ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আইন ও বিচার

ডিভিশন পেলেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ২১:০৩ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ০৬:৪২


প্রিন্ট
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া (ফাইল ফটো)

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া (ফাইল ফটো)

নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে বন্দী বিএনপি চেযারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন দিন সাধারণ কয়েদীর মতো নির্জন একটি কক্ষে কাটানোর পর আজ রোববার আদালতের নির্দেশে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা পেয়েছেন।

এর আগে জেলকোড মোতাবেক তাকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা (ডিভিশন) দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন আদালত।

আজ রোববার রাতে কারাগারের ঊর্দ্ধতন এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে খালেদা জিয়ার ডিভিশন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের আদেশটি বিকেলে আসার পরই তাকে ডিভিশন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তার কাজের মেয়ে ফাতেমার ব্যাপারে জেলকোডে কি রয়েছে সেটি বিশ্লেষণ করে তারপর বলা যাবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

আজ বিকেলে আদালতের দেয়া ডিভিশনের আদেশের কপি বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়ার নেতৃত্বে নয় সদস্যের আইনজীবি প্রতিনিধি দল ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজন মো. তৌহিদুল ইসলামের কাছে পৌঁছে দেন।

আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খালেদা জিয়ার ডিভিশনের আদেশের কাগজ ঢাকার ডিআইজি প্রিজন্স এর কাছে জমা দিয়ে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের কারাফটকের অদূরে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেন, জেলকোডের ৬১৭ ধারা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া ডিভিশন পাওয়ার হকদার। এটা জেলকোডেই বলা আছে। যেহেতু বিধানে বলা আছে সেহেতু জেলসুপার নিজেই ডিভিশন দিতে পারতেন। কিন্তু কেনো তিনি দেননি তা আমরা জানি না। আজ আমরা আবেদন করলে সেটি কোর্ট মজ্ঞুর করে অর্ডার দিয়ে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রসেস সার্ভারের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। ইতোমধ্যে আমরা ডিআইজি প্রিজন্স সাহেবের সাথে সাক্ষাত করে আদালতের অর্ডারটা পৌঁছে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছি, বেগম জিয়ার একা চলাফেরা করতে অসুবিধা হয়। তার পায়ে সমস্যা আছে। জেলকোডে এটাও বলা আছে, কোনো মহিলা বা বয়স্ক মহিলা চলাফেরা করতে না পারেন, তাহলে তিনি এসিস্ট্যান্ট পাবেন। সেই অনুযায়ী ফাতেমাকে তার সেবার জন্য আদালত অর্ডার দিয়েছেন। মোট কথা ফাতেমা এখন খালেদা জিয়ার সাথে থাকতে পারবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে যেসব বন্দী বা কয়েদি, হাজতিরা এ সুবিধা পেয়েছেন, তিনিও একই ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেন।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা নকল চেয়েছি বৃহস্পতিবার। আজ পর্যন্ত নকল পাই নাই। আমাদেরকে কোর্ট থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, আগামীকাল নকল পাওয়া যেতে পারে। পেলে আমরা আপিল ফাইল করবো। আপিল ফাইলের পর আমরা তার জামিনের প্রার্থনা করবো। এরপর যা যা করণীয় সেটি সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে নিয়ে আমরা করবো বলে জানান তিনি।

আজ রাতে এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, আদালতের নির্দেশনার পর তার ডিভিশনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিনিয়র জেল সুপারের অফিস কক্ষ থেকে সরিয়ে তাকে মহিলা ওয়ার্ডের ডে কেয়ার সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় হয় ৮ ফেব্রুয়ারি। এতে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং তার ছেলেসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পরই সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের অফিস কক্ষে রাখার ব্যবস্থা করেন কারা কর্তৃপক্ষ। তিনদিন পর আজ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয় বলে সুত্র জানায়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫