ঢাকা, শনিবার,২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

অপরাধ

সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে গাফিলতি না ধামাচাপার চেষ্টা

বিবিসি বাংলা

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১০:০৫ | আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১০:২২


প্রিন্ট
সন্তানসহ সাগর-রুনি

সন্তানসহ সাগর-রুনি

২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি । বাংলাদেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি দম্পতিকে ঢাকায় তাদের বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনা তখন সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। হুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ছ'বছরেও গোয়েন্দারা তাদের তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি।

এই হত্যাকাণ্ডে প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে এবং পরে পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, গত ছয়বছরে তদন্তে কোন অগ্রগতি নেই এবং তদন্তের বিষয়ে এবছর তাদের কিছুই জানানো হয়নি।

"তদন্তকারী সংস্থা যতগুলো বাংলাদেশে আছে, অনেক ব্যাপারেই তাদের সাফল্য দৃশ্যমান। কিন্তু এই একটি জায়গায় ছয়বছরে কোনকিছু দেখিনা। ছয়বছরের ন্যূনতম অগ্রগতি আসলে নেই। আমাদের কাছে মনে হয়, এটা তারা তাদের গাফিলতি থাকতে পারে কিংবা ইচ্ছাকৃত-ভাবে তারা রহস্য বের করতে চান না এবং ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চান"।

র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব নেয়ার পর সাগর ও রুনির মরদেহ কবর থেকে তুলে এনে পুনরায় ময়না তদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষা করে ।বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হলেও তদন্ত আর এগোয়নি।

আদালত থেকে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও র‍্যাব ৫৪ বার আবেদন করে এজন্য সময় চেয়েছে।

নিহত সাংবাদিক রুনির ভাই বলেন, সাধারণভাবে মনে হয়, "এখানে দুটো বিষয় থাকতে পারে। যারা তদন্তকারী সংস্থা তারা অত্যন্ত অদক্ষ। আরেকটি কারণ হতে পারে সরকার চায়না অথবা এটার সাথে হয়তো বড় কেউ জড়িত যার জন্য যারা তদন্ত করছে তারা কোনও প্রকার অগ্রগতি করেননি"।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ রোববার সাংবাদিকরা বিচারের দাবীতে ঢাকায় বিক্ষোভ করবেন বলে কথা রয়েছে। সাগর-রুনী হত্যার ঘটনার পরপরই বিচার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন সাংবাদিক মহল। অল্প কিছুদিন পরই সেই আন্দোলন থেমে যায়। সে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।

আলম জানান, তদন্তকারীরা গতবছর জানিয়েছিল যে তারা এই মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখন তাদের মনে নানা প্রশ্ন।

ন্যায়বিচার কতটা আশা করছেন-এমন প্রশ্নে বিবিসি নওশের আলম বলেন "আমরা তো যতদিন বেঁচে আছি বিচার চাইবো। কিন্তু আমরা ন্যায়বিচার পাবো বলে এখন আসলে আর মনে হয়না"।

 

কিভাবে বেড়ে উঠছে নিহত দম্পতির সন্তান মেঘ?

এই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী নিহত দম্পতির ৫ বছরের শিশু সন্তান মেঘ-এর বয়স এখন ১১ বছর।

মামা নওশের রোমান বলেন, আর দশটি বাচ্চার মতই মেঘ স্কুলে যাচ্ছে, ক্রিকেট কোচিং করছে। আত্মীয়-বন্ধুদের মাঝে বেড়ে উঠছে। কিন্তু বাবা-মার আদর ছাড়া যেভাবে বেড়ে ওঠে একটি বাচ্চা সেভাবেই সে বেড়ে উঠছে।

বাবা-মার কথা সবসময় মনে করে সে। তবে মেঘ চায়না তার পরিবার টিভি বা মিডিয়ার সামনে কথা বলুক।

আলম বলেন, "কদিন আগে সে বলছিল আমরা যেন মিডিয়ার সাথে কথা না বলি এবার মৃত্যুবার্ষিকীতে। তার প্রশ্ন-কথা বললে কি তার বাবা-মা কখনো ফিরে আসবে?যে কথা বললে তারা ফিরে আসবেনা সে কথা বলে কি লাভ?"

মেঘ যত বড় হচ্ছে তার ছোট মনে এই ধরনের হালকা ক্ষোভ ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে বলে জানান নওশের রোমান।

 

আজ সমাবেশ

সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি হত্যার প্রতিবাদে আজ রোববার সমাবেশ করবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সকাল ১১টায় ডিআরইউ চত্বরে সমাবেশ হবে বলে শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিচার প্রক্রিয়াও থমকে আছে।
এখনও এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ডিআরইউসহ গোটা সাংবাদিক সমাজ সোচ্চার রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিটিতে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাগর-রুনি দম্পতিকে তাদের রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় হত্যা করা হয়। পরের দিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক(এসআই)। চারদিন পর মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু গত ছয় বছরেও মামলার তদন্তে অগ্রগতির কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫