জনতার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন
জনতার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন

'বিএনপির বিনাশ চেয়ে নিজেরাই অস্তিত্ব সঙ্কটে'

খুলনা ব্যুরো

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল খুলনায় বিএনপির মহানগর ও জেলা শাখা কেডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৃথকভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মহানগর শাখার মানববন্ধন চলাকালে বক্তৃতায় মহানগর শাখার সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মুক্ত খালেদা জিয়ার চাইতে কারাবন্দী খালেদা জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী। খালেদা জিয়াকে জেলে দিয়ে যারা বিএনপির বিনাশ চেয়েছিল, সে আওয়ামী লীগই এখন নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে সঙ্কটে পড়ছে। গণতন্ত্রের সংগ্রামের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে জনগণের সমর্থন বেড়েই চলেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জেলে পাঠিয়ে, নির্বাচনে অযোগ্য করে আর একটি বাকশাল মার্কা নির্বাচনের আয়োজন করলে এমন পরিস্থিতি হবে যা সামাল দেয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের রক্ষক পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হবে না। খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, ৯ বছরের দুঃশাসনকে আরো দীর্ঘায়িত করতে শেখ হাসিনার ইচ্ছায় আদালত সাজানো পাতানো বানোয়াট মামলায় খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে। সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে, দেশকে ভারতের বাজারে পরিণত করেছে, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করেছে, প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে, ইসলামি মূল্যবোধকে পদদলিত করেছে। তারেক রহমানকে যে বিচারক খালাসের রায় দিয়েছিলেন, জীবন বাঁচাতে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে বাকশাল করতে হচ্ছে। সরকার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আবার সাজানো পাতানো ভোট করতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন। সে চেষ্টা করা হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

খুলনা জেলা বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সহসভাপতি ডা: গাজী আবদুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃৃতা দেন সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, মুজিবর রহমান, খান জুলফিকার আলী জুলু, মনিরুজ্জামান মন্টু, এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, শেখ আব্দুর রশিদ, চৌধুরী কওসার আলী, শরিফুল ইসলাম জোয়াদ্দার খোকন, এস এ রহমান বাবুল, অ্যাডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা, আব্দুর রকিব মল্লিক, মোস্তফা উল বারী লাভলু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, খান আলী মুনসুর, অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, সাইফুর রহমান মিন্টু, কাওসার আলী জমাদ্দার, কামরুজ্জামান টুকু, আশরাফুল আলম নান্নু, মেজবাউল আলম, আলী আসগার, শামসুল আলম পিন্টু, মোশারফ হোসেন মফিজ, অ্যাডভোকেট কে এম শহিদুল আলম, মোল্লা এনামুল কবীর, মুর্শিদুর রহমান লিটন, ওয়াহিদুজ্জামান রানা, খায়রুল ইসলাম খান জনি ও মোল্লা সাইফুর রহমান।

জনতার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন

সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা বলেছেন, ভুয়া মামলায় অবৈধ সাজা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করে সরকার ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ফরমায়েসি সাজা দেশে নবরূপে বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রেরই অংশ। কিন্তু এর পরিণতি অবৈধ সরকারের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। তারা বলেন, মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার আগেই খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

সোমবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় অন্যায় সাজা, খালেদা জিয়াকে কারাগারের প্রেরণের প্রতিবাদে নগরীর চৌহাট্টার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিশাল মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর বিএনপি ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা দল, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস ও ওলামা দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল ও মহানগর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত চৌধুরী সাদেকের যৌথ পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন- বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আলহাজ এম এ হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা: শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.