ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সিলেবাস

জীববিজ্ঞান দশম অধ্যায় : সমন্বয়

সুনির্মল চন্দ্র বসু সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব ডিগ্রি কলেজ, কাদেরনগর, সখীপুর, টাঙ্গাইল

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সুপ্রিয় ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের জীববিজ্ঞান বিষয়ের ‘দশম অধ্যায় : সমন্বয়’ থেকে একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নিচের চিত্রটি লক্ষ করে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

 

 

 

 


ক. প্রতিবর্তী ক্রিয়া কী? ১
খ. প্রাণরস কাকে বলে বুঝিয়ে লিখ। ২
গ. মানবদেহে উদ্দীপনা তৈরিতে ‘অ’ চিহ্নিত অংশটির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. উক্ত কোষটির গঠন প্রকৃতি একটি সাধারণ কোষ অপেক্ষা ভিন্নতর যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো। ৪
উত্তর : ক. যেসব উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে।
খ. নালিবিহীন গ্রন্থি নিঃসৃত রসকে প্রাণরস বলে। রক্তের মাধ্যমে প্রাণরস বা হরমোন বিভিন্ন স্থানে যায়।
গ. চিত্রের অ চিহ্নিত অংশ হলো নিউরন।
দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের কাজের সমন্বয় সাধনে এ নিউরনের ভূমিকা অসামান্য। নিউরন বা স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা বা স্নায়ুতাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। একটি নিউরন প্রধানত তিনটি অংশ যথাÑ কোষদেহ, ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন নিয়ে গঠিত। এভাবে অসংখ্য নিউরনের সমন্বয়ে গঠিত স্নায়ুতন্ত্র। পরপর দু’টি নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়। প্রথম নিউরনের অ্যাক্সন গৃহীত উদ্দীপনা মূলত সিনাপসের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় নিউরনের ডেনড্রাইটে প্রেরণ করে। এভাবে সিনাপসের মধ্য দিয়ে এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে উদ্দীপনা প্রেরণ করা হয়, যা ক্রমান্বয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছে। ফলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ সিনাপসের মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা-পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়। সুতরাং বলা যাচ্ছে যে, উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে নিউরনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ঘ. উদ্দীপকে প্রদর্শিত কোষটি হলো নিউরন বা স্নায়ুকোষ। একটি সাধারণ কোষ থেকে এ কোষটির গঠন ভিন্নতর। নিচে এর সপক্ষে যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলোÑ
১. দেহকোষ সাধারণত গোলাকার, সর্পিলাকার, চ্যাপ্টা প্রভৃতি আকৃতির হতে পারে। কিন্তু স্নায়ুকোষ লম্বাটে অনেকটা সুতার মতো।
২. দেহকোষে সাধারণত সাইটোপ্লাজম প্লাজমামেমব্রেন দ্বারা আবৃত; কিন্তু স্নায়ুকোষে সাইটোপ্লাজম দীর্ঘ তন্তু গঠন করে।
৩. দেহকোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বডি বিভিন্ন ধরনের অঙ্গাণু থাকে; কিন্তু স্নায়ুকোষের সাইটোপ্লাজমে কোনো অঙ্গাণু থাকে না।
৪. দেহকোষ বিভাজিত হয়; কিন্তু স্নায়ুকোষ বিভাজিত হয় না।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫