এসব খাবার খেলে ওজন কমে!
এসব খাবার খেলে ওজন কমে!

এসব খাবার খেলে ওজন কমে!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের একদল গবেষক একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। মোট ৬২ জন মোটা মানুষের উপর এই পরীক্ষাটি চালাতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করেছিলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কে কতটা ওজন কমাতে পারবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে তার পাকস্থলির অন্দরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ক্ষমতার উপর। তাই তো যাদের "গাট ব্যাকটেরিয়ার" খুব শক্তিশালী, তারা খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে পারেন, যা বাকিদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

দ্রুত ওজন কমাতে প্রিভোটেলা নামে পাকস্থলির একটি ব্যাকটেরিয়ার বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আপনি যদি নতুন বছরে ওজন কমাতে বদ্ধপরিকর হন, তাহলে পাকস্থলিতে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়াদের সংখ্যা যাতে না কমে, বিশেষত প্রিভোটেলা ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা, সেদিকে নজর রাখতে হবে। আর এই কাজটি করবেন কিভাবে? এক্ষেত্রে কতগুলো সহজ নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাহলেই কেল্লাফতে! নিয়মগুলো হলো...

১. পলিফেনল সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে : এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা তো বাড়ায়ই, সেই সঙ্গে ব্লাড প্রেসার কমাতে, প্রদাহ হ্রাসে এবং বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো প্রতিদিন পলিফেনল সমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেট, রেড ওয়াইন, গ্রিন টি, বাদাম, পেঁয়াজ অথবা ব্রকলি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষক্ষরা।

২. চিনি কম খান : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যত বেশি করে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবেন, তত পাকস্থলীতে উপস্থিত ভালো, উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমতে থাকবে। ফলে একদিকে যেমন ওজন কমবে দেরিতে, তেমনি হজম ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। জীবনে সফল হতে কৌশলী এই নীতিগুলো মেনে চলা জরুরি!

৩. ডায়েটের দিকে নজর দিন : ওজন কমাতে ডায়াটেশিয়ান যেভাবে ডায়ের্ট চার্ট বানিয়ে দিয়েছেন, তা মানতে তো হবেই, সেই সঙ্গে যে যে খাবার খেলে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, এমন খাবার যাতে প্রতিদিন প্লেটে থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। যেমন ধরুন ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার যে যে খাবারে বেশি মাত্রায় আছে, এমন খাবার বেশি বেশি করে খেতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। ফাইবার ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. দই : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দইয়ে উপস্থিত ল্যাকটোবেসিলি নামক ব্যাকটেরিয়াও ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যদি দ্রুত ওবেসিটির হাত থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে আজ থেকেই দই খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন উপকার মিলবে।

৫. সবুজ শাক-সবজি এবং ফল বেশি করে খান : প্রতিদিন লাঞ্চ এবং ডানারের প্লেটে সবুজ শাক সবজি এবং ব্রেকফাস্টের প্লেটে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল থাকলে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে আর কোনো চিন্তাই থাকে না। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ফুলকপি, ব্রকলি, ডাল, বিনস, জাম এবং হোল গ্রেনে উপস্থিত ফাইবার এক্ষেত্রে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।

৬. নবজাতকে টানা ৬ মাস মায়ের দুধ খাওয়াতে ভুলবেন না : বাচ্চার শরীরে ভালো ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ ঘটে মায়ের শরীর থেকে। তাই জন্মের পর থেকে নবজাতককে যদি টানা ছয় মাস মায়ের দুধ খাওয়ানো না যায়, তাহলে তার শরীরে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ঘাটতি দেখা দেয়, যা বড় হওয়ার পর নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাতৃদুগ্ধ খাওয়াতে ভুলবেন না যেন!

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.