‘রাখাইনের বিভীষিকা সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না সুচি’
‘রাখাইনের বিভীষিকা সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না সুচি’

‘রাখাইনের বিভীষিকা সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না সুচি’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত বিভীষিকাময় ঘটনা সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না মিয়ানামারের কার্যত নেত্রী অং সান সুচি। রাখাইন রাজ্য ও মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলো সফর এবং সুচির সঙ্গে বৈঠকের পর বিবিসি’র কাছে জনসন এ মন্তব্য করেন।

মিয়ানমার সফরের আগে বরিস জনসন বাংলাদেশ সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরে তিনি চট্টগ্রামের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরিগুলো ঘুরে দেখেন।

ইয়াঙ্গুনে সুচির সঙ্গে বৈঠকের পর বরিস জনসন বলেন, সত্যি কথা বলতে কী, আমি আসলেই মনে করি না যে, রাখাইনের বিভীষিকাময় ঘটনা সম্পর্কে সুচি পুরোপুরি জানেন। আমি মনে করি না যে, আমরা যা দেখেছি তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে তা দেখেছেন। আমি তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল কিন্তু মিয়ানমারে যা ঘটেছে তা দেখে আমি অত্যন্ত দুঃখিত।

রাখাইনের ঘটনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপদে দেশ ফেরার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জনসন।

গত কয়েক মাস ধরে রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। মিয়ানমারের উগ্রবাদী বৌদ্ধ সন্ত্রাসী ও দেশটির সামরিক বাহিনীর বর্বর হামলার মুখে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান মারা গেছেন।

এছাড়া, লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান টিকতে না পেরে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত ব্রিটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারের ওপর বড় রকেমর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হয়নি।

 

মিয়ানমারে সুচির বাসভবন চত্বরে বোমা নিক্ষেপ

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’র ইয়াংগুনের বাসভবন চত্বরে বৃহস্পতিবার সকালে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। স্টেট কাউন্সিলর দপ্তরের মহাপরিচালক উ জাউ হতে একথা জানান। খবর সিনহুয়ার।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।’
স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ দুস্কৃতকারীকে গ্রেফতারে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এ সময় অং সান সুকি নেপিদোতে ছিলেন।

 

সুচির পদত্যাগ চান পপ তারকা বোনো

অং সান সুচি যখন গৃহবন্দী ছিলেন, তখন তাঁর মুক্তির দাবিতে বিশ্বজনমত গঠনে সবচেয়ে সরব ভূমিকা পালনকারীদের একজন ছিলেন রক ব্যান্ড ইউ-টু'র বোনো। কিন্তু সেই বোনো এখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিপীড়ন-হত্যার জন্য অং সান সুচির পদত্যাগ দাবি করেছেন।

২০০০ সালে বোনো অং সান সুচিকে নিয়ে একটি গান পর্যন্ত বেঁধেছিলেন। 'ওয়াক অন' নামের এই গানটি ২০০২ সালে গ্র্যামি এওয়ার্ড পর্যন্ত জিতেছিল। বোনো এমনকি এই গানটি বাজানোর সময় তাঁর সমর্থকদের অং সান সুচির মুখোশ পরতে আহ্বান জানাতেন।

কিন্তু বোনো এখন বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং সেখানে রক্তপাতের ছবি দেখে তার বিবষিমা হচ্ছে। রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি সত্যিই অসুস্থ বোধ করছি। কারণ সব প্রমাণ যেদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছে তা দেখে আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না। কিন্তু সেখানেই আসলেই জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে।

এটা সত্যি সত্যি ঘটছে এবং তাঁকে (অং সান সুচি) পদত্যাগ করতে হবে কারণ তিনি জানেন এটা ঘটছে। তার তো অন্তত এটা নিয়ে আরও বেশি কথা বলা উচিত। আর যদি তার কথা কেউ না শোনো, তার পদত্যাগ করা উচিত।

জাতিসংঘ সহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা ঘটছে তাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে বর্ণনা করেছে। নব্বই এর দশকে অং সান সুচি যখন মিয়ানমারে গণতন্ত্রের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন বিশ্বজুড়ে অনেক তারকা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, তার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করেছিলেন।

২০১৫ সালে অং সান সুচি যখন মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসলেন তখন তার সমর্থকরা ছিলেন উল্লসিত। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিপীড়ন শুরু হওয়ার পর খুব তাড়াতাড়ি তাদের মোহভঙ্গ ঘটে। তাদের অনেকেই সুচির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হন।

এ মাসেরই শুরুতে আরেক আইরিশ পপ তারকা বব গেলডফ একই রকমভাবে অং সান সুচির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির ভূমিকার প্রতিবাদে তিনি ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব ডাবলিন পুরস্কার ফিরিয়ে দেবেন। কারণ সুচিকেও এই একই পুরস্কার দেয়া হয়েছে।এরপর অবশ্য সিটি অব ডাবলিন আং সান সুচিকে দেয়া এই পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.