ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলার দিগন্ত

হরিণপালা রিভারভিউ ইকোপার্ক

উপকূলবাসীর বিনোদনের আকর্ষণীয় স্থান

দেলোয়ার হোসাইন পিরোজপুর

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নে কঁচা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠছে অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হরিণপালা রিভার ভিউ ইকোপার্ক।
ইতোমধ্যে এ পার্কটি নজর কেড়েছে পর্যটকদের। মনোরম এই পার্কে আছে বিভিন্ন ধরনের রাইড ও চমৎকার পানির ফোয়ারা। রয়েছে কৃত্রিমভাবে বানানো পশুপাখিও। ছুটির দিনগুলোতে এ ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে।
ছয় একর জমি নিয়ে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কঁচা নদীর তীর ঘেঁষে ইকোপার্কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। নদীর ঢেউ, পাখির কল-কাকলী ও আকাশের নীলিমার সাথে শুভ্র কাশবন মিলে, অপরূপ এক পরিবেশ হয় হরিণপালা রিভার ভিউ ইকোপার্কে। পার্কের মধ্যখানে আছে সুবিশাল এক পুকুর, তাতে নৌকায় চড়ে বৈঠা দিয়ে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে গিয়ে নোঙর করার আনন্দই যেন ফুরায় না।
হরিণপালা রিভার ভিউ ইকোপার্কের পাশে হরিণের অভয়ারণ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে আরো একটি দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক, যার আয়তন প্রায় ৭৪ একর। সুবিশাল এ পার্কটিকে উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ। এই পার্কে শিশুদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের রাইড। পার্কটির তিন পাশে খরস্র্রোতা নদী এবং ফুল ও প্রকৃতির মধ্যে আছে কৃত্রিম হাতি, ঘোড়া, বাঘ, বক, দোয়েলসহ নানা ধরনের জীবজন্তু।
পার্কটির রাতের দৃশ্যও মনোরম- দূর থেকে তাকালে মনে হবে পানিতে আলোর কোনো খেলা! দূর থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য পার্কটিতে থাকার ব্যবস্থাও আছে।
আছে ঘোড়ার গাড়ি। রাজধানী ঢাকায় গিয়ে যে ঘোড়ার গাড়ি দেখে মন জুড়ায় সে গাড়িও আছে এ ইকোপার্কে। পার্ক থেকে অনেক দূর, বহু দূরের কঁচা ও বলেশ্বর নদের ঢেউ আর নদীতে চলমান ছোট-বড় নৌযান দেখার জন্য আছে ওয়াচ টাওয়ার।
রেলগাড়ি আছে। বরিশাল বিভাগে রেললাইন না থাকলেও হরিণপালা পার্কে যে রেলগাড়ি রয়েছে তাতে চড়ে কিছুটা মনের আনন্দ উপভোগ করেন উপকূলের বাসিন্দারা।
কৃত্রিম পশুপাখি-প্রাণ নেই দেখলে বোঝার কোনো উপায় নেই গাছের একটু আড়ালে ওঁৎ পেতে বসে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি, তাকে দেখতেই সিংহ কিন্তু হুঙ্কাকার দিবে। সাবধানে আস্তে আস্তে হাটলেই দেখা যায় বক, দোয়েল, বানারসহ নানা ধরনের প্রাণী।
খাবারের জন্য মিনি চাইনিজসহ সব বাংলা খাবারের ব্যবস্তা রয়েছে। তারপর সব সময় আছে ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিমসহ ফাস্টফুডের সব খাবার। দেশের যে কোনো স্থান থেকে সড়ক পথে পিরোজপুর বা বরিশাল থেকে মঠবাড়িয়ার গাড়িতে উঠে নামতে হবে তুষখালী। সেখান থেকে অটো রিকশা, মোটরসাইকেল, রিকশায় হরিণপালা ইকোপার্ক।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের কাছে দাবি পর্যটন করপোরেশনের অধীনে এখানে রেস্তোরাসহ মোটেল তৈরি করা হোক।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫