ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

নিত্যদিন

কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

একুশ.
‘এ রকম ভয়ানক জায়গায় এলে কেন?’ বুড়োর বরফশীতল চাহনি দেখে ঠাণ্ডা শিহরণ নেমে গেল আমার মেরুদণ্ড বেয়ে।
‘আমি যাই!’ উঠে দাঁড়াতে গেলাম।
‘বসো!’ কড়া আদেশ যেন শপাং করে উঠল চাবুকের মতো। ‘এই বন বড় ভয়ানক জায়গা। বুঝতে পারছি তুমি শহুরে ছেলে। এখনো যে ভালুকের পেটে যাওনি সেটাই আশ্চর্য!’ খানিকটা নরম হলো বুড়োর স্বর। ‘বনের ভেতর একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছিলে কেন?’
‘একা ছিলাম না, বাবার সাথে বেরিয়েছিলাম,’ জবাব দিলাম। ‘পেছনে চলতে চলতে হঠাৎ মুখ তুলে দেখি বাবা নেই।’
‘চিন্তার কথা!’ গম্ভীর হয়ে গেল লোকটা।
ঘাবড়ে গিয়ে বললাম, ‘আপনি বলতে চান, আমার বাবাকে মায়ানেকড়েতে ধরে নিয়ে গেছে?’
‘যদ্দূর জানি, দিনের বেলা মায়ানেকড়েরা বেরোয় না।’ একমুহূর্ত চুপ করে থেকে লোকটা বলল, ‘কী হয়েছিল, সব খুলে বলো তো আমাকে।’
কেন আমরা ব্র্যাটভিয়ায় এসেছি, বললাম তাকে। শুনে আরো গম্ভীর হয়ে গেল বুড়ো। বলল, ‘মায়ানেকড়ে কিন্তু এখানে সত্যিই আছে।’
‘আছে?’
‘আছে। লোকের কথা তো আর মিথ্যে না। তুমি বসো। চা খাও। ততক্ষণে যদি তোমার বাবা তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে এখানে না আসেন, আমি তোমার সাথে তাকে খুঁজতে বেরোব।’
প্রথমে ঝোলা থেকে একটা বড় সাপ বের করে দেয়াল ঘেঁষে রাখা একটা বাক্সে রাখল বুড়ো। তারপর স্টোভ জ্বেলে একটা পুরনো কেটলিতে চায়ের পানি চাপাল। ফিরে এসে আমার মুখোমুখি চেয়ারে বসল।
‘আপনি নিশ্চয়ই সাপ ধরেন?’ (চলবে)

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫