জ্যাকব জুমা
জ্যাকব জুমা

দক্ষিণ আফ্রিকায় রাজনৈতিক সংকট চরমে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) নেতারাই প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে দল থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এদিকে বিরোধী দল জুমাকে পরিবর্তনের জন্য আগাম নির্বাচন আহ্বান করলেই রাজনৈতিক অস্থিরতা শেষ হবে বলে জানিয়েছে। এতে করে নজিরবিহীন এক সংকটে উপনীত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতি।

জুমা ‘নীতিগতভাবে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন’ বলে জানান সাধারণ সম্পাদক এসি মাগাসুল।

জুমার পদত্যাগ প্রশ্নে গত সোমবার রাতে রাজধানী প্রিটোরিয়ার কাছে এএনসির ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক হয়।

মাগাসুল বলেন, ‘জুমা যদি প্রেসিডেন্ট পদ আটকে রাখে তবে তাকে সংসদের মাধ্যমে অপসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

বুধবারের নিয়মিত মন্ত্রিসভার বৈঠকটি জুমা বাতিল করেছেন। কবে সভাটি কবে হবে তা অনিশ্চিত।

জুমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে এএনসির নতুন পার্টি প্রধান ও ডেপুটি প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপসের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন। সিরিলকে উত্তরসূরি হিসেবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ভাবা হচ্ছে।

পদত্যাগের আগে তিন থেকে ছয় মাসের সময় দিতে হবে বলে জানিয়েছেন জ্যাকব জুমা। এএনসি তা রাজি নন বলে এএনসি সাধারণ সম্পাদক জানান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার জুমার পদত্যাগের পক্ষে বেশি জনসমর্থন রয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এএনসির প্রধান দফতরে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা দুটায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।

১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন জুমা। দুর্নীতিসহ বেশ কয়েকটি বড় ধরনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

কয়েক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট
গার্ডিয়ান, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা পদত্যাগ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির (এএনসি) একজন পার্লামেন্ট সদস্য খবরটি নিশ্চিত করেছেন। জুমার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা রয়েছে।

সম্প্রতি তিনি এএনসি নেতা সিরিল রামাফোসার সাথে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

আগামী রোববার এনএনসির বড় ধরনের বিক্ষোভে জনরোষ দমিয়ে রাখার চাপ থেকেই শুক্রবার রামাফোসা বিষয়টি নিয়ে জুমার (৭৫) সাথে আলোচনা করেছেন এবং বিক্ষোভের আগেই তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। দমনমূলক এবং বর্ণবাদবিরোধী শাসনের অবসান হওয়ার পর ১৯৯৪ সাল থেকেই ক্ষমতায় রয়েছে দলটি। ক্ষমতাসীন রাষ্ট্র প্রধানের কাছ থেকে তার ডেপুটি ও বিরোধীদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়েই বর্তমান সঙ্কট শুরু হয়েছে।

রামাফোসা বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট সদস্যদের বলেছেন, আমি আশা করছি শিগগিরই প্রেসিডেন্টের সাথে ক্ষমতা হস্তান্তরের আলোচনা শেষ হবে এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনায় কয়েক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করবেন। একজন এমপি নাম প্রকাশ না করার শর্তে গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ‘এখানে আর আলোচনার বিষয়টি টেনে আনার দরকার নেই, আমরা যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগের খবর প্রত্যাশা করছি। কেউই চাচ্ছেন না, পদত্যাগের সময় আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্ব হোক।’

অন্য একজন এমপি বলেন, রামফোসা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ‘আলোচনা হচ্ছে ক্ষদ্র বাস্তবতা, বড় ধরনের কোনো কিছু নয়।’ তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্টকে তাড়াহুড়া করে বিদায় করা হলে এএনসির ভেতরে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের সমর্থকেরা ‘বিদ্রোহ’ করে বসতে পারে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.