আদমদীঘিতে ছেঁড়া-ফাটা বই সরবরাহ : বিপাকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা

বগুড়া অফিস ও আদমদীঘি সংবাদদাতা

সারা দেশের মতো আদমদীঘিতে বছরের শুরুতে ছাত্রছাত্রীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হলেও বইগুলো ছেঁড়া, ত্রুটিপূর্ণ, এক সেলাই ও পৃষ্ঠাহীন হওয়ায় ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন বই পাওয়ার আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। শিক্ষকেরা বই পড়াতে গিয়ে পড়ছেন বিপাকে। অভিভাবকেরা বারবার স্কুলে গিয়ে বইগুলো সম্পর্কে জবাব চাইছেন শিক্ষকদের কাছে। এতে শিক্ষকেরাও সঠিক জবাব দিতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন।
দেখা গেছে, বেশ কিছু বইয়ের বেশির ভাগ পৃষ্ঠা নেই। এ ছাড়া সেলাইবিহীন কিছু বইয়ের পাতা ছেঁড়া-ফাটা। যেমন চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা বইয়ের ১৯ পৃষ্ঠা থেকে ৫৪ পৃষ্ঠা নেই, বিজ্ঞান বইয়ের ১৩ পৃষ্ঠা থেকে ৭৬ পৃষ্ঠা নেই, ইসলাম ধর্ম বইয়ের ১৩ পৃষ্ঠা থেকে ৭৬ পৃষ্ঠা নেই। তৃতীয় শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দুই পৃষ্ঠা থেকে ১০ পৃষ্ঠা নেই। দ্বিতীয় শ্রেুণীর ইংরেজি বইয়ের দুই পৃষ্ঠা থেকে ১০ পৃষ্ঠা নেই। এ ছাড়া কোনো কোনো বইয়ের পৃষ্ঠায় বানান ভুলও রয়েছে। কোনো বই হয়নি সেলাই করা নেই। ইতোমধ্যে অনেক ছাত্রের বইয়ের আঠা খুলে গেছে। স্কুলগুলোতে বছরের শুরু থেকে পাঠদান শুরু হলেও ত্র“টিপূর্ণ বইয়ের কারণে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
আদমদীঘি উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে আদমদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেজি ও এনজিও চালিত ১৫৪টি স্কুলের জন্য বইয়ের চাহিদা দেয়া হয়েছিল এক লাখ ছয় হাজার ৩৫০টি। সে মোতাবেক সব বই-ই পেয়েছে শিক্ষা অফিস। বই বিতরণ করা হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৪০টি। অবশিষ্ট রয়েছে ছয় হাজার ২১০টি।
উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, বাকি বইগুলো পরে জেলা শিক্ষা অফিস টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে। জানুয়ারি মাস শেষ হয়ে গেলেও ত্র“টিপূর্ণ বই পাওয়া ছাত্রছাত্রীরা এক দিকে যেমন লেখাপড়া করতে পারছে না, অপর দিকে পড়াশোনার উৎসাহও হারিয়ে ফেলছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষা অফিস জানায়, ত্র“টিপূর্ণ বইয়ের তালিকা তৈরি করে শিক্ষা অফিসে দেয়ার জন্য স্কুলগুলোকে জানানো হয়েছে; কিন্তু অদ্যাবধি ওই তালিকা পায়নি শিক্ষা অফিস। অভিভাবকেরা বলছেন, ‘সময়ের কাজ সময়ে না হলে ছাত্রছাত্রীদের এই পড়ালেখার দায় দায়িত্ব কে নেবে?’
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাজ্জাদ জাহিদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, এই ত্র“টিপূর্ণ বইগুলোর বিষয়ে তিনি জেলা মিটিংয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.