ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নিত্যদিন

  কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান  

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বিশ.

পা টিপে টিপে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালাম। ঠেলা দিতেই ফাঁক হয়ে গেল পাল্লাটা। ভেতরে উঁকি দিলাম। ঘরে একটা চারপায়া, পুরনো একটা টেবিল, আর নড়বড়ে দুটো চেয়ার। একপাশে ফায়ারপ্লেসে আগুন জ্বলছে। একধারে বেড়া ঘেঁষে রাখা কতগুলো কাঠের বাক্স।
ঘরে আর কী কী আছে গলা বাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। হঠাৎ বাজখাঁই কণ্ঠে পেছন থেকে হাঁক শোনা গেল, ‘কী চাই?’
এমন এক লাফ মারল হৃৎপিণ্ড, মনে হলো জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাবো।
ফিরে তাকিয়ে দেখি, একজন বুড়ো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। চুলে কতকাল তেল-সাবান আর চিরুনি পড়েনি কে জানে। মস্ত গোঁফ। খোঁচা খোঁচা দাড়ি। মাংসহীন তোবড়ানো চোয়ালের ফাঁকে বসে গেছে গালের কুঁচকানো চামড়া। লম্বা নাকটা ঈগলের ঠোঁটের মতো বাঁকা হয়ে নেমে এসেছে মস্ত গোঁফের ওপর। চোখের মণি দুটো অসম্ভব উজ্জ্বল আর চকচকে। কাঁধে ঝুলছে একটা লম্বা মোটা কাপড়ের ঝোলা। নিচের দিকটা ঝুলে রয়েছে। কিছু আছে ভেতরে।
‘কী চাও, খোকা?’ আবার জিজ্ঞেস করল বুড়ো।
‘আমি... আমি পথ হারিয়েছি,’ কোনোমতে বললাম।
‘এসো, ভেতরে এসো।’ ধাক্কা দিয়ে দরজাটা পুরো খুলে ঘরে ঢুকে গেল বুড়ো।
আমিও ঢুকলাম। দরজার খিল লাগিয়ে দিলো বুড়ো। ‘এসব জায়গায় দরজা খোলা রাখা ঠিক না। কখন আবার কী এসে হাজির হবে, কে জানে!’
‘এসো। বসো।’ হাড়সর্বস্ব আঙুল দিয়ে আমার কাঁধ চেপে ধরে চেয়ারের কাছে ঠেলে নিয়ে এলো লোকটা। চাপ দিয়ে বসিয়ে দিলো। তার মতো একজন বুড়ো মানুষের গায়ের জোর অবাক করল আমাকে। (চলবে)

 

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫