিউল্যান্ড টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ বিকেলে একটি ক্যাচ ড্রপ করেছিল সে। আরেকটি ১৯৯৬ সালে ওভালে। ম্যাকমিলানকে আমরা 'বালতি' বলে ডাকতাম কারণ ওর হাত দুটি বিশাল বড় ছিল। ওই হাতের মুঠোতে সে অনেক ক্যাচ লুফে নিয়েছে। আমার দেখা সেরা স্লিপার সে। মাঝে মাঝে তো সে এক হাতেও ক্যাচ করত! আর এই পর্যায়ে আসতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।'

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মাত্র দুটি ক্যাচ মিস করেছেন ব্রায়ান ম্যাকমিলান

 

ক্যাচ লুফে নেয়া ব্রায়ান ম্যাকমিলানের সহজাত গুণ থাকলেও কুলিনানের এই কাজটি করতেই অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। জানান, 'আমি যখন খেলতাম তখন তাবড় তাবড় ক্রিকেটাররা আমার সতীর্থ ছিল। তাদের টেক্কা দেয়া আমার জন্য অনেক কঠিন কাজ ছিল। মনে আছে, আমার প্রথম টেস্ট হয়েছিল মেলবোর্নে। সেখানে প্রথম দিনই আমি চারটি ক্যাচ মিস করেছি! তখনি নিজেকে প্রশ্ন করেছি, কেন এমনটা হলো? আমি তখন উইকেটরক্ষক রেমন্ড জেনিন্সের কাছে ছুঁটে যাই। তিনিই আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেন। কোন অ্যাঙ্গেলে কিভাবে আমি বল ক্যাচ করতে গিয়েছিলাম? কিভাবে আমি অনুশীলন করেছিলাম? তখন আমি নিজেকে একজন উইকেটরক্ষকের জায়গায় বসিয়ে ভাবতে থাকি। আমাকে একাগ্রচিত্তে এই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয়েছে।

সহজ ভাবলেই মস্ত ভুল...

 

'আসল ব্যাপার হলো, যখন আমরা অনুশীলন করি, তখন জানি এই সময়ের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০টা বল আমার দিকে আসবে। কিন্তু যখন খেলার মাঠে থাকি, তখন কিন্তু আমি জানি না কখন কোন বলটি আমার দিকে আসবে। তাই প্রতি মুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে, একাগ্রচিত্তে বলের দিকে চোখ রাখতে হবে। তোমাকে সেখানে দুই ঘণ্টার মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তখন মনে করবে সেই ঘটনাটি। সেই ব্যক্তিটির কথা মনে করবে, যিনি সচিন টেন্ডুলকারের ক্যাচটি ২০ রানে লুফে নিত পারলে সেটি আর ১৮০ রানে গিয়ে থামত না।

বল হাত ফসতে গেলো ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির

 

'ব্যাটসম্যানরা চাইবে না বল তোমার দিকে যাক আর তুমি তা লুফে নাও। বলের দিকে থাকিয়ে থেকে তুমি ভাবতে থাকবে বল আসবে আর যখন সেটি তোমার দিকে আসতে থাকবে, এক মুহূর্তের অসাবধানতায় সেটি তোমার হাত ফসতে গেল- তুমি সেই ভার বহন করতে পারলে না।'

তাহলে একজন ভালো স্লিপার কীভাবে হওয়া যাবে? ডেরিল কুলিনানের পরামর্শ -

উইকেটরক্ষকের মতো ভাবতে হবে : সব সময় নিজেকে একজন উইকেটরক্ষক ভাবতে হবে। এক মুহূর্তের জন্যও মনোযোগ হারানো যাবে না।

হাটুতে ভর দিয়ে দাঁড়ানোর কুফল...

 

শরীরের ভার কোনদিকে যাচ্ছে : স্লিপে দাঁড়ানোর পর খেয়াল রাখতে হবে, শরীরের ভার কোনদিকে যাচ্ছে? গোড়ালিতে ভর দিয়ে দাঁড়ালে চলবে না। তাতে ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই পায়ের অগ্রভাগে ভর দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে দাঁড়াতে হবে।

পা ছড়িয়ে দাঁড়ানো যাবে না : পা খুব ছড়িয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়। কারণ পা খুব বেশি ছড়িয়ে দাঁড়ালে মাথা নড়াচড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। দুই পায়ের ফাঁক কম থাকলে মাথা ইচ্ছেমতো ডানে-বায়ে ঘুরানো যায়। ফলে বলে দিকের পূর্ণ মনোযোগ দেয়া যায়।

হাটুতে ভর নয় : যাদের উচ্চতা বেশি তাদের পক্ষে নিচু হওয়া কষ্টকর। তাই দেখা যায়, হাটুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। এর ফলে বল ছুটে এলে তা লুফে নিতে ভঙ্গি বদলাতে হয়, এতে সময় নষ্ট হয়। ফলাফল বল ফসকে যাওয়া।

ক্যারিয়ারের ১৫৮তম ক্যাচ লুফে নিচ্ছেন এই কাজে 'মাস্টার'খ্যাত মার্ক ওয়াহ। ২০০১ সালে লর্ডসে

 

অভিজ্ঞদের অনুসরণ : যারা স্লিপে ভালো করেছেন- এমন ক্রিকেটারদের অনুসরণ করুন। এই যেমন- মার্ক ওয়াহ ও মার্ক টেইলর। তারা সব সময় নিজেদের উইকেটরক্ষকই মনে করতেন। বোলার যখনই দৌঁড়ে আসতেন, তারাও উইকেটরক্ষকের সাথে পজিশন নিয়ে নিতেন।

এছাড়া আরো কিছু পরামর্শ দিয়েছেন কুলিনান। এক হাতে এবং গ্লাভস ছাড়া খালি হাতে ক্যাচ করার অনুশীলন করতে বলেছেন তিনি। এর ফলে বল মুঠোবন্দি করা অনেক সহজ হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫