সীমান্তে পরমাণু অস্ত্র বহনকারী ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন
সীমান্তে পরমাণু অস্ত্র বহনকারী ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

সীমান্তে পরমাণু অস্ত্র বহনকারী ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাশিয়ার সর্বপশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। পূর্ব ইউরোপে রুশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাঁচ শ' কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত অথবা পরমাণু ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।

রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির প্রধান ভ্লাদিমির শামানোভের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের খবর জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র কতদিনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে তা তিনি জানাননি।

শামানোভ বলেন, ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিদেশি সামরিক ঘাঁটিগুলি বাছাই করা হয়েছে। রাশিয়া এর আগেও একাধিকবার তার পশ্চিম সীমান্তে মার্কিন সেনা সমাবেশের জবাব দিতে কালিনিনগ্রাদে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত অথবা পরমাণু ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।

রাশিয়া গত বছর প্রথম কালিনিনগ্রাদে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে। পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলোকে রাশিয়া তার ঘরের কাছে থাকা বড় হুমকি বলে মনে করতো। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো স্থাপনের কারণ হচ্ছে ইরান। তবে এমন দাবি মানতে নারাজ রাশিয়া। এসব ঘাঁটিকে নিজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে মস্কো।

রাশিয়ার আশঙ্কা, পোল্যান্ড ও লিথুনিয়ায় গোপনে সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই এবার কালিনিনগ্রাদে আরও ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে মস্কো। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটির প্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ভ্লাদিমির শামানোভ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও সামরিক পদক্ষেপ শক্তভাবে মোকাবেলা করা হবে।

রাশিয়া মনে করে তার চৌহদ্দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সমরাস্ত্র বাড়াবার প্রচেষ্টা ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সমঝোতার খেলাপ। তবে ন্যাটোর একজন মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেছেন, ন্যাটোর তরফ থেকে সমঝোতার কোনও শর্ত ভঙ্গ হয়নি। যদিও ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম। এটি সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে।

ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত কালিনিনগ্রাদ ন্যাটোভুক্ত অঞ্চলের এতোটাই কাছে যে, ইউরোপের দেশগুলোর অর্ধেকেরই রাজধানী এর আওতায় রয়েছে। কালিনিনগ্রাদ ওব্লাস্টটি একটি ছিটমহল যা অন্য দেশের মাধ্যমে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। এর এক পাশে বাল্টিক সাগর এবং অন্য তিন পাশে লিথুনিয়া, বেলারুশ ও পোল্যান্ড অবস্থিত।

সূত্র : কলকাতা২৪x৭ ও ডয়চে ভেলে

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.