ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ঢাকা

ঝরে পড়ছে গোলাপ বাগানের ফুলগুলো

আমান উল্লাহ পাটওয়ারী সাভার (ঢাকা)

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৩:৩৭


প্রিন্ট
সাভারে গোলাপবাগানে অজ্ঞাত রোগ : লোকসানে চাষিরা

সাভারে গোলাপবাগানে অজ্ঞাত রোগ : লোকসানে চাষিরা

সাভারের গোলাপ বাগানে অজ্ঞাত রোগে ফুল ঝরে পড়ছে। সাথে গাছের মাথাও মরে যাচ্ছে। ফলে চাষিরা আছে লোকসানের মধ্যে। প্রতিবছর সাভারের ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবসায় করেন। সেখানে এ বছর গোলাপ বাগানে অজ্ঞাত রোগের কারণে ব্যবসায় দূরে থাক আসল পুঁজি উঠানো নিয়ে চিন্তায় রয়েছে তারা। চাষিদের অভিযোগ, রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে উপজেলার কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই সাভার উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক চাষি বাণিজ্যিকভাবে গোলাপের চাষ করছে। সাভারে গোলাপ চাষ করে যেখানে চাষিদের ভাগ্য বদলানোর কথা, সেখানে বাগানে গেলে দেখা যায় শুধু গাছ। ব্যবসায়ীরা বলছে অনেক আশা নিয়ে পুঁজি খাটিয়ে তারা এখন লোকসান গুনছে।

সরেজমিন ঘুরে, চাষি এবং কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন রাজধানীর পাশের সাভার উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম বিরুলিয়া ইউনিয়ন। কৃষিনির্ভর ইউনিয়নটির শতকরা নব্বই ভাগ লোকই বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফুল চাষের সাথে জড়িত। সাভার উপজেলার মাটি ফুল চাষের জন্য সহায়ক। ১৯৮০-৮২ সালের দিকে হল্যান্ড থেকে এ জাতের ফুল বীজ এনে রাজধানীর মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে রোপণ করা হয়। তখন থেকে এর শুরু হয় ফুল চাষ।

১৯৮৫-৮৬ সালের গোড়ার দিকে সেখানকার এক গবেষক সাভারের সাদুল্লাহপুর মোস্তাপাড়া গ্রামে এর বীজ রোপণ করেন। এর পর থেকে শুরু হয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ ফুলের চাষ। বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর, বাঘœীবাড়ী, মইস্তাপাড়া, কাকাবর, সামাইর, সাদুল্লাহপুর, শ্যামপুর, আকরাইন, সাভারের রাজাশন, নামাগেণ্ডা, কাতলাপুর, কমলাপুর ও সাভারের বনগাঁ ইউনিয়নের কিছু অংশসহ ৭ শ’ একর জমিতে অর্ধশত গ্রামে দুই শতাধিক চাষি গোলাপের আবাদ করছে। গোলাপ ফুল ছাড়াও রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাসের চাষ করা হয়। আর তা ছড়িয়ে পড়ে সাভারের বিভিন্ন স্থানসহ আশপাশের জেলা ও পুরো দেশে।

রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস ও বিভিন্ন ধরনের গোলাপের চাষ হওয়ায় গোটা ইউনিয়নের পরিচয় এখন গোলাপ গ্রাম নামে। অজ্ঞাত রোগে গেল বছরের নভেম্বর থেকে গোলাপ ফুলগাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার গোলাপ চাষিদের মাথায় হাত। বাগান নষ্টের কারণে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় ফুলচাষিরা। এ ফুলগুলো ঢাকার শাহবাগ, কাওরানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকাররা নিয়ে বিক্রি করেন। এ সময় গোলাপের দাম ভালো থাকায় দিন-রাত পরিশ্রম করেও কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটে উঠে। কিন্তু এবার তার উল্টো চিত্র লক্ষ্য করা গেছে গোলাপ গ্রামে। ফুল, গাছে মড়ক লাগায় গোলাপ গ্রামের বেশির ভাগ বাগানেই এখন নেই কোনো গোলাপ।

বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈরের ফুলচাষি আওলাদ হোসেন বলেন, ২০০ শতাংশ জায়গায় ফুলচাষ করছি। তিন মাস হয় ভাইরাস রোগে আমার সব শেষ। সাভার উপজেলায় গাছ পাঠানো হয়েছে। কোনো রোগ ধরতে পারেনি। এ বছর আমার চাষে খরচ হয়েছে চার লাখ টাকা। মওসুমে আমার ৫০ লাখ টাকা লাভ হতো। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো টাকা পকেটে নিতে পারিনি। তিনি আরো জানান, আমার সব শ্রমিক ছাঁটাই করে দিয়েছি। কারণ একজন শ্রমিককে প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বেতন দিতে হতো।

তিনি আরো বলেন, অজ্ঞাত রোগের কারণে কলি ধরার পর হঠাৎ করে রোগের আক্রমণে সব নষ্ট হয়ে লোকসানের মুখে পড়েছি। জৈব ও টিএসপি সার ছিটিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে বারবার মিলছে না কোনো প্রতিকার।

কথা হয় আরেক চাষি আজিজুল হকের সাথে। তিনি বলেন, ফুলে মড়ক লাগার পর আমরা প্রথমে উপজেলা কৃষি অফিসের স্মরণাপন্ন হলে তারা আমাদের ডিইপিজেডে মাটি নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু ওইখানেও কোনো ভালো রেজাল্ট আমরা পাইনি।

সাভার উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ মফিদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, এ বছর জানুয়ারি মাসে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় এবং প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে তাপমাত্রা অনেক কমে গেলে গোলাপ ফুলের বাগানে ছত্রাকজনিত একটি রোগ হয়। তিনি আরো জানান, যে বাগানগুলো নিচ জায়গায় সেগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিষয়টি জানার পর অন্তত ৪০ বার ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গিয়েছি। রোগ থেকে মুক্তির জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, বর্তমানে বাগানে ফুল আসছে। গাছে পাতা গজাচ্ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫