ঢাকা, রবিবার,১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

অন্যান্য

একটি খাবার নিয়ে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমর্থকদের তুলকালাম কাণ্ড

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১০:১৭ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১০:৩৪


প্রিন্ট
খাবারের মেনুতে ফিলিস্তিন শব্দ নিয়ে বিতর্ক

খাবারের মেনুতে ফিলিস্তিন শব্দ নিয়ে বিতর্ক

ভার্জিন আটলান্টিক তাদের একটি খাবারের মেনু থেকে ফিলিস্তিনি শব্দটি বাদ দেয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে।

এই এয়ারলাইন্সের খাবারের মেনুতে কুসকুস স্টাইলের একটি সালাদকে বর্ণনা করা হয়েছিল 'ফিলিস্তিনি স্বাদ-গন্ধে অনুপ্রাণিত' একটি খাবার হিসেবে। কিন্তু ইসরাইলি সমর্থকদের আপত্তির মুখে ভার্জিন আটলান্টিক ফিলিস্তিনি শব্দটি এই মেনু থেকে তুলে নেয়।

ইসরাইল সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বলে প্রচারণা শুরু করেছিল যে ভার্জিন আটলান্টিক ফিলিস্তিনি সমর্থকদের খুশি করার চেষ্টা করছে। এজন্যে তারা এমনকি ভার্জিন আটলান্টিকের ফ্লাইট বর্জনেরও ডাক দেয়।

এদের চাপের মুখে ভার্জিন আটলান্টিক 'ফিলিস্তিনি' শব্দটি মেনু থেকে তুলে নেয়।

কিন্তু এটি করার পর ভার্জিন আটলান্টিক এখন আরও তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে। ফিলিস্তিনের সমর্থকরা তীব্র ভাষায় সমালোচনার করছে এই এয়ারলাইন্সের।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে টুইটারে এক ইসরাইল সমর্থক প্রথম এই মেনুর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মেনুটির ছবি পোস্ট করে। এতে অভিযোগ করা হয় ভার্জিন আটলান্টিক ফিলিস্তিনিপন্থী গোষ্ঠী 'বয়কট-ডাইভেস্টমেন্ট এন্ড স্যাংশন (বিডিএস) দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মেনুতে ফিলিস্তিন শব্দটি ব্যবহার করেছে।

ডেভিড গারনেলাস নামের আরেকজনও একই রকম অভিযোগ করে ভার্জিন আটলান্টিক বয়কটের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানায়।

এরপর ভার্জিন আটলান্টিক এ জন্যে ক্ষমা চেয়ে এই খাবারটির নাম বদলে দেয় এবং এটিকে কেবলমাত্র 'কুসকুস সালাদ' বলে বর্ণনা করে।

কিন্তু এবার শুরু হয় পাল্টা প্রতিক্রিয়া। কেন ফিলিস্তিনি নামটি মুছে দেয়া হলো তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন অনেকে।

তারা প্রশ্ন তোলেন, কেন ভার্জিন আটলান্টিক মনে করছে ফিলিস্তিনি শব্দটি আপত্তিকর।

টুইটারে আনা হাবিবটি নাম একজন মন্তব্য করেন, "ফিলিস্তিনি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনকে কেবল মানচিত্র থেকে নয়, খাবারের মেনু থেকে পর্যন্ত মুছে ফেলতে চায়।"

ফিলিস্তিন বলতে ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুসালেম এবং গাজার কথাই বুঝিয়ে থাকে ফিলিস্তিনি সমর্থকরা। কখনো কখনো তারা ইসরাইলকেও এর অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ইসরাইল সমর্থকরা মনে করে এর মাধ্যমে তাদের রাষ্ট্রের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।

ভার্জিন আটলান্টিক বিবিসিকে বলেছে, তারা এই সালাদটিকে ফিলিস্তিনি বলেছিল, কারণ এর প্রধান উপকরণ মাফটুল সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষ খুব বেশি কিছু জানে না।

মাফটুলকে মূলত ফিলিস্তিনি কুসকুস হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং এটি আসে রোদে শুকানো এক ধরণের গম থেকে।

ভার্জিন আটলান্টিকের এক মুখপাত্র বলেন, "আমরা গ্রাহকদের নিশ্চিত করতে চাই যে আমরা একটি খাবারের নামকরণ করে বা নাম বদলে কাউকে আহত করতে চাইনি। আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আমাদের যাত্রীদের জন্য ফ্লাইটে নতুন স্বাদের খাবার নিয়ে আাস।

ফিলিস্তিনি এবং ইসরাইলিদের মধ্যে খাবারের নামকরণ নিয়ে এরকম উত্তেজনার কথা আগে শোনা যায়নি।

২০১৫ সালে ব্রিটেনের একটি সুপারমার্কেট 'টেস্ট অব ইসরাইল' বলে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছিল। এতে কিছু ঐতিহ্যবাহী আরব খাবারকে অন্তর্ভুক্ত করায় এ নিয়ে তখন বিতর্ক হয়েছিল।

 

ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক ৬০ ভাগ ফিলিস্তিনি শিশুই নির্যাতনের শিকার

ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া ৬০ ভাগ ফিলিস্তিনি শিশুই মৌখিক, শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। ফিলিস্তিনি প্রিসোনার্স ক্লাব (পিপিসি) এ সত্য উদঘাটন করেছে।

এক বিবৃতিতে, পিপিসি জানিয়েছে, দোষ স্বীকার করতে ফিলিস্তিনি শিশুদের ঘুমাতে দেয়া হয় না, মারধর করা হয় এবং তাদের ভয় দেখানো হয়। ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, শিশুদের দীর্ঘ সময় খাবার এবং পানি না দিয়ে রাখা হয়। তাদের অনেক সময় গালিগালাজ ও অপমান করা হয়। তাদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। ইসরাইলি কারাগারে আটক থাকা তিন ফিলিস্তিনি শিশুর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ওই রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মুস্তাফা আল বাদান (১৭), ফয়সাল আল সায়ের (১৬) এবং আহমেদ আল সালালদেহ (১৫) নামে তিন ফিলিস্তিনি শিশু পিপিসিকে জানিয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় নির্যাতন করা হয়েছে। ইসরাইলি কারাগারে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছে। এদের মধ্যে ৫৭ নারী ও কিশোরী এবং সাড়ে তিন শ’ শিশু। - মিডল ইস্ট মনিটর

 

আরেক ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা

দখলীকৃত পশ্চিম তীরের বুরকিন গ্রামে গ্রেফতারি অভিযানের সময় এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ খবর জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত কিশোরের নাম আহমদ আবু ওবাইদ। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জেনিনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করার পর মারা যায় সে।

৯ জানুয়ারি নাবলুসের একটি ইহুদি বসতি এলাকায় ৩৫ বছর বয়সী ইসরাইলি রাব্বি রাজিয়েল শেভাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পর থেকে সন্দেহভাজন তরুণ আহমদ জারারকে খুঁজতে বেশ কয়েকটি সহিংস অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, শনিবার ওই ঘটনার সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারে বুরকিনে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছিল তারা। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেন, সে সময় কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। ফিলিস্তিনিরা পাথর ছুড়লে এবং অগ্নিসংযোগ করলে তাদেরকে ‘অ-প্রাণঘাতী’ সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়; পরে মূল ‘উসকানিদাতাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেন, সন্দেহভাজন তরুণ আহমদ জারার একটি সামরিক যানের ওপর উঠে দাঁড়িয়েছিল এবং এর দরজা খুলে ফেলেছিল। পরে তাকে গুলি করা হয়। আহমদ জারার হলেন দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার সময় ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হামাস সদস্য নাসের জারারের ছেলে। অভিযানের সময় ইসরাইলি বাহিনী আহমদ জারারকে গ্রেফতার করেছে কি না সে ব্যাপারে জানা যায়নি। গত মাসেও রাব্বিকে গুলি করার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জেনিন সংলগ্ন একটি শহরে এক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। - মিডলইস্ট আই

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫