ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

অপরাধ

পরীক্ষা শুরুর ৩০-৪০ মিনিট আগেই ফাঁস হয় আসল প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৯:২৪


প্রিন্ট

পরীক্ষা শুরুর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগেই ফাঁস হয় আসল প্রশ্নপত্র। কেন্দ্রে থেকে কক্ষে যাওয়ার সময়ে এ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দারা। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার দু’দিন আগে যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তা আসল প্রশ্নপত্র নয়, ভুয়া।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আপন তিন ভাইসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও ডিবি।

ডিবির হাতে গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আমান উল্লাহ, বরকত উল্লাহ্, আহসান উল্লাহ্, রাহাত ইসলাম, সালাহউদ্দিন, সুজন, জাহিদ হোসেন, সুফল রায় ওরফে শাওন, আল-আমিন, সাইদুল ইসলাম, আবির ইসলাম নোমান, শাহাদাৎ হোসেন ওরফে স্বপন, ফাহিম ইসলাম এবং তাহসিব রহমান।

এর মধ্যে আমান, বরকত ও আহসান তিন ভাই বলে জানিয়েছে গোয়েন্দারা। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পূর্ব রাজাবাজার আরবিএন হোস্টেল থেকে আনিছুর রহমান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২।

র‌্যাবের দাবি, ওই যুবক প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূল হোতা।

র‌্যাব ও গোয়েন্দারা জানিয়েছে, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ইমো এবং হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। বিনিময়ে এ চক্রটি বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা।

আজ ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, পরীক্ষার এক দিন আগে ভুয়া প্রশ্নপত্র ছড়াতেন এ চক্রটি। প্রকৃত প্রশ্নের সাথে ওইসব প্রশ্নের মিল নেই। তবে পরীক্ষার দিন কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার হলে আনার সময় প্রশ্নপত্রের বান্ডেল খোলা হয়। বান্ডেল খোলার আগে এই প্রশ্ন দেখার সুযোগ কারো নেই। কেন্দ্র থেকে কক্ষে যাওয়ার সময়ে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগে কোনো দুষ্টু লোক মোবাইলে ছবি তুলে গ্রুপগুলোয় ছেড়ে দেয়। এমসিকিউ পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই কাজ বেশি হয়। এই প্রশ্ন সরাসরি ছাত্রদের মধ্যে পৌঁছানো বেশ কঠিন। বেশির ভাগ সময় পরীক্ষার সকালে, কখনো কখনো পরীক্ষার আগের দিন রাতে একেক গ্রুপ একেক ধরনের প্রশ্নের সেট বিক্রি ও সরবরাহ করতে থাকে, যা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। গ্রেফতারকৃতরা এসব প্রশ্ন বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে পাঁচশ’ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করে।

গোয়েন্দারা জানায়, গতকাল শনিবার মধ্যেরাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ চক্রের মূল হোতা ফাহিম। শিক্ষা ভবনের কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আমান উল্লাহ, আহসান উল্লাহ্ এবং বরকত উল্লাহ তিন ভাই। তারা প্রতিদিন ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে। আহসান সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ এবং ২৩টি স্মার্টফোন এবং দুই লাখ দুই হাজার চারশ’ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আসামিরা যাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করছে সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে কী না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম-কমিশনার বলেন, ওরা শত শত, হাজার হাজার চেইন। কখনো চট্টগ্রাম থেকে প্রশ্ন পাঠানো হয়, কখনো আরেক জেলা থেকে। তাদের শনাক্ত করা কঠিন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের কারো সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন কি না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন: এখনও পর্যন্ত তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে শুধু শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে, বলে মন্তব্য করেন যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।

র‌্যাব-২ এর অপারেশন অফিসার এএসপি ফিরোজ কাউছার জানান, শনিবার মধ্যেরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরবিএন হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে এসএসপি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলহোতা আনিছুরকে গ্রেফতার করা হয়। আনিছুর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ধানমন্ডি শাখায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রথম বর্ষের ছাত্র।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনিছুর জানায়, হোস্টেলে থাকাকালে হোয়াটসআপ ও ফেসবুক এর মিসাইল গ্রুপ ও আইসিটি গ্রুপ এর সাথে তিনি যুক্ত হন। পরবর্তীতে মিসাইল গ্রুপের এডমিনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দেয়ার কাজ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, ইতোপূর্বে তারা বিভিন্ন পরীক্ষায় একইভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এএসপি ফিরোজ কাউছার।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫