ঢাকা, রবিবার,১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিবিধ

আফগানিস্তানে বছরে ৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয় না করে দেশে খরচ করুন: ট্রাম্পকে পল

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৫:৪৭


প্রিন্ট
আফগানিস্তানে বছরে ৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয় না করে দেশে খরচ করুন: ট্রাম্পকে পল

আফগানিস্তানে বছরে ৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয় না করে দেশে খরচ করুন: ট্রাম্পকে পল

মার্কিন রিপাবলিকান দলের সিনেটর র‍্যান্ড পল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন সেনা মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে সেই অর্থ দেশের কাজে খরচ করা উচিত।

তিনি বলেন, আমি মনে করি আফগান যুদ্ধ অনেক আগেই তার মিশন শেষ করেছে। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস-কে রোববার পল এসব কথা বলেছেন।

মার্কিন এ সিনেটর আরো বলেন, আমি মনে করি এখন জাতি গঠনের কাজ করা দরকার। আমরা প্রতিবছর আফগানিস্তানে পাঁচ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করছি। প্রেসিডেন্ট যদি আন্তরিক হন তাহলে বিশাল এ অর্থ দেশের জন্য খরচ করতে পারেন।

কেনটাকির এ সিনেটর বলেন, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজ আমেরিকার না কিংবা পাকিস্তানের কোনো সেতু বা ভবন নির্মাণও আমেরিকার দায়িত্ব নয়।

গত ২১ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা বাড়ানো হবে। অথচ নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় যেতে পারলে তিনি আফগানিস্তান থেকে সেনা ফেরত নেবেন।

মার্কিন সহায়তায় যেভাবে আফগানিস্তানে ঢুকছে আইএস

রুশ প্রেসিডেন্টের দূত জামির কাবুলভ বলেছেন, আমেরিকা আইএস উগ্রবাদীদেরকে আফগানিস্তানে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। সিরিয়া ও ইরাকে পরাজিত হওয়ার পর আইএস সদস্যরা এখন আফগানিস্তানে এসে জড়ো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আফগানিস্তানে রুশ প্রেসিডেন্টের দূত গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘এটা উল্লেখযোগ্য যে, বহু সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা যাচ্ছে উগ্রবাদীরা অস্ত্রসহ হেলিকপ্টারে করে আফগানিস্তান ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে। তাদেরকে কোনো বাধা দেয়া হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানের আকাশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আমেরিকা ও ন্যাটোর হাতে। এটা অবিশ্বাসের কোনো কারণ নেই যে, এ ক্ষেত্রে তাদের হাত রয়েছে। অন্তত এটাতো ঠিক যে, আমেরিকা ও ন্যাটো দায়েশের হেলিকপ্টার চলাচলে বাধা দেয়নি।

গত নভেম্বরে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই আল-জাজিরা টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, আমেরিকা আফগানিস্তানে আইএসের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করেছে। এর ভিত্তিতে তারা আফগানিস্তানে আইএসকে অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ দিচ্ছে। সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আমেরিকা আফগানিস্তানে নিজেদের সেনা উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে সেখানে আইএস সদস্যদের জড়ো করছে।

 

‘নতুন করে আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র’

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক শাহ বাহরামির সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে বলেছেন, আফগানিস্তানে নিরাপত্তা এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি।

বিদেশি জবরদখলের ফলে আফগানিস্তানে গত প্রায় চার দশক ধরে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানে দায়েশ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, সেদেশে দীর্ঘ মেয়াদে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য আমেরিকা পরিকল্পিতভাবে দায়েশকে দিয়ে নতুন করে আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

ইরানের কর্মকর্তারা মনে করেন, আফগানিস্তানসহ এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার বিষয়টি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বিদেশিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রীও বলেছেন, কাবুল ও তেহরানের উচিত হবে না অভিন্ন শত্রুর ব্যাপারে উদাসীন থাকা এবং অবশ্যই সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় এ দু'দেশের মধ্যে সহযোগিতা বজায় রাখা উচিত।

ইরানের জাতীয় উচ্চ পরিষদের সচিব আলী শামখানি এ ব্যাপারে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতির লক্ষ্যে অজুহাত সৃষ্টির জন্য সেদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ইরান সব রকম উপায় উপকরণ ব্যবহার করবে।

আমেরিকা আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। এ ব্যাপারে আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক শাহ বাহরামি বলেছেন, বর্তমানে তার দেশে ২০ হাজার সন্ত্রাসী তৎপর রয়েছে। যদি সন্ত্রাসীদেরকে তাদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে গোট ওই অঞ্চলই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫