বসন্তবরণে তরুণীদের পদচারণায় গতকাল ভিন্নমাত্রা পায় ঢাবি ক্যাম্পাস ও গ্রন্থমেলা :নয়া দিগন্ত
বসন্তবরণে তরুণীদের পদচারণায় গতকাল ভিন্নমাত্রা পায় ঢাবি ক্যাম্পাস ও গ্রন্থমেলা :নয়া দিগন্ত

ভ্যালেন্টাইনস ডে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে’। আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে- বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসার জন্য আলাদা একটি দিন। কেবলই ভালোবাসার। করতালে সুর তুলে আজ ভালোবাসার গান গাইবার দিন। ‘ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে তোমারে করেছে রানী’, অথবা ‘আমি ভালোবাসি যারে, সে কী কভু আমা হতে দূরে যেতে পারে।’ পৃথিবীর আদিমতম সম্পর্কের নাম ভালোবাসা। সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, চার পাশের প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা আগেও যেমন ছিল এখনো সে রকমই আছে।
ভালোবাসার এ প্রত্যয়টি নিয়ে পৃথিবীতে যত গল্প, কবিতা, গান, উপন্যাস রচিত হয়েছে, আর কোনো বিষয়ে তা হয়নি। এমনকি ভালোবাসার জন্য কেউ সাম্রাজ্য ত্যাগ করেছে, কেউ জীবন দিয়েছে। সেই ভালোবাসাকে চিরঞ্জীব করে রাখতে ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। যদিও এ নিয়ে রয়েছে দেশে দেশে নানা বিতর্ক।
বিশ্বের সাথে সম্প্রতি বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও উদযাপন করছে দিবসটি। এখানে ভালোবাসা পালনে থাকে বসন্তের বাড়তি ছোঁয়া। আজ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা স্থানে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। পত্র-পত্রিকা ছাড়াও টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়াগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। দিবসটিকে উপভোগ্য করে তুলতে রাজধানীর পাঁচ তারকা কয়েকটি হোটেলসহ বিভিন্ন নামীদামি হোটেলে থাকবে বিশেষ আয়োজন।
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহর থেকেই শুরু হয়ে গেছে ভালোবাসার পারস্পরিক বিনিময়ের পালা। ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিতে সাড়ম্বরে ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন যুক্ত হয়। এতে করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি, মিলনমেলা ও জুটিদের পদক বিতরণ।
বসন্তের সাথে একাকার হয়ে বাংলাদেশে আজো উৎসবমুখর থাকবে চার দিক। ভালোবাসা দিবস এখন বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নতুন সংযোজন। তরুণ-তরুণীদের কাছে এর আকর্ষণ বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন উদ্যান, একুশে বইমেলা, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কফিশপ, ফাস্টফুড শপ প্রভৃতি স্থানে থাকছে দিবসটি উদযাপনের ঘটনা।
ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে কাহিনী-কিংবদন্তি অনেক। এটি স্পষ্ট, খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে রোমানরা এটি শুরু করেছিল নিজস্ব পার্বণ হিসেবে। ‘উর্বরতা ও জনসমষ্টির দেবতা’ লুপারকাসের সম্মানার্থেই দিবসটি পালন করা হতো। এর প্রধান আকর্ষণ ছিল লটারি। ‘বিনোদন ও আনন্দের’ জন্য যুবকদের মধ্যে যুবতীদের বণ্টন করে দেয়াই ছিল এই লটারির লক্ষ্য। পরবর্তী বছর আবার লটারি না হওয়া পর্যন্ত যুবকেরা এই ‘সুযোগ’ পেত।
ভালোবাসা দিবসের নামে আরেকটি ঘৃণ্য প্রথা ছিল, যুবতীদের প্রহার করা। সামান্য ছাগলের চামড়া পরিহিত দুই যুবক একই চামড়ার তৈরি বেত দিয়ে এ নির্যাতন চালাত। উৎসর্গিত ছাগল ও কুকুরের রক্তে এই যুবকদের শরীর থাকত রঞ্জিত। এ ধরনের ‘পবিত্র ব্যক্তিদের’ ‘পবিত্র’ বেতের একটি আঘাত খেলে যুবতীরা আরো ভালোভাবে গর্ভধারণ করতে পারবে বলে বিশ্বাস করা হতো।
খ্রিষ্টধর্ম এই কুপ্রথা বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এই প্রয়াসের অংশ হিসেবে প্রথমে মেয়েদের বদলে সন্ন্যাসীদের নামে লটারি চালু হয়। মনে করা হয়েছিল, এর ফলে যুবকেরা তাদের জীবনকে অনুসরণ করবে। খ্রিষ্টধর্ম এ ক্ষেত্রে শুধু এটুকুই সফল হলো যে, ভালোবাসা দিবসের নাম ‘লুপারক্যালিয়া’ থেকে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ হয়েছে। গেলাসিয়াস নামের পোপ ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে এটি করেন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের সন্ন্যাসীর সম্মানার্থে। তবে ৫০ জন ভ্যালেন্টাইনের কথা শোনা যায়। তাদের মধ্যে মাত্র দু’জন সমধিক পরিচিত। অবশ্য তাদের জীবন ও আচরণ রহস্যাবৃত। একটি মত অনুসারে, ভ্যালেন্টাইন ছিলেন ‘প্রেমিকের সন্ন্যাসী’। তিনি একবার কারাবন্দী হয়েছিলেন। কিন্তু সম্মোহিত হন কারাগারের অধিকর্তার কন্যার প্রেমে।
লটারি নিয়ে মারাত্মক সঙ্কট দেখা দেয়ায় ফরাসি সরকার ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন দিবস উদযাপন নিষিদ্ধ করে দেয়। এ দিকে সময়ের সাথে সাথে একপর্যায়ে ইতালি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানি থেকেও দিবসটি বিদায় নেয়। সপ্তদশ শতকে পিউরিটানরা প্রভাবশালী ছিল এবং ইংল্যান্ডেও ভালোবাসা দিবস নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা দ্বিতীয় চার্লস আবার এটি চালু করেন।
এ ছাড়া তৃতীয় শতকে রোমের যাজক ছিলেন দ্বিতীয় কাডিয়াস। সে সময় তার ঘোষণা অমান্য করে প্রথম ভ্যালেন্টাইন গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে বিশপ ভ্যালেন্টাইন ভালোবাসার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেন। তৃতীয় ভ্যালেন্টাইন উত্তর আফ্রিকার একটি রোমান সাম্রাজ্য উৎসর্গ করেন। ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া অনুসারে এই তিন ভ্যালেন্টাইন ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার জন্য আত্মাহুতি দেন। সেসব ইতিহাসের পথ ধরে ৪৯৮ সালে প্রথম জেলসিয়াস ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডের ঘোষণা দেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.