ঢাকা, সোমবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

এশিয়া

যৌন রোগ নিরাময়ের আশায় ভারতে এতো কন্যাশিশু ধর্ষণ!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১২:৫২


প্রিন্ট
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আট মাসের একটি শিশুকে ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। (ফাইল ছবি)

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আট মাসের একটি শিশুকে ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। (ফাইল ছবি)

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি আটমাসের কন্যাশিশু ধর্ষিতা হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। তার ঠিক আগের একমাসে কোথাও তিন বছর, কোথাও ১০ বা ১১ বছর বয়সী কন্যাশিশুদের ধর্ষণের খবর উঠে এসেছে সেদেশের সংবাদ শিরোনামে।

আর শিরোনামে না আসা শিশু ধর্ষণের সংখ্যাটা আরও বহুগুণ বেশি।

২০১৬ সালে - একবছরেই ভারতে ধর্ষিত হয়েছে প্রায় কুড়ি হাজার শিশু বা কিশোরী। ভারতের জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যানে তেমনটাই উঠে এসেছে।

তবে ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থার শিকার যে সেখানে শুধু কন্যাশিশুরাই হচ্ছে তা নয়।

প্রায় ১০ বছর আগে প্রকাশিত একমাত্র পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মোট যত শিশুর ওপরে যৌন হেনস্থা হয়, তার অর্ধেকেরও বেশি ছেলেশিশু বা কিশোর।

কিন্তু সমাজকর্মীরা বলছেন, ভারতে শিশুদের ওপরে যৌন নির্যাতনের প্রকাশিত পরিসংখ্যানটি মোট ঘটনার কিছু অংশমাত্র।

শিশুদের অধিকার নিয়ে সারা দেশ জুড়েই কাজ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্রাই’।

তারই পূর্বাঞ্চলীয় ডিরেক্টর অতীন্দ্রনাথ দাস ব্যাখ্যা করছিলেন, ‘শিশুদের ওপরে যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলেছে গত প্রায় এক দশক ধরে। কিন্তু গত তিনবছরে সংখ্যাটা লাফিয়ে বেড়েছে। তার অর্থ এই নয় যে এরকম ঘটনা আগে হতো না। কিন্তু হঠাৎ করে সংখ্যাটা বেড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।’

সাম্প্রতিক সময়ে এমন বেশ কিছু শিশু ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে, যা রীতিমতো শিহরন জাগানো।

২০১৫ সালে দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য কর্ণাটকে আট বছরের একটি কন্যাশিশুকে অপহরণ করার ছবি ধরা পড়ে সিসিটিভি-র ফুটেজে। পরে তার লাশ পাওয়া যায়, তার মুখে প্লাস্টিক গুঁজে দিয়ে চুপ করিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল।

ধর্ষণ ছাড়াও প্রায় ১২ হাজার কন্যা-শিশুর ওপরে যৌন নির্যাতন চলেছে, আর যৌন হেনস্থা ঘটেছে নয়শোরও বেশি কন্যাশিশুর সঙ্গে।

কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দীক্ষা’র প্রধান পারমিতা ব্যানার্জী বলছিলেন, ‘আমার বয়স ঊনষাট। কিন্তু আমারও ছোটবেলায় বন্ধু বা আত্মীয়পরিজনের কাছ থেকে যেসব ঘটনা শুনেছি, বা নিজেরও যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে যৌন নির্যাতনটা আগেও চলত, এখনও চলে। কোনো না কোনোভাবে যৌন হেনস্থা হয়নি, এমনভাবে বোধহয় ভারতের কোনও মেয়েই বড় হয় না - সেটা ভিড় বাসে শরীরে হাত দেওয়া থেকে শুরু করে আরও গুরুতর কিছু - যাই হোক না কেন। আগে আমরা মেয়েরা মুখ খুলতাম না - ভয়ে, লজ্জায়, কিন্তু এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে একটু একটু করে।’

নারী আন্দোলনের কর্মী অধ্যাপিকা শাশ্বতী ঘোষও বলছিলেন, “অ্যাবসলিউট নাম্বারে যৌন নির্যাতন বেড়েছে তো বটেই, কিন্তু এখন বিষয়গুলো সামনে আসছে আগের থেকে অনেক বেশি। শিশু সুরক্ষা সম্বন্ধে অভিভাবক থেকে শুরু করে পুলিশ - সকলেরই সচেতনতা বেড়েছে। এখন কোনও শিশুর ওপরে যৌন নির্যাতন হলে প্রথমেই রিঅ্যাক্ট করে এই বলে যে ‘একটা বাচ্চার সঙ্গে এরকম করে পার পেয়ে যাবে!’ এই ধারণাটা বদল হয়েছে বলেই যৌন নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে অনেকে সাহস পাচ্ছেন এখন।”

যৌন নির্যাতনের শিকার অর্ধেকই ছেলেশিশু
সমাজকর্মীরা বলছেন একটা বিরাট সংখ্যক পুত্র-শিশু বা কিশোরেরাও নিয়মিত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে ভারতে - যার একমাত্র সরকারী পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছিল ২০০৭ সালে। কথা বলেছিলাম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রাজকের প্রধান দীপ পুরকায়স্থর সঙ্গে।

‘ছেলেদের ওপরে যৌন নির্যাতনের পরিসংখ্যান খুব একটা পাওয়া যায় না। একমাত্র ওই ২০০৭ সালের সংখ্যাটা ছাড়া। আমরা যারা এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করি, তাদের একটা ধারণা ছিলই যে কী সংখ্যায় ছেলেদের ওপরে যৌন নির্যাতন চলে। আর সরকারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে মোট যত শিশুর ওপরে যৌন নির্যাতন হয়, তার প্রায় অর্ধেক পুত্র-শিশু বা কিশোর। তার পরে আর কোনও তথ্য আমাদের হাতে নেই,’ বলছিলেন মি. পুরকায়স্থ।

শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার কারণ কী
শিশুদের ধর্ষণ বা তাদের ওপরে যৌন নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার কারণ রয়েছে একাধিক।

কেউ বলছেন ইন্টারনেটে পর্ণোগ্রাফি সহজলভ্য হয়ে যাওয়া। কারও মতে বিকৃত যৌন লালসা মেটানোর সবথেকে সহজ টার্গেট হয়ে উঠছে শিশুরা, কারণ তারা অরক্ষিত আর তাদের ওপরে কী ঘটছে, সেটা তারা বুঝতে অক্ষম।

এইসব নানা কারণেই শিশুধর্ষন বা শিশুদের ওপরে যৌন নির্যাতন ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

কলকাতায় যৌন হেনস্থার ব্যাপারে শিশুদের সচেতন করে তোলার কাজ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দীক্ষা। তার প্রধান পারমিতা ব্যানার্জীর কথায়, ‘কোনও একটা কারণ তো নয়, অনেকগুলো কারণ আছে। এর মধ্যে পিডোফিলিয়া নিশ্চিতভাবেই মানসিক বিকৃতি। কিন্তু বাসে-ট্রামে মেয়েদের শরীর ছোঁয়ার মতো যেসব ঘটনা ঘটে, সেগুলো কিন্তু ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য। এর বাইরে একটা কারণ হল ছোটবেলায় যেসব পুরুষ হেনস্থার শিকার হয়েছেন কোনো না কোনোভাবে, দেখা যাচ্ছে, তাদের একটা অংশও কিন্তু পরবর্তীতে নিজেরা হেনস্থা করছেন মেয়েদের।’

পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তীও মনে করেন, ‘ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনটা নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা। তাই প্রথমে আমাদের ঘা দিতে হবে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থাটার ওপরে। ’

ক্রমবর্ধমান হারে শিশুদের যৌন লালসার শিকার বানানোর পিছনে রয়েছে কুসংস্কারও।

অন্তত দেড়শো বছর আগের ছাপা বটতলার বই নামে পরিচিত তথাকথিত অশ্লীল সাহিত্যেও এই কুসংস্কারের উল্লেখ আছে যেখানে বলা হয়, কন্যাশিশু অথবা কুমারী নারীদের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করলে নানা যৌন রোগ নিরাময় হয়।

ভারতের অনেকেই যে ওই কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন, সেটা জানা গেল কয়েকজন সমাজকর্মীর কাছ থেকে।

এদেরই একজন, নিউ লাইট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রধান উর্মী বসু।

‘আমরা যৌন কর্মী এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করি। আমাদের সঙ্গে যারা আছেন, তাদের অনেকেরই বয়স ৬০/ ৬৫ এমনকি ৭০। তাদের কাছ থেকেই জেনেছি, বহু মানুষ এটা মনে করেন যে কুমারী নারী বা শিশুদের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করলে তাদের নিজেদের শরীরে বাসা বেঁধে থাকা যৌনরোগ নিরাময় হয়। এটা কোনো গল্প-গাথা নয় - এটা বাস্তব। ভারতের বহু প্রদেশে এই ধারণা প্রচলিত রয়েছে,’ বলছিলেন উর্মী বসু।

সমাজকর্মী পারমিতা ব্যানার্জীও এইডস আক্রান্তদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন।
অবলা শিশুদের ওপরে ক্ষমতা প্রদর্শন যেমন সহজ, তেমনই যৌন লালসা মেটানোর পরে ভয় দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে রাখাটাও আরও সহজ।

কিন্তু যে শিশুটি ধর্ষিত বা নির্যাতিত হচ্ছে, সে মুখে কাউকে কিছু না জানাতে পারলেও সবার আড়ালে ঠিকই কেঁদে চলে। যেমন বলছিলেন মিজ. ব্যানার্জীরই সংগঠনের দুই যুবতী কর্মী - যাদের ওপরেও শিশু বয়সে চলেছিল যৌন নির্যাতন।

তাদের একজনের কথায়, ‘একটা পরিবারের তিনজন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আমার ওপরে নির্যাতন চালিয়েছিল। সেই সময়ে আমার বয়স বছর দশেক। কাউকে কিছু বলতে পারিনি তখন। একা একাই রাতের পর রাত কাঁদতাম। কিন্তু ১৩-১৪ বছর বয়স হওয়ার পরে বুঝতে পারি যে আমার সঙ্গে কী করা হত। তখন আমি মুখ খুলতে শুরু করি। কিন্তু এত বছর পরেও সেই কথা কিন্তু আমি ভুলিনি!’

‘আমার চার বছর বয়সে মা একটা শিশুদের হোমে পাঠিয়ে দিয়েছিল - আমাকে নিরাপদে রাখার জন্য। অথচ সেখানেই এক আঙ্কেল আমার ওপরে অত্যাচার করত। আমার মা কাছে থাকত না, তাই বলে উঠতে পারি নি কথাগুলো। তাই এখন বাচ্চাদের শেখাই যে কেউ যদি খারাপভাবে গায়ে হাত দেয়, তাহলে তারা যেন চুপ করে না থাকে। মা হোক বা বড়দের কাউকে - যাকে বিশ্বাস করা যায়, তাকে যেন বাচ্চাটা সব খুলে বলে। চুপ করে থাকলে কিন্তু অত্যাচার থামবে না - যেমনটা হয়েছিল আমার সঙ্গে,’ বলছিলেন সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ হওয়া আরেক সমাজকর্মী।

এই দুই নারীর ক্ষেত্রে তাঁদের ওপরে ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতন নিয়ে মুখ খুলতে অনেকটা সময় লেগেছিল। তবে এখন অবস্থাটা সামান্য হলেও যে বদলাচ্ছে, সেটা অনেকেই স্বীকার করছেন।

স্কুল ও পরিবার থেকে শিক্ষা
অনেক স্কুলেই আজকাল ছোট-বয়স থেকেই মেয়েশিশুদের শেখানো হচ্ছে কোন স্পর্শ বা আদর করাটা ভাল, কোনটা খারাপ। কোনটা গুড টাচ, কোনটা ব্যাড।

আর কেউ খারাপভাবে ছুঁলে যে সেটা মাকে বলতেই হবে, সেটাও বোঝানো হচ্ছে শিশুদের।

শিশুদের বা অভিভাবকদের সচেতন করে তোলার ফল সামান্য হলেও যে ফলতে শুরু করেছে, তারই প্রতিফলন ঘটছে পরিসংখ্যানেও।

বলা হচ্ছে, শিশুদের ওপরে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের ঘটনা আগের থেকে বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তা নিয়ে মানুষ আগের থেকে সচেতনও হয়েছেন অনেক বেশী। সেকারণেই আগে যে ঘটনাগুলোর কোনও অভিযোগই জমা পড়ত না, সেগুলোও এখন সরকারী পরিসংখ্যানে বেরিয়ে আসছে।

পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘ভালো স্পর্শ আর খারাপ স্পর্শ নিয়ে পাঠ দেওয়াটা এখনও মূলত অভিজাত স্কুলগুলোতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সরকারী স্কুলেও যাতে এগুলো শেখানো হয়, তার জন্য আমরা স্কুল সিলেবাস কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিষয়টা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করবেন বলে কথা দিয়েছেন।’

“শুধু মেয়েদের শেখালে তো চলবে না, ছোট ছেলে বা সদ্য-কিশোরদেরও এই পাঠটা দেওয়া দরকার যে একটা মেয়ে মানেই শুধু শরীর নয় - সে সব অর্থেই ছেলেদের সমান। অথচ উল্টোটাই মনে করে বহু ছোট ছোট ছেলেরাও। একটা অভিজাত স্কুলের ছাত্র হোক আর ক্লাস ফোর ড্রপ আউট কোনও ছেলে কিন্তু তাদের সহপাঠিনীদের নিয়ে একই ভাষায় মন্তব্য করে। বাবা-মায়েরাও ছেলে আর মেয়েরা যে আলাদা, সেটা ছোট ছেলেদের মাথায় ঢুকিয়ে দেন এইসব বলে যে ‘একটা মেয়ে তোর থেকে বেশী নম্বর পেল!’ অর্থাৎ যেন মেয়েদের কম নম্বর পাওয়াটা, পিছিয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। বদলাতে হবে এই মানসিকতাও,” বলছিলেন শাশ্বতী ঘোষ।

হাজার হাজার মামলা, বিচার সময় মতো শেষ হয় না
এই প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে কথা হয় এমন কয়েকজন বলেন, শিশুদের ধর্ষণ বা তাদের ওপরে যৌন নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা বেড়ে চলার একটা কারণ হল- নির্যাতনকারীরা অনেক সময়েই অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়। যেটা দেখে ওইরকম ঘটনা ঘটাতে উৎসাহিত হয় আরও অনেকে।

পরিসংখ্যানও বলছে, শিশুদের ওপরে যৌন নির্যাতনের ঘটনার বিচার সময় মতো শেষ হয় না।

জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৫৭ হাজারেরও বেশী শিশু ধর্ষণের মামলা ভারতের নানা আদালতে চলছে। অভিযুক্তদের শাস্তি পাওয়ার হারও মাত্র ২৮ শতাংশ।

এর মধ্যে শিশুদের ওপরে যৌন নির্যাতন বা হেনস্থার ঘটনা ধরা হয়নি।

কেন শিশু ধর্ষণের হাজার হাজার মামলা জমে আছে? জানতে চেয়েছিলাম কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ভারতী মুৎসুদ্দির কাছে।

‘এইধরনের মামলা তো শুধু নয়, ভারতের আদালতে লাখ লাখ মামলা ঝুলে আছে। একটা সাধারণ ব্যাখ্যা হল বিচারকের সংখ্যা অপ্রতুল। তবে শিশুদের ওপরে যৌন নির্যাতনের মামলাগুলি দ্রুত শেষ না করা গেলে যে সত্যিই সেটা প্রহসনে পরিণত হয় সেটা তো ঘটনাই।’

মিসেস মুৎসুদ্দি আরও বলছিলেন, ‘শিশুদের যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে যে 'পকসো' আইন হয়েছে, সেখানে কিন্তু যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেমন এই মামলার বিচার পৃথক আদালতে এক বছরের মধ্যেই শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু কোনও জায়গাতেই আলাদা কোর্ট হয় নি, একবছরে মামলা শেষ করাও হয় না। পৃথক পুলিশ টীম তৈরি করার কথা বলা হয়েছে আইনে, সেটাও মানা হয় না। তাই অন্য মামলার সঙ্গেই শিশুদের ওপরে যৌন নির্যাতনের মামলা একই আদালতে চলতে থাকে আর বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।’

আবার এই বিতর্কও রয়েছে যে শিশুদের ধর্ষক বা নির্যাতনকারীদের কতটা শাস্তি দেওয়া হবে, তা নিয়ে।

কেউ মনে করেন তাদের মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া উচিত। কিন্তু এই প্রশ্নও রয়েছে যে দিল্লির বাসে গণধর্ষিতা ও খুন হওয়া নির্ভয়ার ধর্ষকদেরও তো চরম শাস্তি দিয়েছে আদালত - তারপরেও কি ধর্ষণ কমেছে?

নারী আন্দোলনের কর্মী শাশ্বতী ঘোষ বলছিলেন, ‘আমি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী নই। যদি ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়, তাহলে ফাঁসি হওয়াই উচিত। তবে যদি শুধু ধর্ষণ হয়, সেক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড দিলে যেন মনে হয় যে ধর্ষিতাকেও যেন খুন করা হল - আর সেকারণেই ধর্ষককে পাল্টা মেরে ফেলা হল। আর অন্য ভয়টা হচ্ছে, যদি ধর্ষণের সাজা ফাঁসিই হয়, তাহলে ধর্ষিতার বেঁচে থাকার যেটুকু সম্ভাবনা থাকে, সেটাও শেষ হয়ে যাবে। কারণ তখন ধর্ষক ভাববে, মেয়েটিকে বাঁচিয়ে রাখলে তাকে তো ফাঁসিতে ঝুলতেই হবে।’

মিজ. ঘোষ যে আশঙ্কার কথা বলছিলেন, ভারতে অনেক কন্যাশিশুর সঙ্গে বাস্তবিকই সেটাই ঘটছে - ধর্ষণের পরে তাকে হত্যা করা হচ্ছে - যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে।

সূত্র : বিবিসি

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫