২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-৬৩

জীববিজ্ঞান একাদশ অধ্যায় : জীবের প্রজনন

সুপ্রিয় ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের জীববিজ্ঞান বিষয়ের ‘একাদশ অধ্যায় : জীবের প্রজনন’ থেকে একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নিচের চিত্রটি লক্ষ করে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. পরাগথলি কী? ১
খ. অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলতে কী বুঝায়? ২
গ. চ অংশটি এই ফুলে অনুপস্থিত থাকলে পরাগায়নের ক্ষেত্রে কী ঘটবে? ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. ছ চিহ্নিত অংশটি কিভাবে প্রজাতিকে রক্ষা করে? যুক্তিসহ তোমার মতামত ব্যক্ত করো। ৪
উত্তর : ক. পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগথলি বলে।
খ. ফুলসহ শাখাকে পুষ্পমঞ্জরি বলে। যে শাখার বৃদ্ধি অসীম হলে তাকে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে।
গ. চিত্রে চ অংশটি হলো উদ্দীপকের ফুলের পুংস্তবক। যেকোনো উদ্ভিদের পরাগায়নের জন্য পুংস্তবক অত্যাবশ্যকীয় অংশ। পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশটি হলো পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলের মতো অংশটি পরাগধানী। তাই এ ফুলে চ চিহ্নিত অংশটি অর্থাৎ পুংস্তবক অনুপস্থিত থাকলে ফুলটির পরাগায়নে যেসব সমস্যা ঘটবে সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলোÑ
১. ফুলটিতে স্বপরাগায়ন ঘটবে না। এ জন্য ফুলটিতে পর-পরাগায়ন ঘটবে।
২. এ ধরনের পরাগায়নে অনেক পরাগরেণু নষ্ট হবে।
৩. এজন্য বাহকের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে।
৪. পরাগায়ন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
৫. নতুন প্রজাতির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিশুদ্ধতা নষ্ট হবে।
ঘ. চিত্রে ছ চিহ্নিত অংশটি ফুলের গর্ভাশয়, উদ্ভিদের প্রজাতি রক্ষায় এ অংশটির গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণত অধিকাংশ সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন প্রজনন বীজ তৈরির মাধ্যমেই ঘটে থাকে। আর এ বীজ থেকেই উদ্ভিদের নতুন প্রজাতি সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি ও প্রজাতি রক্ষার ধারা অব্যাহত থাকে। সাধারণত গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরেই বীজের সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফুলের পরাগায়নের ফলে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয় এবং পরাগরেণু থেকে একটি পরাগনালিকা সৃষ্টি হয়। নালিকাটি গর্ভদণ্ডের ভেতর দিয়ে ক্রমেই গর্ভাশয়ের দিকে বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ডিম্বকের ভ্রƒণথলিতে পৌঁছে। ভ্রƒণথলিতে পৌঁছানোর পর নালিকার অগ্রভাগ ফেটে যায় এবং পুংজনন কোষ দু’টি মুক্ত হয়। একটি পুংজনন কোষ (শুক্রাণু) স্ত্রীজনন কোষের ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক সম্পন্ন করে। নিষেকের ফলে ফুলের গর্ভাশয় ফলে এবং ডিম্বকসমূহ বীজে পরিণত হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফল পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে বীজও পরিপক্ব হয়। এই পরিপক্ব বীজই পরবর্তী সময়ে অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি করে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, চিত্রের ছ অংশটি অর্থাৎ গর্ভাশয় বীজে সৃষ্টির মাধ্যমেই উদ্ভিদের প্রজাতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.