ঢাকা, বুধবার,১৯ জুন ২০১৯

নগর মহানগর

ওসির অনুরোধ উপেক্ষা করে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের নামে মামলা

টঙ্গী সংবাদদাতা

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

টঙ্গীতে একটি বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনার এক সপ্তাহ পরও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। ওসির অনুরোধ উপেক্ষা করে এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় নয়া দিগন্তের টঙ্গী সংবাদদাতা শেখ আজিজুল হককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি রাজনৈতিক মামলায় আসামি করা হয়েছে। সাংবাদিককে হয়রানির জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাজনৈতিক মামলায় আসামি করার প্রবিাদ জানিয়েছেন বিএফইজে ও টঙ্গী প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
গত শনিবার রাতে টঙ্গী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফিরোজ খানের বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত ঢুকে। ডাকাতদের প্রত্যেকের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। তারা বাড়ির সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, দুই লাখ টাকা ও একটি ল্যাপটপ লুটে নেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেননি। এমনকি এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার নয়া দিগন্তের টঙ্গী সংবাদদাতা শেখ আজিজুল হকসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের ওই দিন একাধিকবার অনুরোধ জানান। তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের অনেকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন এবং অনেককে সরাসরি বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করেন। ডাকাতির সংবাদ হলে তার (ওসির) ওপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপ আসে এবং তিনি বদলি হয়ে যেতে পারেন এমন কারণ জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রতিবারই এভাবে অনুরোধ জানিয়ে থাকেন।
এ দিকে টঙ্গী বাজারের আলোচিত ডাকাতি ঘটনার সংবাদ পর দিন শুধু নয়া দিগন্তে প্রকাশ হলে ওসি সাংবাদিক আজিজুল হকের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। কয়েকজন সাংবাদিক ওসির এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাংবাদিক আজিজুল হককে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৬৫ নেতাকর্মীর নামে টঙ্গী মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা নং-২০ হয়। ওই মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকারসহ বেশ কয়েকজনকে গত বুধবার আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। মামলার কপি যাতে কেউ পেতে না পারে সেজন্য সর্বোচ্চ গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। এমনকি আইনজীবীদের মামলার কপি দিতে আদালতের জিআরো শাখা থেকেও অপারগতা প্রকাশ করা হয়। অবশেষে আইনজীবীরা মামলার কপি ছাড়াই আদালতে আসামিদের পক্ষে ওকালতনামা দাখিল করেন। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে মামলার কপি হস্তগত হয়। তারা ১৬৫ জন আসামির নামে তালিকার ১১৬ নম্বরে সাংবাদিক আজিজুল হকের নাম দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেন। পরে রাজনৈতিক দলের নেতারা মোবাইল ফোনে সাংবাদিক আজিজুল হককে বিষয়টি অবগত করেন। এ ব্যাপারে থানার ওসির বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, ওসি ফিরোজ তালুকদার উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে গত বছর ২ অক্টোবর টঙ্গীর হোসেন মার্কেটে একটি বাড়ি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালান এবং উল্টো ওই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে দু’টি মিথ্যা মামলা দেন। এ ঘটনায় নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ওই বাড়ির মালিক আলমাছ খান ওসির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেন। যা বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। এ ছাড়াও গাসিক টঙ্গী নগর ভবনের সামনে ওসি নিয়মিত মাসোহারার ভিত্তিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে মহাসড়কে ভাসমান দোকান পরিচালনা এবং থানায় সিসি ক্যামেরা ক্রয়ের নামে ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা নেয়ার খবরও নয়া দিগন্তে প্রকাশ হয়। এ সব ঘটনায়ও নয়া দিগন্তের সংবাদদাতার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ওসি ফিরোজ তালুকদার। প্রসঙ্গত, নয়া দিগন্তের টঙ্গী সংবাদদাতা শেখ আজিজুল হকের বিগত প্রায় ২০ বছরের সাংবাদিকতার জীবনে কখনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কোনো মামলা হয়নি। পেশাদারিত্বের ব্যাপারে আপসহীন সাংবাদিকতা করায় ইতঃপূর্বেও সাংবাদিক আজিজুল হক বিভিন্নভাবে নাজেহাল হয়েছেন। এমনকি চিহ্নিত সন্ত্রাসী দিয়ে একাধিকবার তার জীবন নাশেরও অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সাংবাদিক আজিজুল হক বিএফইউজের কাউন্সিলর সদস্য এবং বর্তমানে টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি।
বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা : সাংবাদিক আজিজুল হককে মিথ্যা মামলায় আসামি করায় বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় আসামি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং আলোচিত মামলা থেকে সাংবাদিক আজিজুল হকের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানাই। এ দিকে টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো: মেরাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম রানা এবং জেইউজির সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো: হেদায়েত উল্লাসহ জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও পেশাদার সাংবাদিকেরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা থেকে সাংবাদিক আজিজুল হকের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫