কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন

খালেদা জিয়া সাধারণ বন্দী : আইজি প্রিজন

নয়া দিগন্ত অনলাইন

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেছেন, খালেদা জিয়া একজন সাধারণ বন্দী। তাই তিনি সাধারণ বন্দীর মতোই আছেন।

তিনি জানান, ১৯৬৪ ও ২০০৬ সালের কারাবিধি অনুযায়ী বর্তমানে যারা বর্তমান সংসদ সদস্য তারাই ডিভিশন পান। সাবেক প্রেসিডেন্টও পান। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পান না।

আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় কারা অধিদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, খালেদা জিয়াকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য একজন নারী ডিপ্লোমা নার্স ও চারজন নারী কারারক্ষী আছেন। তাকে সাধারণ কয়েদিদের মতো খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে বাইরে থেকে তাকে ড্রাই ফুড (শুকনা খাবার) দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা দেয়া হয়নি।

আইজি প্রিজন আরও বলেন, ডিভিশন দেয়ার সিদ্ধান্ত আদালতের। সাধারণত আদালত যদি কাউকে তাকে ডিভিশন দেন, সরকার সেটা বিবেচনা করে ডিভিশন দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। সকালে ডিভিশনের বিষয়ে আদালতে একটা শুনানি হয়েছে শুনেছি। তবে নির্দেশনা সংক্রান্ত কোনো কাগজ আমরা এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আদালত।

এর আগে আজ রোববার সকালে আইনজীবীদের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দেওয়ার পর খালেদা জিয়ার ঠাঁই হয়েছে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। ওই কারাগারের সাবেক প্রশাসনিক ভবনের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়কের দফতরটিকে তার থাকার উপযোগী করা হয়েছে। ওই কক্ষে খালেদা জিয়া একা থাকছেন। তার সেবার জন্য দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী ফাতেমাকে সঙ্গে রাখার ব্যাপারে আদালতের আদেশ এখনো হাতে পায়নি বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

নির্জন কারাগারে কেমন আছেন খালেদা জিয়া?
নিজস্ব প্রতিবেদক, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
কারাগারে নির্জন পরিত্যক্ত ভাঙাবাড়িতে খালেদা জিয়াকে সাধারণ কয়েদিদের মতো রাখা হয়েছে। তাকে কোনো ডিভিশন দেয়া হয়নি। এটা খুবই অন্যায়। আর তাকে যে খাবার দেয়া হচ্ছে, সেটি সাধারণ বন্দীদের মতোই খাবার। এটা এককথায় অখাদ্য।

গতকাল সন্ধ্যায় নাজিমুদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র বন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সিনিয়র আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধিদল দেখা করে ফিরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এ অভিযোগ করেন।

সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার আগে আইনজীবী প্রতিনিধিদের প্রায় এক ঘণ্টার মতো পুলিশ ব্যারিকেডের সামনে অপেক্ষায় থাকতে হয়। অনুমতি পাওয়ার পর বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তারা কারাগারে যান। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সাক্ষাৎ শেষে তারা ফিরে আসেন।

গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আইনজীবী নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগার এলাকায় যান। এ সময় তার সাথে আরো ছিলেন আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, ট্রাস্ট মামলায় খালেদার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী।

ব্রিফিংয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ম্যাডাম ভালো আছেন। তার মনের বল ঠিকই আছে, কিন্তু তাকে এখনো একজন সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ তাকে কোনো ডিভিশন দেয়া হয়নি। এমেনডেট জেলকোড ২০০৬ অনুযায়ী যে অর্ডার রয়েছে, সেখানে জেলকোডে তিনি তিনটি ক্যাটাগরিতে ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। একটি হচ্ছে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দ্বিতীয় হলো তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন আর তৃতীয় হলো তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। এর মধ্যে যারাই থাকুক তারা অটোমেটিক্যালি ডিভিশন পাবেন। তাদের জন্য কোর্টে কোনো দরখাস্তের প্রয়োজন নাই। কারো কাছে যেতেও হবে না। জেল অথোরিটি এটি দিতে পারেন। কিন্তু আজকে আলাপ করে জানলাম, তারা এই নিয়ম ভঙ্গ করে এবং জেলকোডকে অমান্য করে তাকে একজন সাধারণ কয়েদির মতো রাখা হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা খবরে দেখলাম, উনার গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে কারাগারে অ্যালাও করা হয়েছে। কিন্তু উনি বললেন, ফাতেমাকে অ্যালাও করা হয়নি। উনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, ফাতেমা ছাড়া তো আমি এক কদমও উঠতে পারি না। তার ওষুধপত্র, তার ব্যক্তিগত জীবন, আফটার অল উনি তো মহিলা, একটু বয়স্ক। যে মহিলা (ফাতেমা) তাকে ১৫-২০ বছর সেবা করে আসছেন, সেই ফাতেমা ছাড়া তাকে আজকে ওখানে থাকতে হচ্ছে।

এমনিতেই তার হাঁটুতে সমস্যা আছে। মোটকথা তিনি তো অসুস্থ। কিন্তু তার সেবিকা ফাতেমাকে এখনো অ্যালাও করেনি। আজ আমরা আরেকটি বিষয় নিজের কানে শুনে এলাম- তাকে সলিটারি কনসাইনমেন্টে রাখা হয়েছে। এটা নির্জন কারাবাস। এই নির্জন কারাবাসে তাকে রাখা হলো, এটা সম্পূর্ণভাবে সংবিধান ও আইন পরিপন্থী। এটা অন্যায় এবং একটা জুলুম। ওনাকে কষ্ট দেয়ার জন্যই আজকে সরকার এই ব্যবস্থা করেছে। আমরা এ নিয়ে আদালতে যাব। প্রয়োজন হলে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার বাইরে যে প্রপাগান্ডা করছে- উনাকে ডিভিশন দেয়া হয়েছে, উনার সেবিকা ফাতেমাকে অ্যালাও করা হয়েছে- এগুলো সবই অসত্য। একটা ভাঙা পরিত্যক্ত বাড়িতে কোনো রকমের কোনো সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই তিনি একাকী ওই খানে আছেন। আশপাশে কোনো কারাবন্দী নেই, কোনো জনমানুষও নেই।

খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে কী ধরনের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে- প্রশ্নের উত্তরে মওদুদ আহমদ বলেন, তাকে জেল অথোরিটি যা দেয়, সেটি সাধারণ কয়েদিদের মতোই। আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, সেই খাবারটা প্রায় অখাদ্য।

শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনিতে উনি স্বাভাবিক থাকেন, তবে উনার শারীরিক অবস্থা তো ভালো না। নানা রকমের অসুস্থতা আছে। দেশবাসীর উদ্দেশে কিছু বলেছেন কি না- প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা তাকে এটা জিজ্ঞেস করিনি।

আমরা আজ যেটার জন্য দেখা করতে এসেছিলাম সেটি হচ্ছে তার আপিল ফাইল কবে করা যাবে, তার জামিন কবে হবে, তার জামিনের জন্য কখন দরখাস্ত করব। আর এই যে ডিভিশনের কথা বললাম, তার পরিচারিকার কথা বললাম, এগুলো নিয়ে আমরা আদালতে যাব। এবং সেখান থেকে আদেশ আনার চেষ্টা করব। প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাব। কারণ এখানে সরকারের হাত রয়েছে। এখন সরকারেরই দায়িত্ব এসব দেখার।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ আমরা প্রায় সোয়া ঘণ্টার মতো তার সাথে সাক্ষাৎ করেছি। এখানে সর্বদা গোয়েন্দা বিভাগ ও জেলার সাহেব দাঁড়ানো ছিলেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.