ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো বঞ্চিত

রেজাউল ইসলাম সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় চরাঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কর্মসূচি চলছে নামে মাত্র। উপজেলার নদী ভাঙনকবলিত এলাকায় সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি কেবল সংশ্লিষ্ট বিভাগের নথিপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকেরা বিদ্যালয় উপস্থিত থাকেন না। বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে মাসিক চুক্তিতে বদলি শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের দিয়ে। সহকারী শিক্ষা অফিসারদের নিয়মিত পরিদর্শনের অবহেলায় ওই সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের বেশির ভাগ শিশু স্কুলে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে গোবাদিপশুর পরিচর্যাসহ ক্ষেত খামারে কাজ করে পিতা-মাতাদের সহযোগিতা করছে।
উপজেলার তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদী ঘেঁষা কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, চন্ডিপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে কম পক্ষে ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন চিত্র যে, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা শিশুদেরকে এখনো উদ্বুদ্ধ করতে পারেনি। বেশির ভাগ শিশু হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় এদের বিদ্যালয়মুখী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না থাকায় চরাঞ্চলের বেশির ভাগ শিশু স্কুলে ভর্তি হয় না। দারিদ্র্যের করাল গ্রাসে একটু বড় হতে না হতেই এসব শিশু ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন। এরই ধারাবাহিকতায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শেষ না করেই অকালে ঝড়ে পড়ছে। স্কুলে নাম আছে তবে উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এ ছাড়া চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি একবারেই শূন্যের কোটায়। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের অস্তিত্বই মিলছে না। কর্মরত শিক্ষকেরা সপ্তাহে দুই থেকে এক-দিনের বেশি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। বদলি শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। এ দিকে স্থানীয় শিক্ষিত বেকারদের মাসিক তিন থেকে চার হাজার টাকার চুক্তিতে বদলি হিসেবে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান করানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা মাসে মাত্র দুই-এক দিন বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন। এভাবেই মাসিক রিপোর্ট দাখিল করে বেতন উত্তোলন করছেন শিক্ষকেরা। এ নিয়ে কথা হয় চরকাপাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লায়েক আলী খান মিন্টুর সাথে। তিনি জানান, তিন তিন বার তিস্তা নদীর ভাঙনে তার বিদ্যালয়টির অবকাঠামোসহ স্থানটি বিলীন হয়ে যায়। এ কারণে শিক্ষার্থী থাকলেও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ জানান, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষা অফিসারদের রিপোর্টের ভিত্তিতে বিল বেতন ছাড় করা হলেও সাতটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫