ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজনীতি

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নেতাকর্মীদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০৬:১৩


প্রিন্ট
নেতাকর্মীদের ঢল

নেতাকর্মীদের ঢল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। গতকাল এক মানববন্ধনে তারা এ হুঁশিয়ারি দেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন’ ‘বানোয়াট’ মামলায় সাজা দেয়ার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি ছিল। গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশে মানববন্ধন করেন দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী। ঢাকায় মানববন্ধনে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছিল।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে সচিবালয়ের মোড় এবং কদম ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত কয়েক লাইনে বিভক্ত হয়ে নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে মানববন্ধনে দাঁড়ান। পুরো এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক মানববন্ধনে অংশ নেন।
কর্মসূচির নির্ধারিত সময়ের আগে সকাল ১০টা থেকেই মানববন্ধনে দলটির নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হন। তাদের মুখে মুখে উচ্চারিত হতে থাকে ‘বন্দী আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাবো না’, ‘হামলা করে আন্দোলন- বন্ধ করা যাবে না’, ‘জেল-জুলুম টিয়ার গ্যাস, জবাব দেবে বাংলাদেশ’- ইত্যাদি স্লোগান। নেতকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রেস ক্লাব চত্বর। মানববন্ধনে বিএনপি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন তারা।

এ মানববন্ধনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতা এবং ব্যাপক সংখ্যক মহিলা কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। মানববন্ধনকে ঘিরে প্রেস ক্লাবের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিত থাকলেও কর্মসূচিতে তারা কোনো বাধা দেননি।

মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের বিরুদ্ধে আপনাদের যে ক্ষোভ, আপনাদের যে হতাশা, বেগম জিয়ার প্রতি আপনাদের যে ভালোবাসা সেটি আপনারা প্রকাশ করেছেন। এই মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে বেগম জিয়া এ দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, দেশনেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন, আপনাদের ধৈর্য ধরতে, শান্ত হতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে। আমাদের এই কর্মসূচি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করবার জন্য, আমাদের এই কর্মসূচি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। এই মুহূর্তে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তার মুক্তি আমরা চাই।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দেশনেত্রীকে নিয়েই আমরা আগামী নির্বাচনে যাবো। দেশনেত্রী ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা সহায়ক সরকার চাই, আমরা একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করে দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন করতে চাই। আসুন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে দেশনেত্রীকে কারামুক্ত করি। দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান বিএনপি মহাসচিব।

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মোহাম্মদ শাহজাহান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, শওকত মাহমুদ, মাহমুদুল হাসান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, মো: শাহজাদা মিয়া, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়–য়া, ড. মামুন আহমেদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ডা: রফিকুল কবির লাবু, জয়নাল আবদীন ফারুক, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিরিন সুলতানা, ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বেবী নাজনীন, এমরান সালেহ প্রিন্স, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিনুল হক, শামীমুর রহমান শামীম, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল খান, ড. মোর্শেদ হাসান খান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, হারুনুর রশিদ, কাদের গণি চৌধুরী, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার, রাশেদা বেগম হীরা, রফিক সিকদার, শেখ রবিউল আলম রবি, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, তাবিথ আউয়াল, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুন রায়, ঢাকা মহানগরীর কাজী আবুল বাশার, তানভীর আহমেদ রবিন, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নূরুল ইসলাম নয়ন, মাহবুবুল হাসান পিঙ্কু, রফিক আহমেদ ডলার, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহম্মেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফা, সাদেক আহমেদ খান, ছাত্রদলের মামুনুর রশিদ মামুন, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, আসাদুজ্জামান আসাদ, মফিজুর রহমান আশিক প্রমুখ।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রীকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। এটি দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে, আমাদের সব নেতার বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। চার দিন ধরে ডিভিশন না দিয়ে সরকার আমাদের নেত্রীকে একজন সাধারণ বন্দী হিসেবে কষ্ট দিয়েছে। সরকার জেলকোড ভঙ্গ করেছে। আমরা সরকারের এ কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মির্জা আব্বাস বলেন, যত ষড়যন্ত্র হোক আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাকে ছাড়া কেউ নির্বাচনের চিন্তা করলে সেটি হবে দুঃস্বপ্ন।

এ দিকে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিসের শেখ গোলাম আসগর, তোফাজ্জল হক মিয়াজী, মাওলানা আজিজুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, এনডিপির গোলাম মোর্ত্তজা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, লেবার পার্টির একাংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অন্য অংশের হামদুল্লাহ আল মেহেদী, জাগপার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান, বেলায়েত হোসেনসহ জোটের নেতারা, জিয়া পরিষদের আবদুল্লাহিল মাসুদসহ অনেকেই কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫