ঢাকা, সোমবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে বিক্ষোভকারীদেরকে সশস্ত্র হতে উসকানি দিয়েছে পশ্চিমা গণমাধ্যম: রাশিয়া

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৬:১৩


প্রিন্ট
ইরানে বিক্ষোভকারীদেরকে সশস্ত্র হতে উসকানি দিয়েছে পশ্চিমা গণমাধ্যম: রাশিয়া

ইরানে বিক্ষোভকারীদেরকে সশস্ত্র হতে উসকানি দিয়েছে পশ্চিমা গণমাধ্যম: রাশিয়া

ইরানের সাম্প্রতিক গোলযোগ সৃষ্টির প্রচেষ্টায় পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বিক্ষোভকারীদের উসকানি দিয়েছে বলে একজন রুশ কূটনীতিক খবর দিয়েছেন। তেহরানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত লাওয়ান জাগারিয়ানের বরাত দিয়ে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস এ খবর জানিয়েছে।

জাগারিয়ান বলেছেন, ইরাকে কয়েক সপ্তাহ আগের গোলযোগ সৃষ্টির প্রচেষ্টায় বিবিসি ফার্সি, ভয়েস অব আমেরিকার ফার্সি বিভাগ এবং পিপলস মুজাহেদিন নামে খ্যাত সন্ত্রাসী মুনাফেকিন গোষ্ঠীর ওয়েবসাইট উসকানিদাতার ভূমিকা পালন করেছে।

জাগারিয়ান আরো বলেন, এসব গণমাধ্যম গোলযোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য বিক্ষোভকারীদেরকে সহিংস আচরণ করতে এমনকি সশস্ত্র হতে উসকানি দিচ্ছিল। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কয়েকটি শহরে কিছু মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এভাবে কয়েকদিন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলার পর ইরানের শত্রুরা এই প্রতিবাদকে সহিংসতার দিকে নিয়ে যায় এবং গোলযোগ সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু ইরানের সচেতন জনগণ শত্রুর ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা ভণ্ডুল হয়ে যায়।

রাশিয়ার সুখোই সুপারজেট ১০০ আসছে ইরানে

রাশিয়ায় নির্মিত সুখোই সুপারজেট ১০০ মডেলের একটি বিমান সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে। বিমানের সঙ্গে রাশিয়ার একটি ইঞ্জিনিয়ার দলও থাকবে। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজা জাফরজাদেহ এ তথ্য দিয়েছেন।

তিনি জানান, ইরানের বিমান সংস্থা দেশের বিমান বহর উন্নত করার জন্য নানা বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। তারই অংশ হিসেবে রুশ সুখোই সুপারজেট ১০০ বিমান আসছে তেহরানে। এ বিমানে ১০০টি আসন থাকে এবং অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলের জন্য বেশ উপযোগী।

এর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে রুশ জ্বালানিমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছিলেন, তার দেশ ইরানের কাছে বিমান বিক্রি করতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, দু দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

২০১৫ সালে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু সমঝোতা সই হওয়ার পর তেহরান তার যাত্রীবাহী বিমান বহরকে আধুনিকায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরইমধ্যে ইরান পশ্চিমা বিমান কোম্পানি এয়ারবাস, বোয়িং এবং এটিআর’র সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং কিছু বিমান তেহরান এসে পৌঁছেছে। তবে পশ্চিমা গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে, পরমাণু সমঝোতা বিরোধী মার্কিন অবস্থানের কারণে এসব চুক্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ভয়ঙ্কর ও খারাপ চুক্তির কারণে লাভবান হচ্ছে ইরান : ট্রাম্প

পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতাকে আবার ‘সবচেয়ে খারাপ চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি রোববার ইহুদিবাদী ইসরাইলি দৈনিক 'ইসরাইল হাইওম’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প এর আগেও বহুবার পরমাণু সমঝোতার অন্য পক্ষগুলোর বিপরীতে অবস্থান নিয়ে দাবি করেছেন, এটি একটি ‘ভয়ঙ্কর ও খারাপ’ চুক্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, পরমাণু সমঝোতায় শুধুমাত্র ইরান লাভবান হচ্ছে। এ কারণে তিনি এ সমঝোতার কিছু ধারায় পরিবর্তন আনতে এবং সম্ভব হলে এটি পুরোপুরি বাতিল করতে চান।

তবে এ সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী অন্য পক্ষগুলো অর্থাৎ ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও রাশিয়া মনে করছে, এই সমঝোতা দু’পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষা করছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এটিকে হুবহু বহাল রাখা উচিত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি ইরানের পরমাণু সমঝোতা অর্জনের দীর্ঘমেয়াদি আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি এ পর্যন্ত বহুবার বলেছেন, এটি কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নয় যে, যেকোনো একটি দেশ তাতে পরিবর্তন আনতে বা তা বাতিল করতে পারে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫