এহসানের উপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রদিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী এহসান রফিকের উপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ রোববার দুপুরে এ দাবিতে চোখে কাপড় বেঁধে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রায়ই ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের হাতে শিক্ষার্থীদের হামলা, নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু এতে কাউকে শাস্তি হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু কারোর বিচারের আওতায় আনে না। কেননা যাদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তারা প্রহসনের কাজ করে।

ছাত্রলীগ নেতাদের হামলায় এহসানের এক চোখে প্রচণ্ড আঘাতের ফলে স্বাভাবিক মুভমেন্ট হারায়। ফুলে ওঠে তার মুখমণ্ডল। তার মুখের এই চিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলেন, অন্ধরা প্রতিষ্ঠানের হর্তাকর্তা হলে প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। আর প্রতিশ্রুতিশীলরা অন্ধ হয়ে যায় বা অন্ধ করে দেয়। এহসানের আহত চোখ, মুখ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মুর্খদের এ প্রতিষ্ঠানে কিভাবে খুব সন্তর্পণে সবাইকেই অন্ধ করে দিয়েছে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা এহসানের উপর হামলার ঘটনার দায়ভার বহন করে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার ও তার চিকিৎসার খরচ বহন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

ক্যালকুলেটর ধার নিয়ে ফেরত না দেয়ার ঘটনায় গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতার নির্মম প্রহারের শিকার হন দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এহসান। ওই ঘটনায় তার বাম চোখের কর্ণিয়ায় আঘাত করে ছাত্রলীগ। এই ঘটনার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। চক্ষু বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি তার চোখ। গত শক্রবার সকাল থেকে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হয় এবং থেমে থেমে বমি হয়। শনিবার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানে ডাক্তার তাকে ১০ দিনের ওষুধ লিখে দেন। এ ঘটনায় হল প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তার প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারদার জানান, তদন্তের কাজ চলছে। কমিটিকে যথাসময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.