ঢাকা, রবিবার,১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ইউরোপ

ব্রিটিশ সংসদে যৌন হয়রানির মারাত্মক চিত্র

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ১৩:০১


প্রিন্ট
ব্রিটিশ সংসদে যৌন হয়রানির মারাত্মক চিত্র উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে

ব্রিটিশ সংসদে যৌন হয়রানির মারাত্মক চিত্র উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে

ব্রিটিশ সংসদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে তাদের এক প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে। সংসদের লোকদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটিই এ প্রতিবেদন দিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সংসদে কাজ করেন, এমন প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

সম্প্রতি সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে আন্তঃদলীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সংসদে নিপীড়নের ঘটনা অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন।

ব্রিটিশ সংসদ হাউস অব কমন্সের নেতা আন্দ্রে লিডসম বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু যৌন হয়রানি নয়, সংসদের ৩৯ শতাংশ কর্মী কর্মস্থলে নির্যাতন ও হয়রানির কথা বলেছেন। এসব কর্মীর মধ্যে ৪৫ শতাংশ নারী ও ৩৫ শতাংশ পুরুষ।

গত বছর ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যার মাইকেল ফ্যালন অশোভন যৌন আচরণ করার জন্য পদত্যাগ করেন।

এ ছাড়া পার্লামেন্ট সদস্য স্টেফেন ক্রাব, ক্রিস পিনসার, ড্যানিয়েল কাসজিনস্কিকেও সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন যৌন আচরণের অভিযোগ ওঠে। জাতীয় সংসদ যেখানে মানুষের কল্যাণে আইন প্রণয়ন করা হয় সেখানেই যদি এ অবস্থা বিরাজ করে তাহলে সারা দেশে যৌন হয়রানির অবস্থা যে আরও ভয়াবহ তাতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক : অস্বীকার করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের গুঞ্জন অস্বীকার করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। তিনি এ অভিযোগকে বিরক্তিকর ও অশোভন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মার্কিন ম্যাগাজিন পলিটিকো-কে বলেছেন, ‘এ কথা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা।’

তোলপাড় সৃষ্টি করা ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি: এ ইয়ার ইনসাইড দ্যা ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ’ বইয়ের লেখক সাংবাদিক মাইকেল উলফ গত মাসের টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ট্রাম্প ও হ্যালির যৌন সম্পর্কের বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত। তার এ বক্তব্যের পর ট্রাম্পের সঙ্গে নিকি হ্যালির যৌন সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

নিকি হ্যালি বলেছেন, “ট্রাম্পের সরকারি বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ আমি আমার ব্যক্তিগত প্রচুর সময় ব্যয় করেছি বলে উলফ তার বইয়ে যে কথা বলেছেন তাতে একটি তথ্যগত ভুল রয়েছে।

হ্যালি বলেন, ‘আমি আক্ষরিক অর্থে এয়ার ফোর্স ওয়ানে একবার গিয়েছিলাম কিন্তু তখন ট্রাম্পের রুমে বেশ কয়েকজন লোক ছিল।’

এছাড়া, নিকি হ্যালি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওভাল অফিসে বহুবার কথা বলেছেন -এমন অভিমতও নিকি হ্যালি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভবিষ্যত নিয়ে কখনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলিনি এবং আমি কখনো একা তার রুমে যাইনি।’

২০ বছর আগে নিকি হ্যালি বিয়ে করেছেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। তিনি ছিলেন প্রথম কোনো নারী গভর্নর যিনি সাউথ ক্যারোলাইনাতে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তিনি বর্তমানে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনকে তিনি সফল নারীর পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন।

তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন এবং ট্রাম্প তা অস্বীকার করেছেন। গত মাসে সিএনএন পরিচালত এক জরিপে দেখা গেছে- আমেরিকার শতকরা ৬১ ভাগ মানুষ বিশ্বাস করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব যৌন হয়রানি করেছেন তবে শতকরা ৩২ ভাগ মানুষ বলেছেন, এসব অভিযোগের বেশিরভাগই সত্য নয়।

নিকি হ্যালি এর আগে বলেছিলেন, যেসব নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করছেন তাদের বক্তব্য শোনা উচিত।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫