ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

শীতলক্ষ্যা থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন

কাপাসিয়ায় দুই হাজার বর্গফুট জমি দেবে গেছে : যোগাযোগ বন্ধ

মোহাম্মদ আলী ঝিলন গাজীপুর

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট
শ্রীপুর-কাপাসিয়া সড়কের দস্যু নারায়ণপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এভাবে সড়ক দেবে গেছে :নয়া দিগন্ত

শ্রীপুর-কাপাসিয়া সড়কের দস্যু নারায়ণপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এভাবে সড়ক দেবে গেছে :নয়া দিগন্ত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সোমবার শীতলক্ষ্যা নদীর পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের দস্যু নারায়ণপুরে সড়ক ও সড়কের পাশের কলাবাগানসহ প্রায় দুই হাজার বর্গফুট জমি সমতল থেকে প্রায় ১০ ফুট গভীরে দেবে গেছে। এতে কাপাসিয়া ও শ্রীপুরের সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। একই এলাকায় একাধিকবার ভূমি দেবে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, কাপাসিয়া উপজেলার দস্যু নারায়ণপুর এলাকায় ভোরে গাছপালার মড় মড় ও শোঁ শোঁ শব্দে তারা ভূমি ধসের ভয়াবহতা দেখতে পান। এ সময় ওই এলাকার দস্যু নারায়ণপুর বাজারের পূর্ব পাশে শীতলক্ষ্যা নদী তীরের প্রায় ৬০০ ফুট দীর্ঘ এবং ৩০০ ফুট প্রশস্ত এলাকার ভূমি ধসে যায়। এতে ১৬ ফুট প্রস্থের প্রায় ৬০০ ফুট দীর্ঘ কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়ক, গাছ এবং সড়কের পাশের ফলবাগানসহ জমি সমতল থেকে প্রায় ১০ ফুট গভীরে দেবে গেছে। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমি দেবে যাওয়া অংশের দক্ষিণ পাশে অন্তত ১৫টি বাড়ি এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ওই এলাকায় এ পর্যন্ত চারবার ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরপর চারবার ভূমি ধসের কারণে ওই এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে আবাসিক এলাকার দিকে ঢুকে পড়েছে। সোমবারের এ ঘটনার পর থেকে কাপাসিয়া-শ্রীপুর সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০০৩ সালে ভূমিধসের পর জাইকা প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় ঘরবাড়ি ও সড়ক রক্ষায় শক্তিশালী বাঁধ দেয়ার পরার্মশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) সাধন দাস জানান, সোমবারের ভূমিধসের ঘটনা নিয়ে এখানে চারবার ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একই এলাকায় অনুরূপ ভূমি দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ মাটি ভরাট করে সড়কটি মেরামত করে। স্থানীয়রাও মাটি ভরাট করে তাদের জমি উঁচু করেছিল। ২০১৪ সালেও ওই এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ সোমবার চতুর্থবারের মতো আবারো একই এলাকায় ভূমি দেবে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর আগে ১৯৬৪ সনের ফেব্রুয়ারিতে ওই এলাকায় প্রথমবারের মতো ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা আরো জানান, অপরিকল্পিতভাবে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে একাধিকবার ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ভূমিধসের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে সিমিন হোসেন রিমি এমপি ওই সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত এ অংশে পাইলিংসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ব্যপারে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাকসুদুল ইসলাম জানান, কাপাসিয়া-শ্রীপুর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সড়ক চলাচল স্বাভাবিক করতে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে কাপাসিয়া-শ্রীপুর সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫