আলাদা লেন : ‘সাধারণ’ বনাম ‘অসাধারণ’
আলাদা লেন : ‘সাধারণ’ বনাম ‘অসাধারণ’

আলাদা লেন : ‘সাধারণ’ বনাম ‘অসাধারণ’

মীযানুল করীম

এখন রাজধানীসহ বড় বড় শহরের ব্যস্ত সড়কে দেখা যায়, অনেক তরুণ সাইকেল চালিয়ে কলেজ বা ভার্সিটিতে যাচ্ছে। তাদের অনেকেই আসে বেশ দূর থেকে। যন্ত্রযানে পরিপূর্ণ, যানজটে ঠাসা ও জনাকীর্ণ রাস্তায় এই দ্বিচক্রযান চালিয়ে যাওয়া যে কী কঠিন-কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ, তা সাইকেলচালকের পাশাপাশি তাদের যারা দেখে থাকেন, তারাও উপলব্ধি করেন। এ অবস্থায় অন্তত মহানগর ক’টিতে কিছু ব্যস্ত সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা লেন স্থাপনের দাবি উঠেছে। কিন্তু এর কোনো সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। অথচ হঠাৎ করে জানা গেল, সড়কে আলাদা ভিআইপি লেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে সাথে সাথে।

ভিআইপি মানে, ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পার্সন (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি)। তাদের গুরুত্ব দেয়ার কারণটা সবার বেলায় যথার্থ হোক বা না হোক, তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন। যোগ্যতা ও সততা মিলিয়ে গুণাবলি যতটাই থাকুক, তারা ক্ষমতাবান। তাই মর্যাদাও বেশি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভিভিআইপি, মানে খুব বেশি গুরুত্বের অধিকারী। সংক্ষেপে বলা যায়, তারা ভেরি ভিআইপি। এটা সবাই জানেন, ভিআইপিদের পদ-পদবি-প্রটোকল থাকে। সরকার তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকে। এখন শোনা যাচ্ছে, তাদের সুযোগ-সুবিধার তালিকায় যোগ হবে সড়কে আলাদা লেনে যাতায়াতের ব্যবস্থা। সাধারণের চলাচলের রাস্তা থেকে তাদের পথটা পৃথক থাকবে। এ দিক দিয়ে তাদের বলা যায় ‘অসাধারণ।’ কিন্তু এ নিয়ে বিভিন্ন মহল ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছে।

শরীরের জন্য যেসব ব্যায়াম বা কাজ সবচেয়ে উপকারী, সেগুলোর মধ্যে আছে হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো, সাঁতার প্রভৃতি। এজন্য এসব নিয়মিত করা স্বাস্থ্য ভালো রাখা বা নীরোগ থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নগরীতে জগিং দূরের কথা, ভোরে হাঁটার সুযোগও দিন দিন কমছে। সাঁতারের পুকুর তো ছোট শহরেও ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। মহানগরীতে পুকুর আর ডুমুরের ফুল প্রায় সমার্থক। ব্যয়বহুল ও হাতেগোনা কয়েকটা সুইমিংপুলে দু’এক ঘণ্টা সাঁতরানোর খরচও ধনী পরিবার ছাড়া অন্যদের বহন করা অসম্ভব। এ অবস্থায় সাইক্লিংয়ের ওপর ভরসা করতে হয়। কিন্তু এই পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার মতো পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা আমাদের শহরগুলোতে নেই। আজকাল ভোরের দিকে অনেক ছেলে (কিছু মেয়েও আছে) দল বেঁধে সাইকেল চালাতে বের হয়। কিন্তু সড়কগুলোতে ভোর থেকেই বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে সাইকেল চালাতে হয় মারাত্মক বিপদের ঝুঁকি নিয়ে। তদুপরি, ভাঙাচোরা রাস্তার সাথে যোগ হয়েছে ধুলাবালুর তাণ্ডব।

ইউরোপ মহাদেশ শুধু নয়, এশিয়ার চীনসহ বিভিন্ন দেশের মতো এই দেশেও স্বাস্থ্য ও পরিবেশের স্বার্থে সাইকেল চালানোকে নির্বিঘ্ন করে এতে উৎসাহ দেয়া জরুরি। এ জন্য প্রথমে অন্তত রাজধানীর রাস্তায় আলাদা লেন আবশ্যক। কিছু দিন আগে লেখক শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার ইউরোপ সফরের অভিজ্ঞতা থেকে সাইকেলের জন্য পৃথক লেন স্থাপনের ওপর জোর দিয়ে লিখেছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরকার অসংখ্য সাইকেলচালকের জীবন কিংবা দূষণমুক্ত বায়ুর চেয়ে কয়েকজন ভিআইপির সুবিধা নিয়ে বেশি চিন্তিত।

‘ভিআইপি’ কারা? যাদের এই পরিভাষায় বিশেষ মর্যাদা ও সুবিধা দেয়া হচ্ছে, তাদের কতজন এগুলো পাওয়ার যোগ্য কিংবা তারা তাদের পদ-পদবি অনুযায়ী জনগণের প্রতি দায়িত্ব কতখানি পালন করছেন?
এসব প্রশ্ন এখন জনমনে জাগাটাই স্বাভাবিক, যা সুবিধাভোগীদের জন্য স্বস্তিকর হবে না। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কিংবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত এবং বিশেষ কাজে নিয়োজিত যারা, তাদের অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হয় জনস্বার্থেই। কিন্তু সে জন্য জনগণের স্থায়ী অসুবিধা ঘটে, এমন বৈষম্যমূলক ও শ্রেণীভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া ন্যায়নীতির পরিপন্থী। এটা রাস্তায় চলাচলের বেলায়ও প্রযোজ্য। আমাদের দেশে যানজট এবং যাতায়াতের অন্যান্য সমস্যা অবর্ণনীয়। এটা জাতীয় জীবনে প্রতিনিয়ত বিপুল সময়, শক্তি ও অর্থের অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষত রাজধানীতে গত কয়েক বছরে ঘন ঘন ‘ভিআইপি যন্ত্রণা’ সাধারণ নাগরিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজধানীতে এক দিকে যানের তুলনায় সড়ক অপরিসর, অধিকাংশ সময় সড়ক থাকে অনুপযোগী, আধুনিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত, গণপরিবহন নিতান্তই অপর্যাপ্ত ও অসুবিধাজনক। এই প্রেক্ষাপটে আলাদা ভিআইপি লেন জনগণের দুর্গতি ও যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেবে। এতে মূলত রাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংবিধানমাফিক, জনগণই এর মালিক। তাদের বিপাকে ফেলে অল্প কয়েকজনের সুবিধাভোগের নিশ্চয়তা সুফলের চেয়ে সমস্যাই বেশি সৃষ্টি করবে। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে খুবই ভেবেচিন্তে এবং সংশ্লিষ্ট সবার মত নিয়ে।

ভিআইপি লেন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণার আগেই এর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। এতে অনুমান করা যায়, সরকারের এ ধরনের ভাবনাচিন্তা দেশের মানুষের কাছে কতটা যৌক্তিক ও উদ্বেগজনক। পত্রপত্রিকাও এ ব্যাপারে বিরোধিতা ও বক্রোক্তি করছে। একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রাসঙ্গিক সম্পাদকীয়ের শিরোনাম How about a VIP world? এর নিচে উপশিরোনামে বলা হয়েছে- Every person is important. এই লেখায় বলা হয়েছে, ‘সাধারণ নাগরিকেরা অবহেলিত হওয়া, তাদের হাঁটাচলায় কষ্ট পাওয়া এবং বন্ধ রাস্তা ও যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়া খুবই মন্দ ব্যাপার। এখন ভিআইপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের পর্যায়ে নামিয়ে দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে চরম গণবিরোধী মানসিকতাই প্রকট হয়ে উঠছে।’ আরো বলা হয়েছে, ‘আলাদা লেন করার আইডিয়া উদ্ভটই শুধু নয়, এটা গণমানুষের প্রতি উন্নাসিকতা ও হেয় করার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এমন ভাবনা গণপ্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক।’ এতে আরো উল্লেখ করা হয়, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার ব্রিগেডের জন্য র‌্যাপিড ট্রানজিট আর মেট্রোরেল সুবিধা রাখার সুপারিশ রয়েছে স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্লানে। অন্যান্য সেবাপ্রতিষ্ঠানও তা ব্যবহার করতে পারে।’ যানজট নিরসনে মনোযোগী হতে আহবান জানিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর এক মিলিয়নের বেশি কর্মঘণ্টা এবং কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থের সমপরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে শুধু যানজটেই।

দৈনিক সংবাদ-এর সম্পাদকীয় শিরোনাম : “সড়কে ভিআইপিদের জন্য ‘অভিজাত’ লেন/সাধারণ মানুষের কী হবে?” এতে উল্লেখ করা হয়, আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের চাহিদাই যেখানে পূরণ হয় না, সেখানে শুধু ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন কেন? এ ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের যুক্তি দেখানো হয়েছে। তবে আমাদের বক্তব্য হলো, অন্যান্য দেশে অনেক বিকল্প থাকে। কাজেই তাদের হিসাব আলাদা। তীব্র যানজটে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সেবা খাতের যানবাহনগুলোর চলাচল প্রায়ই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই জরুরি কাজে নিয়োজিত যানের জন্য আলাদা লেন করা যায়। কিন্তু আমাদের সড়কগুলো তেমন প্রশস্ত নয় যে, তা করা যাবে।’ এই সম্পাদকীয়তে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, উদ্ভট খেয়াল পরিত্যাগ করে বরং ঢাকার যানজট কিভাবে কমানো যায়, তা নিয়েই ভাবা উচিত। ফুটপাথ ও রাজপথ দখলমুক্ত হলে যানজট অনেকটাই সহনীয় হতে পারে। পত্রিকাটির বক্তব্য- সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য কোনো উদ্যোগ না নিয়ে তথাকথিত ভিআইপিদের জন্য অভিজাত লেন করার সার্থকতা আমরা দেখছি না।’

প্রসঙ্গত বলা দরকার, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সর্বাধিক ভারতবান্ধব সরকার। গত বছর সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ঘোষণা করেছেন, Not a few but every person is important. তাহলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের চলাচল সুবিধাসহ সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা কি সরকারের গুরু দায়িত্ব নয়?
সরকার ভিআইপি- সেইসাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন চলাচলে রাজধানীতে পৃথক লেনের ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করছে। এ জন্য কেবিনেট বিভাগ প্রস্তাব দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফেসবুকে নানা মন্তব্যের সাথে কার্টুনে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হচ্ছে। এদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, ‘আলাদা লেন করা অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক।’ উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি উল্লিখিত প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। একই দাবি নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির। টিআইবির মতে, সড়কের আলাদা লেনের যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, এটা সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহারের শামিল।

আমাদের সংবিধানে বর্ণিত- সুযোগের সমতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং ধর্ম, গোষ্ঠী প্রভৃতি কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের বৈষম্য প্রদর্শন না করার মতো মহান নীতিগুলোর পরিপন্থী এই প্রস্তাব।’
আলোচ্য প্রস্তাব উত্থাপন ও সমর্থন করতে গিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘যুক্তি’ দেখিয়েছে, ‘ভিআইপিরা রাস্তার বাম দিক দিয়ে না গিয়ে ডান দিক দিয়ে যান; উল্টো দিক দিয়ে যান; এতে নানা রকম ঝামেলা হচ্ছে।’ কিন্তু টিআইবির মতে, এসব কথা সম্পূর্ণ অসমর্থনযোগ্য। কারণ, পরিচয় ও অবস্থান নির্বিশেষে সবাই আইন কানুন মেনে চলতে বাধ্য। অন্যায্য ও আইনবহির্ভূত আচরণের দরুন অসাংবিধানিক ও বৈষম্যপূর্ণ নিয়ম চালু করা অবিমৃশ্যকারিতা। এটা ক্ষমতাশালীদের উৎসাহ দেবে অনৈতিক আচরণ করার জন্য। তা ছাড়া, জনদুর্ভোগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দেবে।’

‘নৌ সড়ক রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি’র বিবৃতিতে বলা হয়, যানজট নিরসনে ফলপ্রসূ উদ্যোগ না নিয়ে বিশেষ শ্রেণীর চলাচলের সুবিধার জন্য আলাদা লেন তৈরি হলে সমাজ-রাষ্ট্রে শ্রেণীবৈষম্য এবং মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাবে বহুগুণ। ভিআইপিসহ সবার স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত পদক্ষেপই কাম্য।

ভিআইপি বনাম ইআইপি
আমরা ভিআইপি, ভিভিআইপি, সিআইপি প্রমুখের সাথে পরিচিত। তাদের অনেকেই হয়তো এসব মর্যাদা লাভের সমান যোগ্য নন। আর এসব শ্রেণীকরণের সূত্রে ব্রাহ্মণ-শূদ্র সম্পর্কগোছের বর্ণবিভেদ বা বৈষম্য তো একেবারেই অবাঞ্ছিত। এবার ভিআইপি লেনের তোড়জোড় দেখে কেউ কেউ বলছেন, আসলে গুরুত্ব দিতে হবে সব ‘ইআইপি’কে। প্রশ্ন হলো, ‘ইআইপি’ আবার কী জিনিস? জবাব হলো, এর পুরো অর্থ- Everybody is Important Person. এ কথার সমর্থনে বলা হচ্ছে, সব মানুষ যে সমান, তা বহু আগেই বিভিন্ন ধর্ম বলেছে। আর বাংলাদেশ সংবিধানেও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে সব নাগরিকের আইনি সমতার কথা। আমাদের সংবিধানের উৎস মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সেই যুদ্ধের সূচনাকালেই বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ প্রণীত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র অনুসারে বাংলাদেশের মূল স্তম্ভতুল্য নীতি ও আদর্শ তিনটি- জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।

এখন যদি কোনো বিশেষ শ্রেণী কিংবা কিছু ব্যক্তির বিশেষ সুবিধার্থে জনগণের চলাচলের রাস্তায় আলাদা লেন করা হয়, তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই সুমহান চেতনার সাথে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে?

পাদটীকা : একটি পত্রিকার কার্টুনে দেখা যায়, প্রচণ্ড যানজটে গাড়ির দীর্ঘ সারির ওপর দিয়ে এবং টাকার স্তূপের জোরে ভিআইপি গাড়ি পার হয়ে যাচ্ছে। আর একজন ভিআইপি সে গাড়ি থেকে কালো চশমা পরে মাথা বের করে আছেন।
শহীদ সঙ্গীতজ্ঞ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ লিখেছেন, ‘আসুন, ভিআইপিদের হাতে হাত মিলাই। জনগণের রাজপথের যানজটে আটকে গেলে শুধু তাদের জন্য তৈরি করা আলাদা লেনে তাদের হাতে হাত রেখে ব্যবহার করি। হুম্’

পুনশ্চ : সরকার ভিআইপির সাথে জরুরি কাজের যানবাহন চলাচলের জন্যও আলাদা লেন বানাতে চান। এ দেশে ‘জরুরি’ কথাটার কত ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে, তা সবার জানা। এমনও দেখা যায়, গাড়ির গায়ে লেখা আছে ‘জরুরি ডিশ মেরামতের কাজে নিয়োজিত।’ এমনকি, কখনো কখনো ‘জরুরি’ লেখা দামি গাড়িতে সাজগোজ করা তরুণী ও মহিলাদের দেখা যায়, বাচ্চাকাচ্চাসমেত। হয়তো তারা যাচ্ছেন বেড়াতে বা পিকনিকে। এসব দেখে রসিক পথচারী টিপ্পনী কাটেন, ‘তারা জরুরি ভ্রমণে নিয়োজিত!’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.