ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

রফতানি হচ্ছে যশোরের বিষমুক্ত সবজি

শেখ জালাল উদ্দিন যশোর অফিস

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

যশোরের বিষমুক্ত সবজি বিদেশে রফতানি হচ্ছে। জানা গেছে, যশোরে ১৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এ বছর রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। যশোরে উৎপাদিত বালাইমুক্ত নিরাপদ বাঁধাকপি, করলা, পটোল, মরিচ, কচুর লতিসহ বিভিন্ন সবজি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি কর্মকর্তারা। এর ফলে এই অঞ্চলের কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বাড়বে সরকারের রাজস্ব।’ গত ৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার যশোরের চূড়ামনকাটি আবদুলপুর এলাকা থেকে মংলা বন্দর হয়ে বাঁধাকপির একটি চালান তাইওয়ানে গেছে।
যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, দেশের মোট চাহিদার ৬৫ ভাগ সবজি উৎপাদন হয় যশোরে। মানসম্মত এসব সবজির সারা দেশেই চাহিদা রয়েছে। আর গত বছর থেকে যশোরের সবজি বিদেশে রফতানি শুরু হয়েছে। প্রথম বছর ১১০ টন বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিদেশে রফতানি করা হয়। আর এ বছর রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার ৮০০ টন। তবে এবার শুধু বাঁধাকপি ও ফুলকপি নয়, সাথে রফতানি হবে করলা, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, পটোল, কচুর লতিসহ বিভিন্ন সবজি। এ জন্য গত অক্টোবরে সদর উপজেলার ১৬২ জন কৃষকের সাথে একাধিক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী কৃষকের উৎপাদিত বালাইমুক্ত ও নিরাপদ সবজি পুরো ক্ষেত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয় করবে। আগে যে ক্ষেতের সবজি কৃষক ৩০ হাজার টাকা থেকে ৩২ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন, সেখানে এখন পাচ্ছেন অন্তত ৪০ হাজার টাকা। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
রফতানিকারকেরা বলছে ‘যশোর থেকে মংলা বন্দর দিয়ে এই প্রথম সবজি রফতানি করা হচ্ছে। প্রথম চালান হিসেবে ৪৮ টন বাঁধাকপি রফতানি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে আমরা ৯ টাকা থেকে ১২ টাকা দরে এ সব বাঁধাকপি ক্রয় করেছি।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে তারা রাসায়ানিক সার ও কীটনাশাক ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন বিষমুক্ত সবজি রফতানি হচ্ছে। রফতানি হওয়া এ সবজির দাম বেশি। তাই এখন সবজি ক্ষেতে ট্রাইকো কম্পোস্ট ও জৈব সার ব্যবহার করছি।
যশোর জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যশোরে চলতি বছর ১৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। জেলার সবজিভাণ্ডার বলে খ্যাত চূড়ামনকাটি, বারীনগর, হৈবতপুর, কাশিমপুর, বন্দবিলা, লেবুতলা, ইছালি ইউনিয়নের মাঠ জুড়ে বাঁধাকপি, ফুলকপি, সিম, মুলা, বেগুন, পটোল, ঝিঙা, কচুর লতিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। তবে সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের অভাবে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল অনেক সময় ক্ষেতেই নষ্ট হয়। এসব দিক বিবেচনা করে কৃষককে সবজি চাষে লাভজনক করে তুলতে বিদেশে সবজি রফতানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫