ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব

'বিনিময়ে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা না করাই মানবতা'

মো: আবদুস সালিম

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৭:০৭


প্রিন্ট
রিয়ানা কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, ফ্যাশন ডিজাইনার, মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবেও পরিচিত

রিয়ানা কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, ফ্যাশন ডিজাইনার, মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবেও পরিচিত

রিয়ানা বর্তমান বিশ্বে বেশ পরিচিত সমাজসেবী হিসেবে। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত। রিয়ানা কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, ফ্যাশন ডিজাইনার, মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবেও পরিচিত। তবে এখন সেবামূলক কাজই তার বেশি ভালো লাগে। রিয়ানা বলেন, বিশ্বে আমার ব্যাপক পরিচিতি ঘটেছে তাই সেবামূলক কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে না। আরো ভালো লাগে, যখন দেখি অনেকেই সাহায্য সহযোগিতা করতে আমার পাশে দঁড়িয়েছে। এরাই আমার কাজের ক্ষেত্রে বড় সাহস ও শক্তি।

রিয়ানার পুরো নাম রবনি রিয়ানা ফেন্টি। জন্ম ১৯৮৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বারবাডোসের সেন্ট মাইকেলে। সেই হিসেবে বয়স প্রায় ২৯ বছর। তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন ২০০৩ সালে। দিন যতই যাচ্ছে, কাজের পরিধি যেন বেড়েই চলেছে। এ বয়সে মার্কিন এ নারীর ঝুলিতে জুটেছে আটটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে পুরস্কার দেয়া হয় মানবকল্যাণমূলক কাজের জন্য। সেবামূলক কাজ করে রিয়ানা এখন বিশ্বের প্রভাবশালীদের তালিকায় আছেন।

রিয়ানাকে ২০১৭ সালে ‘হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি হিউম্যানেটিরিয়ান’ উপাধি দেয়া হয়। ‘পিটার জে গোমস হিউম্যানেটিরিয়ান’ পদক নেয়ার জন্য তাকে এগিয়ে যেতে হবে বোস্টনে ক্যাম্পাসের বাইরে। এসংক্রান্ত এক ঘোষণায় বলা হয়, বারবাডোসে রিয়ানা দাতব্য চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কিভাবে ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করেন এবং তিনি কোথা থেকে এসেছেন তা বলার প্রয়োজন পড়েনি ব্যাপক পরিচিতির কারণে। ক্যারিবিয়ান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীরা যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেজন্য তিনি ‘ক্লারা লায়ন ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ প্রোগ্রাম’ গঠন করেন।

হার্ভার্ড ফাউন্ডেশনের পরিচালক এস এলেন কাউন্টার ঘোষণাপত্রে বলেন, গুণে ভরা রিয়ান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনটি বিশ্বব্যাপী ৬০টি উন্নয়নশীল দেশে শিশুদের শিক্ষার ব্যাপক সুযোগ করে দেবে। এ ক্ষেত্রে যেসব মেয়েশিশু শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে না তাদেরকেও দেয়া হবে বিশেষ গুরুত্ব, যাতে তারা এ গণ্ডির বাইরে না পড়ে যায়। এভাবেই তিনি তার কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে থাকেন।

রিয়ানা বারবাডোসে ব্রিটেনের প্রিন্স হ্যারির মতো নিজেও এইচআইভি টেস্ট করেন। এর উদ্দেশ্য হলো তার মানবহিতৈষী কর্মকাণ্ডের একটি অংশ হিসেবে সারা বিশ্বে এইডসের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা। বারবাডোসের ব্রিজটাউনে কুইনস এলিজাবেথ হাসপাতালে দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য রিয়ানা অনকোলজি (টিউমার) ও নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ চালু করেন।

রিয়ানা বলেন, অনেক অল্প সময়েই আমি যতটুকু পারতাম সাহায্য করতাম নানা প্রতিষ্ঠানে। ভাবতাম, আমার অনেক টাকা হলে পৃথিবীর সব শিশুর সুস্থতার দিকে নজর দেবো। তবে ভাগ্য আমাকে প্রচুর অর্থ উপার্জনের সক্ষমতা দেয় আমার বয়স ২০ বছর না পেরোতেই। এখন অর্থের জন্য দুশ্চিন্তা করতে হয় না, বরং সহযোগিতার হাত বাড়ানোর মানুষেরও অভাব হয় না। কাজের ক্ষেত্রে এটাই আমার বড় শক্তি।

লিউকেমিয়া, ক্যান্সার প্রভৃতি মারণব্যাধিতে অনেক মানুষ মরতে দেখেছেন রিয়ানা। তা দেখে তার মন খুবই খারাপ হয়ে যেত। তখন তিনি ভাবতেন, এদের সুস্থ করে তোলার জন্য যদি কিছু করতে পারতাম। এসবই তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে তাদের পাশে থাকার। শিশুকালে রিয়ানা টিভিতে দুস্থ-অসুস্থ শিশুদের পাশে আসার আহ্বানজনক বিজ্ঞাপন দেখতেন। তাতে বলা হতো, কেউ ২৫ সেন্ট দান করলে তা দিয়ে একটি শিশুর জীবন বাঁচানো যায়। এই বিজ্ঞাপনও তাদের পাশে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায়। ক্লারা লায়ন ফাউন্ডেশনের কথা হলো, মানুষকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য যত বেশি সম্ভব কাজ করা। রিয়ানা বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রত্যেক মানুষেরই তাদের জন্য কিছু করার সামান্যতম সামর্থ্য হলেও আছে। তবে বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা বা প্রত্যাশা না করাই ভালো। আর এটাই হলো প্রকৃত মানবসেবা বা মানবতা। আমরা প্রত্যকে যদি কারো না কারো পাশে সেবার মন নিয়ে দাঁড়াই, তবে তা যেমন সহজ হবে তেমনি কাক্সিক্ষত ফলও পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি। আর সুন্দর পৃথিবী দেখতে হলে এমন কিছুই হওয়া দরকার। এর জন্য ধনী হওয়ার বিষয়টি মুখ্য নয়, সেবার মনই আসল। এমনকি উচ্চশিক্ষিত না হলেও চলবে বলে আমি মনে করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি প্রত্যেকে (সামর্থ্যবান) খুব কাছের দুস্থ-অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াই তাতেও এসংক্রান্ত ভালো ফল আমরা পাবো। তারা হতে পারে আমাদের প্রতিবেশী, সহপাঠী বা আত্মীয়। তা ছাড়া মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ থাকবে এমনটিই স্বাভাবিক। এমনকি প্রত্যেকে যদি একটা করে ভালো কাজ করি, তাহলেও এসংক্রান্ত অনেক কাজ হবে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫