ঢাকা, রবিবার,১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

আমেরিকার জন্য অস্তিত্বগত হুমকি সৃষ্টি করছে উ. কোরিয়া!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১১:৪৬ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১১:৫২


প্রিন্ট
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক ড্যান কোটস বলেছেন, উত্তর কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি সৃষ্টি করছে।

মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির ‘বিশ্বব্যাপী হুমকি’ বিষয়ক বার্ষিক শুনানিতে এ মন্তব্য করেন তিনি। ড্যান কোট্স সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে ওয়াশিংটন কি ব্যবস্থা নেবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র আমেরিকার মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অবশ্য আমেরিকার এই শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেন, ওয়াশিংটন ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে’ এ বিষয়টির সমাধান চায় এবং সেজন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর নানামুখী চাপ তৈরি করা হয়েছে।

চলতি বছর উত্তর কোরিয়া আরো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে বলে তিনি মার্কিন সিনেটরদের জানান।

ড্যান কোটস বলেন, “উত্তর কোরিয়া ২০১৮ সালে ক্ষেপণাস্ত্রের আরো পরীক্ষা চালাতে পারে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাদের নেতা কিম (জং-উন) প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশে পরমাণু অস্ত্রের বায়ুমণ্ডলীয় পরীক্ষা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।”

উত্তর কোরিয়া গত বছর কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র এবং সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। তবে গত নভেম্বরের পর থেকে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো পরীক্ষা চালায়নি পিয়ংইয়ং।

গতমাসে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক মাইক পম্পেয় দাবি করেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে উত্তর কোরিয়া ‘হাতে গোনা কয়েকটি মাস’ দূরে রয়েছে।

 

উ. কোরিয়ার সাথে আলোচনায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : মাইক পেন্স

পরমাণু প্রকল্প নিয়ে চাপ অব্যাহত রাখলেও উত্তর কোরিয়ার সাথে শেষ পর্যন্ত আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকাকে এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের আভাস দিলেন তিনি।

পেন্সের সাক্ষাৎকার নিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, তিনি ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন উত্তর কোরিয়ার সাথে আলোচনা শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছেন। প্রথমে সিউল তারপর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তর কোরিয়ার সরাসরি আলোচনার পথে এগোনো নিয়ে দু’জনের মধ্যে মতৈক্য হয়েছে। পিয়ংচ্যাংয়ে শীলকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়া যান পেন্স। সেখানেই মুনের সাথে তার আলোচনা হয়। সেখান থেকে ফেরার পথে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর সাথে কথা বলেন পেন্স।

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে আমাদের মিত্ররা অপারমাণবিকীকরণের পথে উত্তর কোরিয়ার অর্থপূর্ণ পদক্ষেপের বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত দেশটির ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। তাই সর্বোচ্চ চাপের রাখার যে কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু যদি তারা আলোচনা করতে চায়, আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছি।তবে উত্তর কোরিয়া ঠিক কি করলে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে পেন্স বলেন, ‘আমি তা জানি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আগে আলোচনায় বসার জন্য উত্তর কোরিয়াকে প্রথমেই পারমাণবিক অস্ত্র পরিহার করা নিয়ে আলোচনায় রাজি হওয়ার শর্ত দিয়েছিল। কিন্তু পেন্স এখন যা বলছেন তাতে ওই অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সরে আসারই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পেন্স আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানানোর পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, উত্তর কোরিয়া কখন আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকবে সে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার এখন তাদেরই। তারা কখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আন্তরিক এবং অর্থবহভাবে আলোচনায় বসতে চাইবে সে সিদ্ধান্ত নেয়াটা তাদের ব্যাপার। তবে উত্তর কোরিয়াকে ‘অবশ্যই আন্তরিকতা দেখাতে হবে’ বলে টিলারসন উল্লেখ করেন।

মিসরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে কি বিষয় থাকবে তা তারা জানে। কোনোরকম আলোচনা হতে গেলে তার আগে কিছু প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হওয়া দরকার। তাতে বোঝা যাবে উভয়পক্ষ আসলেই অর্থবহ আলোচনায় প্রস্তুত কি না।

শীতকালীন অলিম্পিককে ঘিরে এরই মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। উত্তরের নেতার কাছ থেকে পিয়ংইয়ং সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা। ফলে দুই পক্ষে আলোচনার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণ মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থন ও সহযোগিতায় দুই কোরিয়া আলোচনার নেতৃত্ব দেবে। গত বছর ডিসেম্বরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত শীলকালীন অলিম্পিকে দল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিবাচক সাড়ার পর থেকে দুই বৈরী প্রতিবেশীর মধ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সম্পর্কের বরফ গলছে। পিয়ংচ্যাংয়ে প্রতিনিধি পাঠানো নিয়ে দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও হয়।

অলিম্পিকের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়া যান কিমের ছোট বোন কিম ইয়ো-জং এবং উত্তর কোরিয়ার আলঙ্কারিক রাষ্ট্রপ্রধান কিম ইয়ং-ন্যাম। সেখানে ইয়ো-জং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুনের সাথে দেখা করেন এবং তার হাতে ভাই কিমের পক্ষ থেকে পিয়ংইয়ং সফরের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। মুন ওই আমন্ত্রণে সাড়া দিলে সেটি এক দশকেরও বেশি সময় পর দুই কোরিয়ার নেতাদের মধ্যে হওয়া প্রথম শীর্ষ সম্মেলন হবে। - সিবিএস নিউজ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫