কুমিল্লা-২ আসনে আ’লীগের প্রার্থী ৭, বিএনপির ৫

হানিফ খান দাউদকান্দি (কুমিল্লা)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে জাতীয় পার্টির-১, আওয়ামী লীগের-৭ এবং বিএনপির-৫ প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদের কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। দল থেকে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দু’একজন। অপর দিকে এ আসন থেকে চারবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার গত ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্প্রতি এম কে আনোয়ারের বড় ছেলে মাহমুদ আনোয়ার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। একই আসনে একক প্রার্থী আছেন জাতীয় পার্টির। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন মহাজোট প্রার্থী, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মো: আমির হোসেন ভূঁইয়া। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে মহাজোটের সাথে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে গেলে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না মেনে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকের অভিমত গত ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন এ আসনে হতে দেবে না এখানকার রাজনীতিকেরা। আর যদি এমনটাই হয় তা হলে বিএনপির প্রার্থী খুব সহজেই বিজয়ী হবে। এ ছাড়াও এ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের প্রতি আগ্রহ রয়েছে অনেকের। এই আসনে বড় দু’দলেরই রয়েছে ব্যাপক সমর্থন তবে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গলের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। এ জন্য তিন দলই আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রস্ততি শুরু করেছে। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায়ও নেমে পড়েছেন বেশ আগে ভাগেই। বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেনÑ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মাহফুজুল ইসলাম, হোমনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক, কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতি ও হোমনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক ছাত্র নেতা এ কে এম ফজলুল হক মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ছাত্র নেতা মো: আখতার হোসেন। আওয়ামী লীগ থেকে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের হোমনা উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ, নিটল নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরী, তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার, হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান আবুল, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার হোসেন বাবু, আলহাজ এনামুল হক ইমন, আলহাজ মো: শাহ্ আলমসহ সাত নেতা। কুমিল্লা-২ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালে নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় মহাজোট প্রার্থী (জাতীয় পার্টির) আলহাজ মো: আমির হোসেন ভূঁইয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য আলহাজ মো: আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করব। সে হিসেবে কুমিল্লা-২ আসনে আমি জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী। তবে মহাজোট আমার ত্যাগ ও পরিশ্রম মূল্যায়ন করে আমাকে আবারও মনোনয়ন দিবে এটা আমার দৃঢ় বিশ^াস।
অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ আগামী নির্বাচনেও নৌকার কাণ্ডারি হতে চাইছেন। দলের হাইকমান্ড বরাবরই তার প্রতি সহানুভূতিশীল। অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই মনোনয়ন দিবেন বলে আমি আশাবাদী। সেলিমা আহমদ মেরী বলেন, আমি একজন নারী সংগঠক হিসেবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইব এবং আমি আশাবাদী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ছাত্র নেতা ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক এ কে এম ফজলুল হক মোল্লা বলেন, এর আগেও ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চেয়ে ছিলাম। এবারও মনোনয়ন চাইব। আমার বিশ্বাস দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো: পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, বিগত দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে ত্যাগের মহিমায় নিজেকে তুলে ধরেছি। সেকারণে আমি মনোনয়ন চেয়ে বিফল হবো না এটা আমার দৃঢ় বিশ^াস। হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান আবুল বলেন, এই আসনেরÑ বিশেষ করে হোমনায় আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবসময় সুখে-দুঃখে তাকেই কাছে পেয়েছে। সেকারণে তিনি দলে থেকে মনোনয়ন চাইবেন। বিএনপির মাহফুজুল ইসলাম বলেন, দলের দুর্দিনে চাওয়া-পাওয়াটা আমার কাছে মুখ্য বিষয় নয়। সংগঠনের জন্মলগ্ন থেকে কাজ করে যাচ্ছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে কাজ করতে আপত্তি নেই। বিএনপির অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা বলেন, ছাত্র জীবন থেকে এ পর্যন্ত অধিকারবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে এসেছি। বিএনপি ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে দল যদি মনোনয়ন দেয় সেখানে আমার কাজ করতে কোনো কৃপণতা থাকবে না। এ ছাড়া অন্য কাউকে মনোনীত করলে তার পক্ষেও কাজ করতে কোনো আপত্তি নেই। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: সারওয়ার হোসেন বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকে এমন নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হবে। সে হিসেবে আমি মনোনয়ন পাবো বলে শতভাগ আশাবাদী। বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার হোসেন বলেন, দেশ, দল ও এলাকাবাসীকে ভালোবাসি বলেই বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাই। দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড আমাকে মনোনীত করলেও কাজ করব না করলেও কাজ করব। আলহাজ এনামুল হক ইমন বলেন, বঙ্গবন্ধু তথা আওয়ামী লীগের রাজনীতি বুকে লালন করে চলেছি। আমি দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। আওয়ামী লীগ নেতা মো: শাহ ্আলম সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন বলে নিজেকে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য মনে করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.